সেমিনারে বক্তারা

সমুদ্র অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

দেশের আয়তনের মোট উল্লেখযোগ্য অংশই সমুদ্র। আর এ খাতে বিশাল আকারের সম্পদ রয়েছে। এটি অর্থনীতির জন্য নতুন সম্ভাবনা। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কোস্ট ট্রাস্ট আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক কেএম আব্দুস সালাম, অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, জেলেরা অভিযোগ করেন- ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় এসে জোর করে মাছ ধরে নিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।

কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে। কিন্তু বৈষম্য রয়েছে। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বৈষম্য যায় না। তিনি বলেন, সমুদ্র বা নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। তারমতে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। ফলে পরিবেশ ধ্বংস করে এ ধরনের উন্নয়ন দরকার নেই। এ ক্ষেত্রে পরিবেশের সংরক্ষণ করে কী করা যায় সেটি বিবেচনা করতে হবে। ড. খলীকুজ্জামান আরও বলেন, এর আগে সবুজ অর্থনীতি আলোচনা হয়েছে। ২০১২ সালে ব্রাজিলে এ সংক্রান্ত এক সম্মেলনে সব দেশ থেকে সবুজ রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হয়। তারমতে, উন্নত দেশগুলো থেকে গ্রিন হাউস গ্যাস বেশি আসছে। এটি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের ওপর গ্রিন হাউসের কোনো দায় নেই। আর বর্তমানে দেশে নীল অর্থনীতির যে আলোচনা হচ্ছে সেটি পরিবেশবান্ধব। বিষয়টি নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক বলেন, নীল অর্থনীতি বাংলাদেশের জন্য বিশাল সম্ভাবনার। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আগাতে হবে। সমুদ্রের জেলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলেরা ব্যাংক থেকে খুব বেশি ঋণ পায় না। ফলে তারা দাদন ব্যবসার দারস্থ হচ্ছে। এখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

বক্তারা বলেন, মিয়ানমার ও ভারতের কাছ থেকে সমুদ্র বিজয় হয়েছে। কিন্তু সম্পদের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইতিমধ্যে সমুদ্রের ২৮টি ব্লকের মধ্যে ২টি বিদেশি কোম্পানি কনোকো ফ্লিপস গ্যাস অনুসন্ধান করেছে। সেখানে ইতিমধ্যে ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। আর সবগুলো ব্লক অনুসন্ধান হলে আরও গ্যাস ও তেলের সন্ধান পাওয়া যাবে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি।