এ যেন নতুন রাজশাহী

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আবদুর রশিদ রেনু, সিলেট ব্যুরো

নিজের নামে নয়, মায়ের নামে জার্সি গায়ে খেললেন রাজশাহী কিংসের ক্রিকেটাররা। মা’কে উৎসর্গ করা ম্যাচ জিতেই মাঠ ছাড়ে তারা। এবারের বিপিএলে একমাত্র অপরাজিত ঢাকা ডায়নামাইটসকে ২০ রানে হারায় রাজশাহী। মায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে অভিনব উদ্যোগ নেয় রাজশাহী কিংস। ক্রিকেটাররা সবাই মায়ের নাম লেখা জার্সি পরে মাঠে নামেন। কোচ ও সাপোর্ট স্টাফরাও এ উদ্যোগে যুক্ত হন।

মায়ের নামে জার্সি ছাড়াও চমক ছিল রাজশাহী কিংসের একাদশেও। নিয়মিত একাদশের সৌম্য ও মুমিনুলের স্থান হয়নি একাদশে। তাদের বদলে খেলেছেন শাহরিয়ার নাফীস ও মার্শাল আইয়ুব। ২০১২ সালে দ্বিতীয় আসরে সবশেষ বিপিএল খেলেছিলেন মার্শাল। পরের বছর ডিসেম্বরে চিটাগং কিংসের হয়ে বিজয় দিবস কাপে শেষ টি ২০ ম্যাচ খেলেন তিনি। ছয় বছর পর বিপিএলে ফিরেই ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখালেন। ইংলিশ ব্যাটসম্যান লরি ইভান্সকেও একাদশের বাইরে রাখে রাজশাহী। তার জায়গায় খেলেছেন লংকান লেগ-স্পিনার সেকুগে প্রসন্ন। প্রসন্ন এক ওভার বল করে দেন নয় রান।

শাহরিয়ার নাফীস ও মার্শাল আইয়ুবের ব্যাটেই লড়াই করার মতো পুঁজি পায় রাজশাহী। বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ছয় উইকেটে ১৩৬ রানে থামতে হয় মিরাজদের। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে টস জিতে মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাটিংয়ে নামেন শাহরিয়ার নাফীসকে নিয়ে। দলীয় দুই রানে আন্দ্রে রাসেলের ফুলটসে ভাঙে তাদের উদ্বোধনী জুটি। মিরাজ ফেরেন এক রানে। শাহরিয়ার ও মার্শাল আইয়ুবের ৭৫ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় রাজশাহী।

নাফীস ২৭ বলে ২৫ এবং আইয়ুব ৩১ বলে ৪৫ রান করেন। তিন চার ও দুই ছক্কায় ইনিংস সাজান মার্শাল। ১২তম ওভারে এই দু’জনকে ফেরত পাঠিয়ে ম্যাচের লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করেন সুনীল নারাইন। এরপর আর সুবিধা করতে পারেনি রাজশাহী। জাকির হাসান ভালো কিছুর সম্ভাবনা জাগালেও ফেরেন ১৮ বলে ২০ রান করে। রাজশাহীর ইনিংস তাই বড় হয়নি খুব। সুনীল নারাইন চার ওভারে ১৯ রানে নেন তিন উইকেট। আন্দ্রে রাসেল, সাকিব আল হাসান ও আলিস ইসলাম নেন একটি করে উইকেট।

রাজশাহীর দেয়া ১৩৭ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় ঢাকা ডায়নামাইটস। ম্যাচসেরা আরাফাত সানির স্পিন ঘূর্ণিতে ধরাশায়ী হন রাজশাহীর ব্যাটসম্যানরা। সানি চার ওভারে মাত্র আট রান দিয়ে তুলে নেন তিন উইকেট। তার শিকার রনি তালুকদার ১৪, সাকিব আল হাসান ১৩ ও আন্দ্রে রাসেল ১১।

ছয় বলে ছয় রান করেন জাজাই। তিন বলে এক রান সুনীল নারাইন। মাঝে কিছুটা সময় পোলার্ড ও নাঈম শেখ আশা জাগিয়েছিলেন। নাঈম ১৭ রান করে ফিরে গেলে পোলার্ডও ফিরে যান পরের ওভারে ১৩ রান করে। শেষের দিকে নুরুল হাসান সোহান আশা দেখিয়েছিলেন। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে ২১ রান করা সোহানের আউটেই মূলত শেষ ঢাকার ইনিংস। নয় উইকেট হারিয়ে ঢাকা গুটিয়ে যায় ১১৬ রানে। রাজশাহী জয় পায় ২০ রানে। ষষ্ঠ ম্যাচে এটি রাজশাহীর তৃতীয় জয়। পাঁচ ম্যাচে প্রথম হার ঢাকার।