‘দৌড়’ এর ওপর আছেন যারা

প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্পোর্টস রিপোর্টার

এই দৌড় সমরেশ মজুমদারের ‘দৌড়’ উপন্যাসের রাকেশ মিত্রের দৌড় নয়। এই দৌড় ম্যারাথনবিদদের। দেশে-দেশে দৌড়ান তারা। দৌড়ানোই তাদের কম্মো। এক শহর থেকে আরেক শহরে। এক দেশ থেকে আরেক দেশে।

তাদের মধ্যে দুই দৌড়বিদ হলেন যোসেফ মোয়াঙ্গি ও মার্গারেট এনসুগনা। দু’জনই এসেছেন আফ্রিকার কেনিয়া থেকে। শুক্রবার ঢাকার হাতিরঝিলে বিগ বাংলা রান মিনি ম্যারাথনে দৌড়েছেন তারা।

এই গ্রহে সাতশ’ কোটি মানুষের বাস। সবাই দৌড়ের ওপর থাকেন। কিন্তু দৌড়ানো সবার পেশা নয়। যারা বিভিন্ন দেশে দৌড়ে অংশ নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন এমন পেশাদার দৌড়বিদের একজন জোসেফ মোয়াঙ্গি। বয়স ৪২। টাক মাথা। পাতলা গড়ন।

তিনদিন আগে ইন্দোনেশিয়ায় একটি ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন। এবার এলেন বাংলাদেশে। তার কথায়, ‘আমি একজন পেশাদার ম্যারাথনবিদ। বিভিন্ন দেশের ম্যারাথনে দৌড়াই বছরভর। এটাই আমার কাজ।’

তিনি যোগ করেন, ‘তিনদিন আগে একটি ওয়েবসাইটে ঢাকার বিগ বাংলা রানের বিষয়ে জেনেছি। আমার কয়েকজন বন্ধুও এখানকার মিনি ম্যারাথনের খবর দিলেন। যারা আগে এখানে দৌড়েছেন। তারা আমাকে জানায়, ঢাকায় ভালো অর্থপুরস্কার দেয়া হয় মিনি ম্যারাথনে। তাই আমি এসেছি।’

ছোটবেলা থেকে দৌড়ের প্রতি ঝোঁক তার। স্কুল জীবনে জড়িয়ে পড়েন ম্যারাথনে। ২০১০ সালে পেশাদার ম্যারাথনে নাম লেখান। এরপর থেকেই এ দেশ-ও দেশ করে বেড়িয়েছেন তিনি। তার কথায়, ‘নাইরোবিতে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ম্যারাথনে প্রথম পেশাদার দৌড় শুরু করি।

এরপর ২০১০ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ম্যারাথন ছিল বিদেশে আমার প্রথম ম্যারাথন। এখন ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, হংকং, ম্যাকাওয়ে দৌড়ে চলেছি। ট্রেনিং, ডায়েট এবং স্প্রিন্ট- এই হল আমাদের মূলমন্ত্র।’

পাশে বসা মার্গারেট। ২০০৭ সালে পেশাদার ম্যারাথন শুরু করেন নাইরোবিতে।

তার কথায়, ‘বিগ বাংলা রান মিনি ম্যারাথনের বিষয়ে ইন্টারনেট ঘেঁটে জেনেছি। দেশের বন্ধুদের কাছেও শুনেছি, এখানে ভালো অর্থ পাওয়া যায়। তাই এসেছি।’ তিনি যোগ করেন, ‘কেন দেশ-বিদেশে ঘুরব না। এটা যে আমার পেশা। বিভিন্ন দেশ ঘুরি। ম্যারাথনে অংশ নিই। উপভোগ করি। অর্থ কামাই। আমরা ভাই-বোন দু’জন ঘুরে বেড়াই। আয় করি।’ আপন নয়, একই কোচের কাছে খেলা শিখেছেন বলেই এখন তারা ভাই-বোন।’

বিগ বাংলা রানের আয়োজক স্পোর্টস ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান শিমু বলেন, ‘এই দু’জন কেনিয়ার খুবই ভালোমানের দৌড়বিদ। তিনদিন আগে ইন্দোনেশিয়া থেকে এসেছেন। ঢাকার মিনি ম্যারাথন শেষ করে চলে যাবেন জাকার্তায় আরেকটি ইভেন্টে।’

তিনি যোগ করেন, ‘ইফাদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ দু’বছর পর ঢাকায় পূর্ণাঙ্গ ম্যারাথনের আয়োজন করলে আরও ব্যাপক সংখ্যক বিদেশি ম্যারাথনবিদের সমাগম ঘটবে।’