বিএনপিকে জাতিসংঘের আমন্ত্রণ

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ফের অবস্থান কর্মসূচির সিদ্ধান্ত * জাতীয় ঐক্যে সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ উপদেষ্টাদের

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির নীতিনির্ধারকদের এক বৈঠকে বিষয়টি জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ব্যাপারে দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য যুগান্তরকে বলেন, ধারণা করছি একাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কথা বলার জন্য এ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মহাসচিব বরাবর এ চিঠি দিয়েছে জাতিসংঘ। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মির্জা ফখরুল অবহিত করেন। সম্প্রতি বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক কার্যালয়ের মাধ্যমে বিএনপির মহাসচিব বরাবর এ চিঠি পাঠিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

বৈঠকে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে আগামী সপ্তাহে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া সন্ধ্যা ৭টায় একই স্থানে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের বৈঠক হয়। বৈঠকে উপদেষ্টারা সরকারবিরোধী সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মত দেন।

নীতিনির্ধারকদের বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টাদের মধ্যে ছিলেন আমানউল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, গাজী মাযহারুল আনোয়ার, জয়নুল আবদিন ফারুক, মনিরুল হক চৌধুরী, ইসমাইল জবিউল্লাহ, অধ্যাপিকা তাজমেরী ইসলাম, গোলাম আকবর খোন্দকার, ফজলুর রহমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, কর্নেল (অব.) এমএ লতিফ প্রমুখ।

আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় নির্বাচন ও আন্দোলনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বলেন, অভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে যুগপৎ আন্দোলন করতে হবে। একই সঙ্গে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করার ওপরও তারা জোর দেন। তারা বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার নেতৃত্ব ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। তাই তার মুক্তির জন্য সর্বাত্মক আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। জেলা, উপজেলাসহ তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে প্রতিটি জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিতে হবে। পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) এ বিষয়ে অবহিত করারও প্রস্তাব দেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা।

বৈঠকে একজন উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকটকালকে অতিক্রম করার জন্য দলের নেতারা সঠিক পথেই এগোচ্ছেন। এ জন্য তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের স্থায়ী কমিটির নেতাদের ধন্যবাদ জানান। নীতিনির্ধারকদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও বাড়ানোর জন্যও তারা তাগাদা দেন। বৈঠকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জাতীয় নির্বাচন ও আন্দোলনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করা হয়।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে ছলচাতুরী চলছে-রিজভী : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হলেও এখন পর্যন্ত তার সুচিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সরকার। তার শারীরিক অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। চিকিৎসা নিয়ে ছলচাতুরী চলছে এবং কালক্ষেপণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অথচ তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন- দ্রুত চিকিৎসা না দেয়া হলে তার বাম পা ও হাত অবশ হয়ে যেতে পারে। কালবিলম্ব না করে খালেদা জিয়াকে বেসরকারি বিশেষায়িত হাসপাতালে সুচিকিৎসার দাবি জানান তিনি।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবীর মুরাদ, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

রিজভী বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর দু’দিন পার হয়ে গেছে। অথচ এখনও খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। তিনি বলেন, সোমবার থেকে এ পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশব্যাপী ৩০০ জনের অধিক বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কেবল ঢাকাতেই প্রায় ২৭৫ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অবিলম্বে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান তিনি।

রিজভী বলেন, দেশব্যাপী মানববন্ধন পালনকালে পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড়, নির্বিচারে গ্রেফতার ও হামলা করার পরও সব বাধা উপেক্ষা করে মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান তিনি। রিজভী বলেন, পুলিশের অনুমোদন নিয়ে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলেও নির্বিচারে গ্রেফতারের ঘটনা ন্যক্কারজনক। মানববন্ধনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা, গুলি ও নির্বিচারে গ্রেফতারের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। তিনি বলেন, সোমবার বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক জন গমেজকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এছাড়া বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুবকর সিদ্দিককে সোমবার থেকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।

রিজভী আরও অভিযোগ করেন, সরকারের নীলনকশার অংশ হিসেবে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ও সক্রিয় নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের বিরুদ্ধেও ঢালাওভাবে মামলা দেয়া হচ্ছে। দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় থানায় গায়েবি মামলা দায়ের অব্যাহত রয়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষকদের তালিকা করা হচ্ছে- কারা বিএনপি করে বা বিএনপি পরিবারের সঙ্গে যুক্ত। আর বেছে বেছে আওয়ামী সমর্থিত লোকদের নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কার্যক্রম চলছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter