বাঞ্ছারামপুর থানায় আটকে রেখে সালিশ : টাকা নিয়ে মুক্তি

  বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ১৪ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় এক ব্যক্তিকে আটকে রেখে সালিশের নামে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এসআই শাহ আলমের বিরুদ্ধে বাড়ি থেকে ওই ব্যক্তিকে ধরে এনে সাদা কাগজে সই নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী জানায়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মানিকপুর ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের নতুন কুড়ি সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি অধিক মুনাফা দেয়ার কথা বলে আমানত নেয়। কিন্তু সমিতির কর্মকর্তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। এ কারণে সমিতির সভাপতি মো. আমির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, সহসভাপতি রহমত উল্লাহ, হুমায়ুন কবির ও সাহেনাকে আসামি করে বাহেরচর গ্রামের হাসান আলীর স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগম মামলা করেন। শুক্রবার করা মামলার এজাহারে বলা হয়, অধিক মুনাফা দেয়ার কথা বলে আসামিরা জ্যোৎস্নাকে সমিতির সদস্যভুক্ত করে দুই দফায় ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু মুনাফা না দেয়ায় টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা বিভিন্ন সময় তাকে হুমকি দেয় এবং সাদা কাগজে সই নেয়। একপর্যায়ে তাকে মারধরও করা হয়। এ ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে রহমতকে আটক করে থানায় নেয় পুলিশ। জ্যোৎস্নাকে দেড় লাখ টাকা দেয়ার অঙ্গীকার করে রহমত। এরপর ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে পুলিশ রহমতকে ছেড়ে দেয়।

জ্যোৎস্না বেগম বলেন, ‘সমিতির কর্মকর্তারা আমাকে লাভ দেয়ার কথা কইয়া ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিছিল। আগেরবার আমিরের কাছ থাইক্যা ৩ লাখ টাকা আদায় করছি আর শুক্রবারে থানার শাহ আলম দারগার মাধ্যমে আরও দেড় লাখ টাকা দিব রহমত আগামী মাসের ১২ তারিখ।’

রহমত বলেন, ‘আমরার সমিতির ক্যাশিয়ার মোশারফ সবার টাকা নিয়া পালাইয়া গেছে। আমি যেহেতু কাগজে কলমে সমিতির সহসভাপতি তাই আমারে মিথ্যা অভিযোগ দিয়া আসামি দিছে। সারা এলাকায় খবর নিয়া দেখেন আমি কারোর কাছ থাইকা কোনো টাকা মারছি কিনা। আমারে বিনা অপরাধে থানায় মামলা জমা দিয়া ধইরা নিছে শাহ আলম দারগা। থানায় আটকাইয়া সাদা কাগজে সাইন রাখছে আগামী মাসের ১২ তারিখ যেন আমি জ্যোৎস্নারে দেড় লাখ টাকা দিই। পুলিশের ডরভয়ে আমি টাকা দিতে রাজি হইছি। আমারে ছাড়ার জন্য থানার পুলিশরে ১০ হাজার টাকা দেওন লাগছে।’ অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই শাহ আলম বলেন, ‘সমিতির টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়টি নিয়ে রহমতের সঙ্গে থানায় আলোচনা হয়েছে। তাকে বাড়ি থেকে ডেকে এনেছিলাম কিন্তু আটক কিংবা গ্রেফতার করিনি। সাদা কাগজে স্বাক্ষরের বিষয়টি হলো- একজনের জিম্মায় দিয়েছি, তাই বিদায় স্বাক্ষর রেখেছি।’

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.