ফুটবলের হারানো যৌবন ফিরিয়ে আনতে নতুন সংগঠন

ঢাকা মহানগরীর ক্লাবগুলো নিয়ে অ্যাসোসিয়েশন গঠন

  স্পোর্টস রিপোর্টার ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘দেশের ফুটবলের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের খেলা বন্ধ করে রেখেছে বাফুফে। এই খেলা সচল করতে যখন পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সাইফ পাওয়ারটেক এলো, তখন হঠাৎ করেই কমিটি ভেঙে দেয়া হয়। ক্লাবগুলোর আর্তনাদ ও চিৎকার আমি শুনতে পাই। তাই এখানে এলাম। এসে দেখি ক্লাবগুলো একত্র হয়ে কাজ করার কথা ভাবছে’, মঙ্গলবার গুলশানের একটি হোটেলে এ কথা বলেন জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার ও বাফুফে সহ-সভাপতি বাদল রায়। ঢাকা মহানগরীর ক্লাবগুলো নিয়ে একটি অ্যাসোসিয়েশন গঠন করা হয় সভায়। যার সভাপতি সাইফ পাওয়ারটেকের চেয়ারম্যান তরফদার মো. রুহুল আমিন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হন আরামবাগ ক্লাবের সভাপতি আলহাজ একেএম মুমিনুল হক সাঈদ। অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সংগঠক মোজাফফর হোসেন পল্টু, সাবেক তারকা ফুটবলার হাসানুজ্জামান খান বাবলু, আবদুল গাফফার, ইঞ্জিনিয়ার নাসির উদ্দিন চৌধুরী, ইমতিয়াজ সুলতান জনি, বাফুফের সাবেক সভাপতি এসএ সুলতান টিটু, ক্রীড়া সংগঠক শেখ মারুফ হাসান, বাড্ডা জাগরণীর আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম তুহিন, ফজলুর রহমান বাবুল, আজফারুজ্জামান সোহরাবসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

ঘরোয়া ফুটবল যৌবন হারিয়েছে আগেই। গৌরবও বিলীন। মাঠে দর্শক নেই। আগের মতো ফুটবলের কদরও নেই। তাই দেশের মৃতপ্রায় ফুটবলকে জাগিয়ে

তুলতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন ক্লাব কর্মকর্তারা। তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের পথচলা শুরু। যেখানে মিলিত হয়েছে প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের অধিকাংশ ক্লাব। ৬৯টির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৫৫ ক্লাবের কর্মকর্তারা।

ক্রীড়া সংগঠক মোজাফফর হোসেন পল্টু বলেন, ‘একসময় ফুটবলের জন্য আমার প্রেস বিক্রি করতে হয়েছিল। কতই না সুখের ছিল ফুটবলের হারানো সেই দিনগুলো। আশায় বসে থাকতেন সবাই খেলা দেখার জন্য। আজ ফুটবল প্রায় মৃত। কেউ যায় না খেলা দেখতে। ফুটবলের উন্নতি করতে হলে সবাইকে এক হতে হবে। আজকের এ উদ্যোগ আমার কাছে ভালো লেগেছে।’

বাদল রায় বলেন, ‘এই অ্যাসোসিয়েশন কাল থেকে বাফুফের বিরুদ্ধে ফাইট করবে। আশা করি, বাফুফেতে অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনবে। আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাদের আর্তনাদ শুনবেন। এরপর তাকে (সালাউদ্দিন) সরিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবেন। গেল ১২ বছরে ফুটবল ধ্বংস হয়ে গেছে। সালাউদ্দিন নিজেও কাজ করেননি। কাউকে কাজ করতেও দেননি। আমি বিশ্বাস করি, কাল (আজ) যদি তিনি পদত্যাগ করেন, কাল থেকেই ফুটবলের উন্নয়ন শুরু হবে। একজন ফুটবলার কেন ৪০ মিনিটের বেশি খেলতে পারেন না, সেই গবেষণা তিনি করেন না। ফুটবলকে বাঁচাতেই আমি অসুস্থ শরীর নিয়ে এখানে এসেছি।’ সাবেক এই তারকা ফুটবলার যোগ করেন, ‘আমি সালাউদ্দিনের সহকর্মীদের বলব, তাড়াতাড়ি উনার সঙ্গ ছাড়েন আপনারা। নইলে আঁস্তাকুড়ে পচবেন। আমি চাই ক্লাবগুলো বেঁচে থাকুক। ক্লাব বেঁচে থাকলেই ফুটবল উন্নয়ন ঘটবে।’

বাফুফের সাবেক সভাপতি এসএ সুলতান টিটু বলেন, ‘ফুটবল বাংলাদেশেরও সবচেয়ে প্রিয় খেলা। সেই খেলাটা আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি যখন সভাপতি ছিলাম তখনও পিছিয়ে যাচ্ছিল। তখন আমি বলতাম, নৌকাটা একটু ভাসিয়ে তুলি। ছয় বছরে ভাসাতে পেরেছিলাম বলে আমার বিশ্বাস। আর এখন ফুটবল নামক সেই তরী কেবল ডোবেইনি, অতল সাগরে ডুবে গেছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেও ফুটবল খেলেছেন। উনার কন্যা শেখ হাসিনাও খেলাধুলা প্রিয় মানুষ। ক্রীড়াঙ্গনে অনেক অবদান তার। আমাদের দুর্ভাগ্য, উনাকে পাইনি আমি যখন সভাপতি ছিলাম। বাফুফেতে আমাদের সময়ের সরকার খেলাধুলা সম্পর্কে খুব একটা আগ্রহী ছিল না। একথা বলতে লজ্জা নেই। আমার সময়ে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৩৪ নম্বরে তুলে এনেছিলাম। এখন ১৯২। তাই ফুটবলে উন্নতির জন্য পরিকল্পনা প্রয়োজন। ক্লাব সমিতিতে আমি নিজেও ১২

বছর ছিলাম। তখন আমরা যে স্বপ্ন দেখেছি ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন তা পারবে বলে আমার বিশ্বাস।’ ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তরফদার রুহুল আমিন বলেন, ‘৭-৮ বছর ধরে তৃণমূল পর্যায়ে খেলা নেই। আমরা জেলা ও বিভাগীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বেশ ক’টি জেলায় লিগ চালিয়েছি। ২০১৬ সালে বাফুফের সঙ্গে চুক্তি করেছিলাম। কিন্তু ব্যক্তিস্বার্থে সেই চুক্তি ভঙ্গ করেছেন সালাউদ্দিন।’ সাইফ পাওয়ারটেকের কর্ণধার বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি বলতে পারি, ফুটবলের ঊর্ধ্বগতি না হলে চট্টগ্রাম আবাহনী ও সাইফ স্পোর্টিং দল গড়তে বেশি ব্যয় করবে না। টেবিলে খেলা হলে মাঠে দর্শক আসবে না, ফুটবলেরও উন্নতি হবে না। তাই আমরা ক্লাবগুলো একত্র হয়েছি ফুটবলের হারানো যৌবন ফিরিয়ে আনতে।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×