পরিকল্পনা কমিশনে পিইসি সভা

ইভিএম নিয়ে ৬ প্রশ্নের মুখে ইসি

আগামী একনেকেই অনুমোদন পাচ্ছে ৩ হাজার ৮২৯ কোটি টাকার প্রকল্প

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আলোচিত ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) নিয়ে ৬ ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এত টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ‘নির্বাচন ব্যবস্থায় অধিকতর স্বচ্ছতা আনায়নের লক্ষ্যে ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহার’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় এসব প্রশ্ন তোলে পরিকল্পনা কমিশন। এত কিছুর পরও আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, এখনই এসব ইভিএম কিনে জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহারের সময় হয়তো পাওয়া যাবে না। তবে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হবে। মঙ্গলবার একনেকের বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অন্যদিকে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য মোহাম্মদ দিলোয়ার বখতের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার বিকালে পিইসির সভা হয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ইভিএম একটি যন্ত্র, এটি ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। আগামী একনেকে অনুমোদন পেলেও এত অল্প সময়ে এগুলো কিনে তা পুরো জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। প্রযুক্তির সঙ্গে খাপখাওয়াতে হবে। এক বছরেই পুরো প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দও দেয়া হবে না। অর্থবছরওয়ারি টাকা বরাদ্দ দেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কাজ অনুমোদন দেয়া, বাস্তবায়ন কিভাবে করবে তা নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। জাতীয় নির্বাচনে কতটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার হবে সেটিও নির্বাচন কমিশনের বিষয়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রকল্পটির জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই। কেননা আমরা এর আগেও অনেক স্থানীয় নির্বাচনে পরীক্ষামূলক ইভিএম ব্যবহার করেছি। সেখান থেকেই অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে।

সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির ব্যয় ৩ হাজার ৮২৯ কোটি ৭ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, নতুন ইভিএম মেশিন রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের একটি কেন্দ্রের ছয়টি কক্ষে সফলভাবে পরীক্ষামূলক ব্যবহার করা হয়েছে। ভোট গণনার সময় লাগে মাত্র এক মিনিট। রংপুর সিটি নির্বাচনে ইভিএমের সুষ্ঠু ও সফল ব্যবহারের পর গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে ইসি এ প্রকল্পের প্রস্তাব করেছে।

কমিশনের পক্ষ থেকে আরও যেসব বিষয় জানতে চাওয়া হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর (এমটিবিএফ) আওতায় প্রকল্পটি অনুকূলে অর্থ সংস্থান করা সম্ভব হবে কিনা? দেড় লাখ ইভিএম সংগ্রহের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে জানতে চাওয়া হয়েছে- একবারে এত ইভিএম না কিনে পর্যায়ক্রমে ক্রয় করা যায় কিনা? প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবিত ব্যক্তি পরামর্শকের প্রয়োজনীয়তা ও কার্যপরিধি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বলা হয় এর কি প্রয়োজন আছে? শুধু তাই নয় ইভিএম সিস্টেম এবং যন্ত্রপাতি ক্রয়ের যে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তাছাড়া ইভিএম সংগ্রহের পর সেগুলো সংরক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ কীভাবে হবে সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অঙ্গওয়ারী ব্যয় সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

পিইসি’র সভা প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, সভায় সব বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। শেষে অল্প কিছু সুপারিশ দেয়া হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে। সভার কার্যবিবরণী জারির পর প্রকল্প প্রস্তাবটি ফেরত দেয়া হবে নির্বাচন কমিশনে। নির্বাচন কমিশন থেকে সুপারিশগুলো প্রতিপালন করে পুনর্গঠিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনরায় পাঠালে তারপরই একনেকে অনুমোদনের সুপারিশ করা হবে।

পিইসি সভার কার্যপত্রে বলা হয়েছে, প্রকল্প অনুমোদনের পর সরকারি অর্থায়নে চলতি বছর থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে ইসি সচিবালয়। প্রকল্পটি চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত নেই। কিন্তু এটি প্রক্রিয়াকরণে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রম হচ্ছে, দেশব্যাপী বিভিন্ন নির্বাচন ইভিএমের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ইভিএম মেশিন ক্রয়, সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হবে। এছাড়া নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সব জনবলের জন্য ইভিএম ব্যবহারসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণের আয়োজন করা এবং ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোট দানের জন্য ভোটারদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter