‘মাশরাফির মতো ক্রীড়াবিদদের রাজনীতিতে আসা উচিত’

ক্রীড়াবান্ধব প্রাণবন্ত জাতীয় সংসদ চান সাবেক অধিনায়করা

  জ্যোতির্ময় মণ্ডল ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাশরাফি,

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামীকাল। ভোটযুদ্ধে এই প্রথম অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা। সাবেক চার অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা, রকিবুল হাসান, গাজী আশরাফ হোসেন লিপু এবং মিনহাজুল আবেদীন জানিয়েছেন, তারা কেমন জাতীয় সংসদ আশা করেন। যুগান্তরের মুখোমুখি হয়ে তারা বলেছেন, মাশরাফি মুর্তজার মতো ক্রীড়াবিদদের সংসদে যাওয়া উচিত। ক্রীড়া সংগঠক ও বিসিবির পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববিরও অভিন্ন মত।

প্রশ্ন : কোথায় ভোট দেবেন?

শফিকুল হক হীরা : আমি চট্টগ্রামের ভোটার। আসন-৮। চট্টগ্রামেই আমি ভোট দেব।

রকিবুল হাসান : আমি ঢাকা খিলগাঁওয়ের ভোটার। সেখানেই ভোট দেব।

গাজী আশরাফ হোসেন : আমি ভোট দেব ঢাকা-১০ আসনে।

মিনহাজুল আবেদীন : ঢাকায়। ঢাকা-১৩ আসনে।

আহমেদ সাজ্জাদুল আলম : আমি পিরোজপুর-৩ আসনের ভোটার।

প্রশ্ন : কেমন সংসদ চান?

শফিকুল হক হীরা : শিক্ষিত সংসদ সদস্যদের চাই। তাহলে সংসদ হবে প্রাণবন্ত। বাংলাদেশকে ভালোবাসাটা জরুরি। উন্নতির জন্য যারা মন থেকে কাজ করবেন। তাদের চাই।

রকিবুল হাসান : এককথায় বলতে প্রাণবন্ত সংসদ দেখতে চাই। সংসদ সদস্যদের অবশ্যই দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে। যে দেশকে ভালোবাসে সে অবশ্যই দেশের মানুষকে ভালোবাসবে। একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে ‘ক্রীড়াবান্ধব’ সংসদ চাই। খেলার প্রতি গুরুত্ব বাড়–ক। খেলার মাধ্যমেই দেশকে উন্নতি করা সম্ভব। যুব সমাজকে সুপথে আনা সম্ভব।

গাজী আশরাফ হোসেন : অবশ্যই স্বাধীনতার সপক্ষে। এমন সংসদ চাই যেখানে সাম্যবাদ, স্বাধীনতা থাকবে। গণতন্ত্র থাকবে। দুর্নীতিকে যেখানে প্রশ্রয় দেয়া হবে না।

মিনহাজুল আবেদীন : কঠিন প্রশ্ন। চাই প্রাণবন্ত সংসদ। দেশের জন্য কাজ করবে। দেশকে ভালোবাসবে। স্বাধীনতার সপক্ষে থাকবে। নিজেদের স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে সর্বসাধারণের কথা ভাববে।

আহমেদ সাজ্জাদুল আলম : এবারও একই চাওয়া। মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে। শ্রমজীবী মানুষর কথা চিন্তা করতে হবে। পেশাজীবী মানুষ সংসদে থাকলেও ক্ষমতা রাজনীতিবিদদের হাতেই থাকতে হবে।

প্রশ্ন : মাশরাফির মতো ক্রীড়াবিদদের কি আরও বেশি করে রাজনীতিতে আসা উচিত?

শফিকুল হক হীরা : মাশরাফির মতো আরও ক্রীড়াবিদের জাতীয় নির্বাচনে আসা উচিত। মাশরাফি ভালো মানুষ। তার প্রথম অস্ত্রোপচারের সময় আমি তার সঙ্গে ছিলাম। তার প্রথম বিদেশ সফরের সময়ও ছিলাম। কাছ থেকে দেখেছি তাকে। দেখেছি পরিবারের প্রতি সে কতটা যত্নশীল, কতটা মানবিক। এ দুটি জিনিস থেকেই বোঝা যায়, দায়িত্ব পেলে সে ভালো করবে। ক্যারিয়ার শেষে যোগ্যতা সাপেক্ষে এটাই হয়তো সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে তার।

রকিবুল হাসান : জাতীয় সংসদে থেকেই শুধু দেশের উন্নয়নে ভালো ভূমিকা রাখা যায়। আর উন্নয়নের জন্য ভালো লোকের অবশ্যই আসা উচিত। মাশরাফির ক্যারিয়ার শেষের দিকে। এরপর দেশের উন্নতির কাজে পুরোপুরি মন দিতে পারবে সে। তার জায়গা থেকে অবশ্যই ঠিক আছে। ক্রীড়াবিদদের ভেতরটা অনেক পরিষ্কার হয়। মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান দেয়ার লক্ষ্য থাকে।

গাজী আশরাফ হোসেন : অবশ্যই মাশরাফির মতো ক্রীড়াবিদদের জাতীয় সংসদে আসা উচিত। আমাদের দেশে ভালো ‘ভয়েস স্কিল’ ক্রীড়াবিদের খুবই অভাব। রাজনীতির মাঠে যেটা ভীষণ দরকারী। মাশরাফিকে কাজ করতে হবে স্থানীয় পর্যায়ে। ঢাকা শহরের চেয়ে যা তুলনামূলক সহজ হবে ওর জন্যে। সে প্রচুর বিদেশ সফর করার সুবাদে জ্ঞান অর্জন করেছে। সংসদ সদস্য হওয়ার পর মাশরাফির মাথা থেকেও হয়তো ভিন্ন চিন্তা আসবে।

মিনহাজুল আবেদীন : সবার এই ক্ষমতা থাকে না। যার জনপ্রিয়তা আছে সে যদি সেটা কাজে লাগাতে পারে, তাহলে তো ভালো কথা। কিন্তু জনপ্রিয়তা কাজে লাগানোর মানেই শুধু সংসদ সদস্য হওয়া নয়। মানুষের কল্যাণে, দেশের উন্নয়নে কাজ করা উচিত। এটা নিজে থেকে উপলব্ধি করতে হবে। আবার সাধারণ জনগণের মাঝেও গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে।

আহমেদ সাজ্জাদুল আলম : মাশরাফি এত জনপ্রিয় যে, জাতীয় নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো দ্বিমত থাকা উচিত নয়। সে হয়তো সঠিকভাবেই তার মেধা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবে।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: jugant[email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×