আইনটি মন্ত্রিসভায় উঠছে আজ

প্রযুক্তির উৎকর্ষে ‘প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল’ হচ্ছে

বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের বেতন হবে সর্বোচ্চ গ্রেডে

  উবায়দুল্লাহ বাদল ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন প্রযুক্তি

নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ‘প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল’ গঠন করতে যাচ্ছে সরকার।

দেশের সব প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সমন্বয়, গবেষণায়প্রাপ্ত ফলাফল বাণিজ্যিকীকরণ, আমদানিকৃত প্রযুক্তি গ্রহণ, আত্মীকরণ ও অভিভাজনে কাজ করবে এ কাউন্সিল।

এটি একটি নতুন সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এমন বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল আইন-২০১৮’ চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনটি অনুমোদনের জন্য আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের এজেন্ডাভুক্ত করা হয়েছে।

আইনের খসড়া প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সরকারের সব উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ ও অবিচ্ছেদ্য উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করবে প্রস্তাবিত এ প্রতিষ্ঠান। আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে প্রতিষ্ঠা করাও অন্যতম উদ্দেশ্য আইনটির। স্বাধীন বাংলাদেশে এটিই হচ্ছে প্রথম প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল।

প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে খসড়ায় বলা হয়েছে, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণে সবুজ প্রযুক্তি, ইকো ব্যবস্থা, তথ্যপ্রযুক্তি ও জীবপ্রযুক্তি, ন্যানো প্রযুক্তি এবং মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণায় উৎসাহিত করবে এ কাউন্সিল। দেশে উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তির মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।

খসড়ায় বলা হয়- দেশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপাদান অপর্যাপ্ত। স্কুলগুলোতে প্রচলিত বিজ্ঞান পাঠ্যসূচি, বিজ্ঞান শিক্ষার বৈশিষ্ট্য ও মূল্যায়ন পদ্ধতি বর্তমান সময়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিজ্ঞান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণদান প্রত্যায়ন, চাকরি প্রদানের উপযুক্ত পদ্ধতি দেশে নেই। জনসংখ্যা বাড়ায় বিগত চার দশকে দেশে বিজ্ঞান শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দশগুণ বেড়েছে।

কিন্তু সেই তুলনায় বিজ্ঞান পাঠের জন্য গবেষণা ও ব্যবহারিক সুবিধার মাত্রা এবং উপকরণ আশানুরূপ বৃদ্ধি পায়নি। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুযোগ-সুবিধা আগের চেয়ে কমে গেছে। এতে বিজ্ঞান শিক্ষায় আগ্রহ হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে অথবা ল্যাবে কিংবা শিল্প গবেষণায় একজন বিজ্ঞান শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান হওয়ার কথা থাকলেও তারা বিজ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গতিহীন কর্মে নিযুক্ত হচ্ছে।

দক্ষ গবেষক তৈরি করা প্রসঙ্গে খসড়ায় বলা হয়- প্রাথমিক পর্যায় থেকে বিজ্ঞান ও গণিতের ওপর জোর দেয়া হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে আইসিটি অন্তর্ভুক্ত করে পাঠ্যসূচি সময়োপযোগী করা হবে।

শিক্ষাদান এবং প্রশিক্ষণের জন্য যোগ্য শিক্ষক, সুযোগ-সুবিধা, যন্ত্রপাতি, বই, জার্নাল, পাঠদানের জন্য দরকারি উপকরণ ইত্যাদি সরবরাহ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উচ্চতর গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে। আইনটিতে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত গবেষণার জন্য প্রতিভাবান বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদদের আকর্ষণীয় ও উৎসাহব্যঞ্জক পরিকল্পনার প্রস্তাব দেয়া হবে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তরুণ মেধাবী বিজ্ঞানীদের খুঁজে বের করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের বেতন স্কেলের সর্বোচ্চ গ্রেডে উন্নীত করা হবে।

প্রস্তাবিত কাউন্সিল পরিচালনার জন্য পরিচালনা ও প্রশাসন, গভর্নিং বডি ও উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে। এ কাউন্সিলের অধীনে কোনো অধিদফতর থাকবে না।

একজন চেয়ারম্যান ও ১০ জন সদস্য নিয়ে গভর্নিং বডি গঠিত হবে। আইনের অধীনে একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি এবং ওই মন্ত্রণালয়ের সচিব সহসভাপতি হিসেবে কাজ করবেন। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য থাকবেন ১০ জন।

কাউন্সিলের সচিব উপদেষ্টা পরিষদকে সাচিবিক সহায়তা দেবেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি অথবা প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী, খ্যাতিমান প্রকৌশলী, পেশাজীবী, শিল্প উদ্যোক্তা, অথবা শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হবে। গবেষণার ফলাফল কাউন্সিলের সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে।

প্রচলিত আইন অনুযায়ী এর পেটেন্ট করা হবে। গবেষক দলকে অথবা গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে গবেষণালব্ধ ফলাফলের বাণিজ্যিক আয় থেকে নির্ধারিত হারে সম্মানী দেয়া হবে। কাউন্সিলের একটি তহবিল থাকবে। সরকার এ তহবিলে অর্থ বা অনুদান প্রদান করবে। সরকারের আদেশে কোনো বিদেশি ব্যক্তি, বিদেশি সরকার, সংস্থা, অথবা আন্তর্জাতিক সংস্থার অনুদান গ্রহণ করা যাবে।

গবেষণাস্বত্ব ও সেবা থেকে এ তহবিলে অর্থ দেয়া যাবে। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, কাউন্সিলের বিনিয়োগকৃত অর্থের লাভ, কাউন্সিলের সম্পদ থেকে আয় এবং অন্য কোনো বৈধ উৎস থেকে অর্থ এ তহবিলে জমা দেয়া হবে। সরকারি নিয়মে কাউন্সিলের অডিট হবে অথবা চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস ফার্ম দিয়ে অডিট করা যাবে। এ আইনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য প্রবিধান প্রণয়ন করা হবে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter