সরকারি হাসপাতাল

বিনামূল্যে ৫০ হাজার টাকার চিকিৎসাসেবা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা। এ জন্য হাসপাতালগুলোকে ১০-১৫ লাখ টাকা অগ্রিম দেবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

মুক্তিযোদ্ধাদের সব পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সুবিধা দিতে রোববার স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এতে স্বাক্ষর করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহৎ উদ্যোগ। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলেই মুক্তিযোদ্ধাদের উন্নয়নে একের পর এক উদ্যোগ নেয়া হয়। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে অনেক আগেই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চিকিৎসা খরচ ফ্রি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু সীমিত সম্পদের কারণে অনেক সময় জটিল রোগে আক্রান্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যয়বহুল চিকিৎসা ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না। এখন পূর্ণাঙ্গ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন মুক্তিযোদ্ধারা।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জীবন সায়াহ্নে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের উপজেলা, জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে অবস্থিত সব পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে বা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বা বিশেষায়িত হাসপাতালে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহসহ সর্বোত্তমভাবে সব চিকিৎসাসেবা প্রদান নিশ্চিত করা হবে। সব ধরনের চিকিৎসা, পরামর্শ, শল্য চিকিৎসা, হাসপাতাল কর্তৃক সরবরাহযোগ্য ওষুধ, বেড সরবরাহ, পথ্য এবং নার্সিং ইত্যাদি চিকিৎসাসেবা অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে নিয়মিত সরকারি বরাদ্দের অতিরিক্ত চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন হলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহার করা যাবে। এই সেবামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও বিশেষায়িত পর্যায়ে আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করা হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক বরাদ্দকৃত অর্থ ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো হয়েছে। আর বরাদ্দকৃত অর্থের ৭০ শতাংশ শেষ হওয়ার আগেই বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে আবার অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে বলে জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী।

বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় অটোমেশন চালু : বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় অটোমেশন চালু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে রোববার অটোমেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এ কার্যক্রম চালু হলে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠতে পারবে না অবৈধ ও মানহীন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। মিথ্যা তথ্য দিয়ে লাইসেন্স গ্রহণ বন্ধ হবে। নবায়ন না করে দিন পার করতে পারবে না মালিকপক্ষ। বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কোনো ডাক্তার ও নার্স অন্য আরেকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারবে না। এ সময় স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বিএমএ সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক এম ইকবাল আর্সলান ও মহাসচিব অধ্যাপক এমএ আজিজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter