বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা আসছে মঞ্চের আলোয়

নয় মাসের গবেষণায় প্রস্তুত হয়েছে চিত্রনাট্য

  হক ফারুক আহমেদ ১৮ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ড, হত্যার পরিকল্পনাকারী রাজনৈতিক ও সামরিক বেনিয়াদের অংশগ্রহণ ও কার্যকারণ প্রথমবারের মতো নাটকের মঞ্চে উঠতে যাচ্ছে।

এতে খন্দকার মোশতাক, মেজর জিয়াউর রহমান, কর্নেল ফারুক, কর্নেল রশীদ, মেজর ডালিমসহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনা ও সেটি বাস্তবায়ন কিভাবে হয়েছে- তা তুলে ধরা হবে। আসবে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের নানা দিক।

উঠে আসবে সাফায়াত জামিল এবং তৎকালীন সেনাপ্রধান কেএম শফিউল্লাহর প্রসঙ্গ। মহাপ্রয়াণের শোক আখ্যান ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’ শিরোনামের নাটকটি নয় মাসের গবেষণার একটি ফল। আর দশ মাস ধরে নানা পর্যায়ে মহড়া চলছে।

২৯ ও ৩০ জুলাই এ নাটকের কারিগরি প্রদর্শনী শেষে ৩ ও ৪ আগস্ট উদ্বোধনী প্রদর্শনী হবে। ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’ নাটকটি মঞ্চে আনছে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়। এটি তাদের ৪০তম প্রযোজনা। গবেষণালব্ধ নাটকটি রচনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনন জামান।

নির্দেশনা দিচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আশিক রহমান লিয়ন। রচয়িতা আনন জামান নাটকের বিভিন্ন দিক আলোকপাত করে যুগান্তরকে বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের মানুষ নই।

এ নাটকের গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি, কী সুপরিকল্পিতভাবে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, হত্যাযজ্ঞের ঘণ্টাখানেক আগে ৩২ নম্বরে নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা ছিলেন, বদল করানোর নামে তাদের কাছে থাকা গুলি নিয়ে নেয়া হয়। এসব তথ্যের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস আমার কাছে আছে।

আশিক রহমান লিয়ন বলেন, নির্দেশক ও পরিকল্পক হিসেবে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নারকীয় হত্যাকাণ্ড এবং সেই সময়কালের রাজনীতি ও ষড়যন্ত্রের একটি ইতিহাস পাঠ হল শ্রাবণ ট্র্যাজেডি। তৎকালীন ঘটনার গভীরে ঢুকে নাটকে উপস্থাপিত ইতিহাসের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি। লিখিত পাণ্ডুলিপিতে বঙ্গবন্ধুর অবস্থান ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি হলেও তাকে আমি দেখতে চেয়েছি বাংলার প্রকৃতির মাঝে অথবা তরুণ বয়সে বাইসাইকেল নিয়ে ছুটে চলেছেন বাংলার মাঠে-ঘাটে। বঙ্গবন্ধু ও তৎকালীন বিষয়ভিত্তিক পুস্তক পাঠ ও পর্যালোচনা এবং অনুধাবন ছাড়া রিহার্সেল ফ্লোরে ওই সময়কালের বিভন্ন আর্কাইভ, ছবি, চলচ্চিত্র ইত্যাদি প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে সবার চেতনাকে শানিত করার চেষ্টা করেছি।

নাটকটির সার্বিক সমন্বয়ক ও মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের অধিকর্তা মীর জাহিদ হাসান বলেন, এ নাটকটি আমরা বিশেষ দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে করছি। এখানে হত্যার প্রত্যক্ষ পরিকল্পনাকারী রাজনৈতিক ও সামরিক বেনিয়াদের অংশগ্রহণ ও কার্যকারণ উন্মোচিত হয়েছে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের জানার অধিকার রয়েছে।

হত্যা মামলায় ফাঁকফোকর গলে বেরিয়ে আসা হত্যাকারীদের গোপন সংশ্লিষ্টতা যুক্তিপ্রমাণসহ উপস্থাপন করা হয়েছে। ইতিহাসের ধোঁয়াশায় সুকৌশলে আড়াল করা খুনিদের হত্যা সংশ্লিষ্টতা ও বিচারের দাবি রচিত হয়েছে। খুনিদের ষড়যন্ত্র ও মহান নেতার নামে তৈরি করা রটনা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে অকাট্য যুক্তি ও প্রমাণ সংযোজনের মাধ্যমে।

হত্যাকারীদের বিচার করা যাবে না বলে জারি করা হয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। তার নেপথ্যেও রাজনৈতিক ও সামরিক বেনিয়াদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে এ নাট্য প্রযোজনায়। তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দেয়া অনুদান পর্যাপ্ত নয়। তাই আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছি। এছাড়া শিল্পকলা একাডেমি পাশে থাকবে বলে জানিয়েছে।

গত বছর ‘শ্রাবণ ট্র্যাজডি’ নাটকটির পাঠাভিনয় আয়োজন হয়। সেই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন মঞ্চসারথি আতাউর রহমান। নাটকটির বিষয়ে তিনি যুগান্তরকে বলেন, পুরো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমেরিকাসহ আন্তর্জাতিক যে সম্পৃক্ততা, সেটি সেভাবে উঠে আসেনি। আরও গভীরে একেবারে শেকড় থেকে তুলে আনার প্রয়োজন ছিল।

এ নাটকটি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদানপ্রাপ্ত। নাটকের বিষয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, প্রকৃত ইতিহাস সবার সামনে উঠে আসুক, এটাই আমাদের চাওয়া। ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’ নাটকের শেষদিকের দৃশ্যে সবার সামনে আসবে শিশু শেখ রাসেল চরিত্র।

খন্দকার মোশতাক বঙ্গভবনে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার শেখ রাসেলকে দেখে থমকে যাবে। রাসেল বলবে, চাচা তুমি আমাকে মারলে কেন? শিশুরা তো রাষ্ট্রপতি হয় না। কী ভেবেছো, আমার বাবা মরে গেছে? আমার বাবা মরেনি।

আমার বাবা আছে বাংলার আকাশে, বাতাসে, নদীতে- আছে মানুষের চেতনায়। নাটকটিতে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, শেখ কামাল এবং সুলতানা কামালের চরিত্রও উঠে আসবে।

নাটকটিতে অভিনয় করছেন কবির আহমেদ, ফারুক আহমেদ সেন্টু, মো. শাহনেওয়াজ, মনিরুল আলম কাজল, পলি বিশ্বাস, ইকবাল চৌধুরী, সামিউল জীবন, রাজিব হোসেন, শিবলী সরকার, শাহরিয়ার হোসেন পলিন, ফারাভি হীরা, তারেকেশ্বর তারোক, আহাদুজ্জামান কলিন্স, সুমাইয়া তাইয়ুম নিশা, আরাফাত আশরাফ, স্বপ্নিল, আজহার, পিয়াসী জাহান, কাজী তারিফ, তাজুল রনি প্রমুখ।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter