টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
jugantor
শ্রীপুরে গায়েবি ৮ প্রকল্প
টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

  আব্দুল মালেক, শ্রীপুর (গাজীপুর)  

০৫ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরের শ্রীপুরে ৮টি গায়েবি প্রকল্প দেখিয়ে বরমী ইউপি চেয়ারম্যানের অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য ফাঁস হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন ৮টি রাস্তার কাজ না করেই বিল উত্তোলন করেছেন। এপ্রিল মাসে ওই ৮ প্রকল্পের ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন তিনি। প্রকল্প শুধু কাগজে-কলমেই আছে। বাস্তবে এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, চলতি বছর ১৩ এপ্রিল চেয়ারম্যানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ইউনিয়ন পরিষদ বরাদ্দ থেকে ৮ রাস্তার জন্য ৫০ লাখ টাকার অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের কাগজে দেখা যায়, সাতখামাইর পাকা রাস্তা থেকে দাইবাড়ীরটেক অভিমুখী রাস্তা ইট ও বালি দিয়ে সংস্কারের জন্য ৯ লাখ টাকা, সাতখামাইর বাজার-ডালেশহর রাস্তা ইট ও বালি দিয়ে সংস্কারের জন্য ৬ লাখ, দরগারচালা বাজার-ডালেশহর রাস্তা ইট ও বালি দিয়ে সংস্কারের জন্য ৬ লাখ, সাতখামাইর চৌরাস্তা থেকে ডালেশহর নওয়াব আলী জামে মসজিদ অভিমুখী রাস্তা ইট ও বালি দিয়ে সংস্কারের জন্য ৬ লাখ, ডালেশহর মমিনের বাড়ি থেকে নূরুল ইসলামের দোকান পর্যন্ত রাস্তা মাটি ভরাটসহ ইট ও বালি দিয়ে সংস্কারের জন্য ৬ লাখ, ডালেশহর পাকা রাস্তা থেকে হেলালের বাড়ি অভিমুখী রাস্তা ইট ও বালি দিয়ে সংস্কারের জন্য ৫ লাখ, পোষাইদ ইটের সলিংয়ের মাথা থেকে মোতালেবের ডিবটিউবওয়েল অভিমুখী রাস্তা মাটি ভরাটের জন্য ৬ লাখ, দরগারচালা পাকা রাস্তা থেকে গরু মাথাল অভিমুখী রাস্তায় মাটি ভরাট করার জন্য ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ বরাদ্দের প্রকল্পগুলো শুধু একটি ওয়ার্ডেই দেওয়া হয়েছে।

নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, এ প্রকল্পটি অনুমোদনের ৭ দিন পরেই ২১ এপ্রিল ইউনিয়ন পরিষদের সোনালী ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫০ লাখ টাকা জমা হয়। এর দুদিন পরেই ২৪ এপ্রিল সব বিল উত্তোলন করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাজ শেষ না করে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কাছে কাজ সমাপ্তির প্রত্যয়ন জমা না দিয়ে বিল তোলার সুযোগ নেই। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের সভায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির অনুমোদন নিতে হবে এবং তা রেজুলেশন করতে হবে। এদিকে বরমী ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্য জানান, এ প্রকল্প সম্পর্কে তারা কিছু জানেন না। চেয়ারম্যান একাই তার পছন্দের একজন মেম্বারকে কাজ দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনকে মোবাইল ফোনে বারবার কল করলেও তিনি ধরেননি। মঙ্গলবার সারাদিন ইউপি কার্যালয়েও আসেননি।

উপজেলা প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, চেয়ারম্যান বরাদ্দকৃত প্রকল্পগুলোর কাজ না করে আমাদেরও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন। অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে। এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান জানান, গাজীপুর স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামানকে বিষয়টি তদন্ত করতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শ্রীপুরে গায়েবি ৮ প্রকল্প

টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

 আব্দুল মালেক, শ্রীপুর (গাজীপুর) 
০৫ অক্টোবর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরের শ্রীপুরে ৮টি গায়েবি প্রকল্প দেখিয়ে বরমী ইউপি চেয়ারম্যানের অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য ফাঁস হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন ৮টি রাস্তার কাজ না করেই বিল উত্তোলন করেছেন। এপ্রিল মাসে ওই ৮ প্রকল্পের ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন তিনি। প্রকল্প শুধু কাগজে-কলমেই আছে। বাস্তবে এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, চলতি বছর ১৩ এপ্রিল চেয়ারম্যানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ইউনিয়ন পরিষদ বরাদ্দ থেকে ৮ রাস্তার জন্য ৫০ লাখ টাকার অনুমোদন দেয়। প্রকল্পের কাগজে দেখা যায়, সাতখামাইর পাকা রাস্তা থেকে দাইবাড়ীরটেক অভিমুখী রাস্তা ইট ও বালি দিয়ে সংস্কারের জন্য ৯ লাখ টাকা, সাতখামাইর বাজার-ডালেশহর রাস্তা ইট ও বালি দিয়ে সংস্কারের জন্য ৬ লাখ, দরগারচালা বাজার-ডালেশহর রাস্তা ইট ও বালি দিয়ে সংস্কারের জন্য ৬ লাখ, সাতখামাইর চৌরাস্তা থেকে ডালেশহর নওয়াব আলী জামে মসজিদ অভিমুখী রাস্তা ইট ও বালি দিয়ে সংস্কারের জন্য ৬ লাখ, ডালেশহর মমিনের বাড়ি থেকে নূরুল ইসলামের দোকান পর্যন্ত রাস্তা মাটি ভরাটসহ ইট ও বালি দিয়ে সংস্কারের জন্য ৬ লাখ, ডালেশহর পাকা রাস্তা থেকে হেলালের বাড়ি অভিমুখী রাস্তা ইট ও বালি দিয়ে সংস্কারের জন্য ৫ লাখ, পোষাইদ ইটের সলিংয়ের মাথা থেকে মোতালেবের ডিবটিউবওয়েল অভিমুখী রাস্তা মাটি ভরাটের জন্য ৬ লাখ, দরগারচালা পাকা রাস্তা থেকে গরু মাথাল অভিমুখী রাস্তায় মাটি ভরাট করার জন্য ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ বরাদ্দের প্রকল্পগুলো শুধু একটি ওয়ার্ডেই দেওয়া হয়েছে।

নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, এ প্রকল্পটি অনুমোদনের ৭ দিন পরেই ২১ এপ্রিল ইউনিয়ন পরিষদের সোনালী ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫০ লাখ টাকা জমা হয়। এর দুদিন পরেই ২৪ এপ্রিল সব বিল উত্তোলন করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাজ শেষ না করে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কাছে কাজ সমাপ্তির প্রত্যয়ন জমা না দিয়ে বিল তোলার সুযোগ নেই। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের সভায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির অনুমোদন নিতে হবে এবং তা রেজুলেশন করতে হবে। এদিকে বরমী ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্য জানান, এ প্রকল্প সম্পর্কে তারা কিছু জানেন না। চেয়ারম্যান একাই তার পছন্দের একজন মেম্বারকে কাজ দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনকে মোবাইল ফোনে বারবার কল করলেও তিনি ধরেননি। মঙ্গলবার সারাদিন ইউপি কার্যালয়েও আসেননি।

উপজেলা প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, চেয়ারম্যান বরাদ্দকৃত প্রকল্পগুলোর কাজ না করে আমাদেরও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন। অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে। এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান জানান, গাজীপুর স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামানকে বিষয়টি তদন্ত করতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অনিয়ম হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন