সুপার ওভারে সুপার ফ্রাইলিঙ্ক

  স্পোর্টস রিপোর্টার ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্রাইলিংক,

শেষ ওভারে ১৯ রানের লক্ষ্যে নাঈম হাসানের একটি ও রবি ফ্রাইলিঙ্কের দুই ছক্কায় চিটাগং ভাইকিংস তুলে ফেলে ১৮ রান। শেষ বলে জয়ের জন্য চিটাগংয়ের এক রানের প্রয়োজন হলেও আরিফুল হকের করা বলটা ব্যাটে লাগাতে পারেননি ফ্রাইলিঙ্ক। উল্টো রানআউট হয়ে ফেরেন। তবুও প্রায় হারা ম্যাচটা বাঁচিয়ে দিয়েছেন তিনি।

এরপর বিপিএলে প্রথমবারের মতো সুপার ওভারের উত্তেজনা বাড়িয়ে চিটাগংকে রোমাঞ্চকর জয় এনে দিয়েছেন ফ্রাইলিঙ্ক। সুপার ওভারে দারুণ বোলিংয়ে মাত্র ১০ রান দিয়েছেন তিনি। এক রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয় এনে দিয়ে নায়ক এই দক্ষিণ আফ্রিকান। তিন ম্যাচে দুই জয়ে চিটাগং কিংস উঠে এসেছে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে।

কিন্তু টাই চাননি ফ্রাইলিঙ্কও। তবে দল জেতায় তিনি খুশি। ম্যাচ শেষে এই দক্ষিণ আফ্রিকান বলেন, ‘অবশ্যই দারুণভাবে এগোচ্ছে। আমি নিজেকেই প্রশ্ন করছি কীভাবে করলাম এটা। তবে তিন ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জয় পাওয়ায় খুশি আমরা। আমাদের তিন ম্যাচের মধ্যে সবগুলোতেই জয়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু আমি শুধু দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেই খুশি। কিছুদিন আমার হবে তবে সপ্তাহের সাতটি দিনই আলাদা। এ মুহূর্তে ভালো করছি। আশা করছি ভাগ্যটা পরের ম্যাচেও সঙ্গে থাকবে।’

বাংলাদেশ বিপিএলের মধ্য দিয়েই তরুণ ক্রিকেটার খোঁজ করছে। কিন্তু এই ফ্রাইলিঙ্কের বয়স ৩৪। বুড়ো হাড়েও চিটাগংয়ের হয়ে চমক দেখিয়েই চলেছেন তিনি। প্রথম দেখায় তার ফিটনেস নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন। কিন্তু পারফরম্যান্সে মুগ্ধ করেছেন সবাইকে। সুপার ওভারে মাত্র ১২ রানের লক্ষ্য নিয়ে বোলিং করে দলকে জেতানো কঠিন ছিল বলেই মনে করছেন ফ্রাইলিঙ্ক।

তিনি বলেন, ‘এটা খুবই কঠিন ছিল। এটা আমার প্রথম সুপার ওভার ছিল। ১১ রানের ওপর নির্ভর করা কঠিন। কিন্তু আমি নিজের মধ্যে বিশ্বাস করার মতো আত্মবিশ্বাস আনার চেষ্টা করেছি। মালান যখন চার মেরেছিলেন তখন কিছুটা দুর্বল হয়ে যাই। আমি স্থির থাকার চেষ্টা করেছি এবং স্বাভাবিকভাবে বল করেই সফল হয়েছি।’

সাত নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামার কারণে এ ধরনের অভিজ্ঞতা তার আগেও হয়েছে। নিজের আগের অভিজ্ঞতাগুলোই মিরপুরে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছেন ফ্রাইলিঙ্ক। তিনি বলেন, ‘ব্যাটিংয়ে সাত নম্বরে এবং বোলিংয়ে শেষ দিকে এমন পরিস্থিতি আমার ক্যারিয়ারে অনেকবারই হয়েছে। আমি শেষ ওভারে ১৫ রান নিয়েছি আবার ১০ রান হাতে রেখেও শেষ ওভারে বোলিংয়ে লড়াই করেছি। তবে এজন্য আমাকে অনেক অনুশীলন করতে হয়েছে। অনুশীলন স্কিলকে আরও সুন্দর করতে পারে। তাই এরকম কঠিন পরিস্থিতিতে আমার অতীত অভিজ্ঞতায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করি।’

তিনি বলেন, ‘এমন জয়টা সত্যিই অসাধারণ। কঠিন মুহূর্তে আমরা যেভাবে খেলেছি সেটা ছিল দারুণ। গ্যালারির অর্ধেকই এই পারফরম্যান্সে খুশি হবে। স্বভাবতই বাকি দর্শকরা এতে খুশি হতে পারবে না। কিন্তু এ মুহূর্তটা আমার অনেকদিনই মনে থাকবে। ম্যান অব দ্য ম্যাচ বা অর্থ নয়, শুধু এ মুহূর্তটা আমি মনে করে উপভোগ করতে পারব। দলের সবাই নিশ্চয়ই আরও বেশি উপভোগ করছে।’

সংক্ষিপ্ত স্কোর

খুলনা টাইটানস ১৫১/৬, ২০ ওভারে (স্টার্লিং ১৮, জুনায়েদ সিদ্দিকী ২০, ডেভিড মালান ৪৫, মাহমুদউল্লাহ ৩৩। রবি ফ্রাইলিঙ্ক ১/৩২, সানজামুল ইসলাম ২/৩৭, নাঈম হাসান ১/১৬, খালেদ আহমেদ ১/২৮, আবু জায়েদ ১/২৯)।

চিটাগং ভাইকিংস ১৫১/৮, ২০ ওভারে (ক্যামেরন ডেলপোর্ট ১৭, ইয়াসির আলী ৪১, মুশফিকুর রহিম ৩৪, রবি ফ্রাইলিঙ্ক ২৩। জুনায়েদ খান ১/২৪, কার্লোস ব্রাফেট ২/৩০, শরিফুর ইসলাম ২/৩০, তাইজুল ইসলাম ১/২৩)।

ফল: টাই (সুপার ওভারে চিটাগং জয়ী)।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : রবি ফ্রাইলিঙ্ক (চিটাগং)।

ঘটনাপ্রবাহ : বিপিএল-২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×