ওয়ানডেতে আক্ষেপের মাঝেও সাফল্যে রাঙানো বছর

  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ,

একটি ট্রফির আক্ষেপ ঘোচেনি এ বছরও। খুব কাছে গিয়েও না পাওয়ার হতাশায় পুড়তে হয়েছে আরও একবার। পুরনো এ আক্ষেপের মাঝেও বছরজুড়ে সাফল্যের উজ্জ্বল রঙের ছটাই ছিল বেশি। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ এগিয়ে চলার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে ২০১৮ সালেও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয় দিয়ে শেষ হয়েছে এ বছর বাংলাদেশের ওয়ানডে অভিযান। এ বছর তিনটি দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ, জিতেছে তিনটিই। এ ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই গত জুলাইয়ে হারিয়ে এসেছিল তাদের দেশে গিয়ে। আর এ সিরিজের আগে বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ করেছে জিম্বাবুয়েকে।

সব মিলিয়ে এ বছর ২০টি ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশ জিতেছে ১৩টিতে। ম্যাচ জয়ের সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশের তৃতীয় সফলতম বছর। ২০০৬ সালে ২৮ ওয়ানডেতে জয় ছিল ১৮টি। ২০০৯ সালে ১৯ ওয়ানডেতে ১৪টি। এবারের মতোই ১৩টি জয় এসেছিল ২০১৫ সালে, ম্যাচ যদিও খেলেছিল দল দুটি কম। সাফল্যের হারেও বাংলাদেশের তৃতীয় সফলতম বছর ২০১৮। ২০০৯ সালে সাফল্যের হার ছিল ৭৩.৬৮ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৭২.৩৩ শতাংশ। এ বছর সাফল্যের হার ৬৫ শতাংশ।

সাফল্যের হারে এ বছর বাংলাদেশের ওপরে আছে কেবল তিনটি দল। ২০ ওয়ানডের ১৪টি জিতে ভারতের সাফল্যের হার ৭৫ শতাংশ। ২৪ ওয়ানডের ১৭টি জিতে ইংল্যান্ডের সাফল্য ৭৩.৯১ শতাংশ, ১৩ ওয়ানডের ৮টি জিতে নিউজিল্যান্ডের সাফল্য ৬৬.৬৬ শতাংশ। দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয় অবশ্য প্রত্যাশিতই ছিল। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে সিরিজ জয়টি ছিল দারুণ কিছু। ওয়ানডের আগে টেস্ট সিরিজে স্রেফ উড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। মনোবলও ছিল বিধ্বস্ত। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতেছিল দল। তিনটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজের বাইরে বাংলাদেশ এ বছর খেলেছে দুটি টুর্নামেন্ট। পুরনো আক্ষেপ দীর্ঘায়িত করেছে দুটি টুর্নামেন্টও। দুটিতেই বাংলাদেশ হেরেছে ফাইনালে গিয়ে।

বছরের শুরুতে দেশের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে হারাটা নিশ্চিতভাবেই এ বছর দলের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলংকাকে প্রথম তিন ম্যাচে উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ফাইনালের মাঝপথে চোটের কারণে ছিটকে যান সাকিব আল হাসান। লক্ষ্য খুব বড় না হলেও রান তাড়ায় হেরে বসে বাংলাদেশ।

ফাইনালে হারের তেতো স্বাদ আবার ফিরে আসে এশিয়া কাপ ফাইনালে। ভারতের কাছে বাংলাদেশ হারে শেষ ওভারে। তবে সেই টুর্নামেন্টের বাস্তবতায় ফাইনালে ওঠা কিংবা শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ টিকিয়ে রাখাও কম সাফল্য ছিল না। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই চোটের কারণে বাংলাদেশ হারিয়েছিল সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালকে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেমিফাইনালে রূপ নেয়া ম্যাচের আগে ছিটকে পড়েছিলেন দলের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। চোট নিয়ে গোটা টুর্নামেন্ট খেলেছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মুশফিকুর রহিম। আরও ছিল টুকটাক কিছু চোট সমস্যা ও কন্ডিশনের চ্যালেঞ্জ। সবকিছু জয় করে বাংলাদেশ গিয়েছিল সেরা সাফল্যের খুব কাছে। কিন্তু হাতছানি দিয়ে আবারও মিলিয়ে গেছে ট্রফির স্বপ্ন।

তবে বছরজুড়ে ধরে রাখা ধারাবাহিকতাই বলছে, ওয়ানডের বাংলাদেশ আছে ঠিক পথেই। সামনের পথচলায় আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলার রসদও জমে গেছে বছরের শেষ নাগাদ। বাংলাদেশের পরের ওয়ানডে সিরিজ ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডে, যেখানে আগে কখনোই কোনো সংস্করণে জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। কিন্তু এবার সেই খরা ঘোচাতে দল তৈরি, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শেষে বলেছেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। আগামী বছরের বিশ্বকাপেরও জন্যও সম্ভাব্য স্কোয়াডের ছবি অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে বছর শেষে। সব মিলিয়ে সাফল্যের আবির মেখে শেষ হওয়ার বছর প্রতিশ্র“তি দিচ্ছে সামনের পথচলায় এ সাফল্য রথ আরও তীব্র গতিতে ছোটার।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×