মাহমুদউল্লাহর আক্ষেপ মাহমুদউল্লাহর তৃপ্তি

প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ইশতিয়াক সজীব

টেলএন্ডারদের নিয়ে তার নিঃসঙ্গ লড়াই বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন কোনো দৃশ্য নয়। সঙ্গীর অভাবে তার অনেক সম্ভাবনাময় ইনিংসের অপমৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে কখনই অনুযোগ করেননি মাহমুদউল্লাহ। কাল যখন ৮৩ রানে অপরাজিত থেকে ফিরছিলেন, তখনও খুব বেশি হতাশ দেখাচ্ছিল না তাকে। মাহমুদউল্লাহ মানুষটাই আসলে এমন। ব্যক্তিগত প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব না কষে যিনি সবসময় দলের চাওয়া-পাওয়াকে অগ্রাধিকার দেন। তারপরও নেতৃত্বের অভিষেকে সঙ্গীর অভাবে মাত্র ১৭ রানের জন্য সেঞ্চুরি বঞ্চিত হওয়ার আপেক্ষ একটু হলেও পোড়াবে তাকে। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে নেতৃত্বের অভিষেকে সেঞ্চুরির অনন্য

কীর্তি গড়তে পারলেন না মাহমুদউল্লাহ। যার চোটের কারণে চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি, সেই সাকিব আল হাসানাও পুড়েছিলেন একই আক্ষেপে। অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে সাকিব অপরাজিত ছিলেন ৯৬ রানে। মাহমুদউল্লাহর অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসে সেই খেদ মেটানোর সুযোগ থাকছে। আক্ষেপের আখ্যানের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহর প্রাপ্তিও কম নয়। মুশফিকুর রহিমের ৬৮ ছাড়িয়ে নেতৃত্বের অভিষেক ইনিংসে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এখন তার। এছাড়া কালই সপ্তম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্টে দুই হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়ে গেছেন মাহমুদউল্লাহ। তবে তার আসল তৃপ্তি অন্য জায়গায়। প্রতিকূল সে াতেও শক্ত হাতে হাল ধরে দারুণ এক অপরাজিত ইনিংসে দলকে তিনি নিয়ে গেছেন পাঁচশর কাক্সিক্ষত ঠিকানায়। আগের দিনের ১৭৫ রানের সঙ্গে আর এক রান যোগ করে কাল সাতসকালেই থেমে গিয়েছিল মুমিনুল হকের স্বপ্নদৌড়। এরপর মোসাদ্দেক ও মেহেদী হাসান মিরাজ অহেতুক উইকেট বিলিয়ে আসায় পাঁচশ’ রান তোলার আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ৪১৭ রানে সাত উইকেট হারানোর পর টেলএন্ডারদের নিয়েই আরও ৯৬ রান যোগ করেন অধিনায়ক। অষ্টম উইকেটে সানজামুলের সঙ্গে ৫৮ ও শেষ উইকেটে মোস্তাফিজুরের সঙ্গে ৩৫ রানের জুটি গড়ে প্রথম ইনিংসে দলকে ৫১৩ রানের পুঁজি এনে দেন মাহমুদউল্লাহ। নিজে অপরাজিত থাকেন ১৩৪ বলে ৮৩ রানে। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের একমাত্র সেঞ্চুরির পর এটাই তার সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোর। আর ৫১৩ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর।