টিআইবির খানা জরিপ প্রত্যাখ্যান করেছে পুলিশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

টিআইবির খানা জরিপ প্রত্যাখ্যান করেছে পুলিশ

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) খানা জরিপের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার ও পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের দফতর সম্পাদক গণমাধ্যমে এ বক্তব্য পাঠান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুধু শ্রুতিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা একটি প্রতিবেদন কতটা যৌক্তিক বা সঠিক, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে পূর্বধারণাবশত ভিত্তির ওপর পুলিশকে দুর্নীতিগ্রস্ত সংস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গত ৩০ আগস্ট টিআইবির ২০১৭ সালের খানা জরিপ প্রকাশিত হয়। জরিপের তথ্য অনুসারে দেশের সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত খাত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। এই সংস্থার কাছে সেবা নিতে গিয়ে ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ খানা কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার হয়েছে। ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ ঘুষ দিয়েছেন বাধ্য হয়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছ থেকে সেবা নিতে গিয়ে গড়ে প্রতিটি খানাকে ৬ হাজার ৯৭২ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।

জরিপের তথ্য অনুসারে, সেবাগ্রহীতারা সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির শিকার হয়েছেন হাইওয়ে পুলিশের দ্বারা (৯২ দশমিক ১ শতাংশ)। আর সবচেয়ে কম হয়েছেন ট্রাফিক পুলিশের হাতে (৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ)। এ ছাড়া স্পেশাল ব্রাঞ্চের কাছ থেকে সেবা নিতে গিয়ে ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকে ৮২ দশমিক ৩ শতাংশ দুর্নীতির শিকার হয়েছে।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, সেবা খাতে দুর্নীতির জরিপের জন্য মাত্র ১৫ হাজার ৫৮১টি খানার (গবেষণা প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা-১৪) মতামত নেয়া হয়েছে, যা মোট খানার মাত্র দশমিক শূন্য ৪১৭ শতাংশ (গবেষণা প্রতিবেদনের পৃষ্ঠা-২২)। এ রকম কমসংখ্যক খানার ঔপনিবেশিক ধারাবাহিকতার ধারণাপ্রসূত মতামতের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও সেবামূলক সংস্থাকে দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশের উন্নয়নের ধারা সমুন্নত রাখতে অক্লান্ত পরিশ্রম করা এই বাহিনীর সদস্যদের সম্পর্কে এই ধরনের অপরিপক্ব ও পূর্বধারণাপ্রসূত গবেষণার প্রকাশ বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে হতাশ করেছে।

অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, টিআইবির গবেষণায় একই উপাত্তের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন অঙ্কে উপস্থাপন এবং দুবার উপস্থাপন প্রতিবেদনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। একই সারণিতে শতাংশের হিসাবে গরমিল, উপাত্তের মানের গরমিল ও একই উপাত্তের দুবার ব্যবহার কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়, টিআইবি প্রকৃত গবেষণা ছাড়াই বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন মনগড়া উপাত্ত ব্যবহার করেছে।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, জরিপে সেবার খাত হিসেবে ট্রাফিক পুলিশকে দেখানো হয়েছে। কিন্তু খানাগুলো ট্রাফিক পুলিশের কাছ থেকে কী ধরনের সেবা নিয়েছে তা স্পষ্ট করা হয়নি।

সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করে তারা বলছে, টিআইবি প্রকাশিত জরিপের গবেষণা প্রতিবেদন সত্যিকার অর্থে স্পষ্ট, বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর নয়। গবেষণা প্রতিবেদনে শাব্দিক ব্যবহার পর্যালোচনা করলে বিষয়টি সহজেই প্রতীয়মান হয়। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণত সার্বিকভাবে কোনো একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং কোনো ব্যক্তিবিশেষ দুর্নীতির সঙ্গে বিচ্ছিন্নভাবে সম্পৃক্ত থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিবিশেষের দুর্নীতি বা অপকর্মের দায় কোনোভাবেই সমগ্র প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তায় না।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter