পণ্যে মূল্যছাড়ের ছড়াছড়ি পার্কিং জোন অনিরাপদ
jugantor
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা
পণ্যে মূল্যছাড়ের ছড়াছড়ি পার্কিং জোন অনিরাপদ
খেলনা দোকানে ভিড়

  রূপগঞ্জ প্রতিনিধি  

২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার শেষ ১০ দিনে নিত্যপণ্য আর শিশুদের খেলনাসামগ্রীতে ব্যাপক মূল্যছাড় দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এ কারণে শেষ মুহূর্তে মেলা জমে উঠেছে। এদিকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকা পার্কিং জোন থেকে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের পার্টস চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিআরটিসি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

সরেজমিন দেখা যায়, মেলার ভেতরে এবং পাশের খালি জায়গায় দর্শনার্থীদের যানবাহন পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এগুলো পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মোটরসাইকেলপ্রতি ৩০ টাকা এবং প্রাইভেট কারসহ অন্যসব গাড়িপ্রতি ৬০ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ হেফাজত থেকেই একাধিক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভিন্ন কৌশলে চোরচক্র পার্কিং পয়েন্ট থেকে ২৪ দিনে তিনটি মোটরসাইকেল চুরি করেছে। এর মধ্যে দুটি উদ্ধার হলেও পুলিশ চোর ধরতে পারেনি। এছাড়া প্রতিনিয়ত হেলমেট চুরির ঘটনা ঘটছে। গাজীপুর থেকে আসা দর্শনার্থী রফিকুল আলম জানান, শনিবার মেলার পশ্চিম প্রান্তে পুলিশের পার্কিং জোনে তিনি হেলমেটসহ মোটরবাইক রাখেন। কিন্তু কে বা কারা তার হেলমেট নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের জানালে তারা কোনো দায় নিতে চান না।

বাণিজ্য মেলার অভ্যন্তরে ও বাইরে চোর ও ছিনতাইকারী চক্র দর্শনার্থীদের টার্গেট করছে। মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার নানা অভিযোগ পুলিশে জমা পড়ছে। কিছু কিছু অভিযোগ পুলিশ আমলে নিয়েছে। মেলায় পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ পরিদর্শক হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, ২৪ দিনে ২৫ জনের অধিক চোর ধরে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে পার্কিং থেকে মোটরসাইকেল চুরির বিষয়ে আমার জানা নেই। দু-একজনের হেলমেট চুরির বিষয়ে জেনেছি। ট্রাফিক সদস্য টিআই জুলহাস মিয়া বলেন, পার্কিং জোন থেকে দুুটি মোটরসাইকেল চুরির চেষ্টা করা হয়। সেগুলো আমরা উদ্ধার করেছি। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে চোররা মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে যায়। এরপর প্রকৃত মালিককে সেগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর আশুলিয়া থেকে আসা দর্শনার্থী হাসিবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের হেফাজতে থাকা তার প্রাইভেট কারের দুটি লুকিং গ্লাস ও পেছনের লাইটটি চোরচক্র খুলে নিয়েছে।

মেলায় পণ্যমূল্যের ছাড় ঘোষণায় ক্রেতার সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। শুরুতে যেসব পণ্যের দাম হাঁকা হতো ৫০০, শেষেরদিকে একই পণ্যের দাম ৩০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। এসব পণ্যের মধ্যে শিশুদের খেলনা ও শীতের পোশাকই বেশি। ক্রেতা শাকিল আহমেদ বলেন, সবাই জেনে গেছেন-শেষ মুহূর্তে দামে ছাড় দেওয়া হয়। এ কারণে শেষের দিকে ভিড় বেশি। এ বিষয়ে মেলা আয়োজকদের দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। আশুলিয়া থেকে আসা গৃহিণী নুরুন্নাহার মুক্তি বলেন, মেলায় শেষের দিকে মূল্যছাড় হয় জেনে এসেছি। কিন্তু দেখছি-খেলনা আর কিছু গৃহস্থালি পণ্য ছাড়া সবকিছুর দামই বেশি মনে হয়েছে।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, দিনভর বেচাকেনা হয়েছে। প্যাভিলিয়ন ও সল্টগুলো ছিল কানায় কানায় ক্রেতা-দর্শকে পূর্ণ। শীতের কাপড়ে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। ব্লেজারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

পণ্যে মূল্যছাড়ের ছড়াছড়ি পার্কিং জোন অনিরাপদ

খেলনা দোকানে ভিড়
 রূপগঞ্জ প্রতিনিধি 
২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার শেষ ১০ দিনে নিত্যপণ্য আর শিশুদের খেলনাসামগ্রীতে ব্যাপক মূল্যছাড় দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এ কারণে শেষ মুহূর্তে মেলা জমে উঠেছে। এদিকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকা পার্কিং জোন থেকে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের পার্টস চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিআরটিসি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।

সরেজমিন দেখা যায়, মেলার ভেতরে এবং পাশের খালি জায়গায় দর্শনার্থীদের যানবাহন পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এগুলো পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মোটরসাইকেলপ্রতি ৩০ টাকা এবং প্রাইভেট কারসহ অন্যসব গাড়িপ্রতি ৬০ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ হেফাজত থেকেই একাধিক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভিন্ন কৌশলে চোরচক্র পার্কিং পয়েন্ট থেকে ২৪ দিনে তিনটি মোটরসাইকেল চুরি করেছে। এর মধ্যে দুটি উদ্ধার হলেও পুলিশ চোর ধরতে পারেনি। এছাড়া প্রতিনিয়ত হেলমেট চুরির ঘটনা ঘটছে। গাজীপুর থেকে আসা দর্শনার্থী রফিকুল আলম জানান, শনিবার মেলার পশ্চিম প্রান্তে পুলিশের পার্কিং জোনে তিনি হেলমেটসহ মোটরবাইক রাখেন। কিন্তু কে বা কারা তার হেলমেট নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের জানালে তারা কোনো দায় নিতে চান না।

বাণিজ্য মেলার অভ্যন্তরে ও বাইরে চোর ও ছিনতাইকারী চক্র দর্শনার্থীদের টার্গেট করছে। মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার নানা অভিযোগ পুলিশে জমা পড়ছে। কিছু কিছু অভিযোগ পুলিশ আমলে নিয়েছে। মেলায় পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ পরিদর্শক হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, ২৪ দিনে ২৫ জনের অধিক চোর ধরে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে পার্কিং থেকে মোটরসাইকেল চুরির বিষয়ে আমার জানা নেই। দু-একজনের হেলমেট চুরির বিষয়ে জেনেছি। ট্রাফিক সদস্য টিআই জুলহাস মিয়া বলেন, পার্কিং জোন থেকে দুুটি মোটরসাইকেল চুরির চেষ্টা করা হয়। সেগুলো আমরা উদ্ধার করেছি। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে চোররা মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে যায়। এরপর প্রকৃত মালিককে সেগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর আশুলিয়া থেকে আসা দর্শনার্থী হাসিবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের হেফাজতে থাকা তার প্রাইভেট কারের দুটি লুকিং গ্লাস ও পেছনের লাইটটি চোরচক্র খুলে নিয়েছে।

মেলায় পণ্যমূল্যের ছাড় ঘোষণায় ক্রেতার সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। শুরুতে যেসব পণ্যের দাম হাঁকা হতো ৫০০, শেষেরদিকে একই পণ্যের দাম ৩০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। এসব পণ্যের মধ্যে শিশুদের খেলনা ও শীতের পোশাকই বেশি। ক্রেতা শাকিল আহমেদ বলেন, সবাই জেনে গেছেন-শেষ মুহূর্তে দামে ছাড় দেওয়া হয়। এ কারণে শেষের দিকে ভিড় বেশি। এ বিষয়ে মেলা আয়োজকদের দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। আশুলিয়া থেকে আসা গৃহিণী নুরুন্নাহার মুক্তি বলেন, মেলায় শেষের দিকে মূল্যছাড় হয় জেনে এসেছি। কিন্তু দেখছি-খেলনা আর কিছু গৃহস্থালি পণ্য ছাড়া সবকিছুর দামই বেশি মনে হয়েছে।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, দিনভর বেচাকেনা হয়েছে। প্যাভিলিয়ন ও সল্টগুলো ছিল কানায় কানায় ক্রেতা-দর্শকে পূর্ণ। শীতের কাপড়ে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। ব্লেজারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন