খেলাধুলায় বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন নারীরা

  মোজাম্মেল হক চঞ্চল ০৮ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফুটবল,

আজ বিশ্ব নারী দিবস। ‘সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো’- এই প্রতিপাদ্যে এবারের দিবসটি পালিত হবে। বাংলাদেশের অন্যান্য সেক্টরের মতো ক্রীড়াঙ্গনেও নারীদের অবদান অনেক। ফুটবল, ক্রিকেট, হ্যান্ডবল, শুটিং, ভারোত্তোলন, সাঁতারসহ বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে নারীরা বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করছেন। ক্রীড়াঙ্গনে নারীরা অবদান রেখে চলেছেন।

সুলতানা কামাল, সুফিয়া খাতুন, রাজিয়া সুলতানা অনু, শামীমা সাত্তার মিমু, অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাক দাপিয়েছেন। রানী হামিদ এখনও দাবার প্রিয় মুখ। শুটিংয়ে শাহানা পারভীন, সাবরিনা সুলতানা, অ্যাথলেটিক্সে সুলতানা পারভীন লাভলী, ফিরোজা খাতুন, নাজমুন নাহার বিউটি, শিরিন সুলতানা, ভলিবলে নাসিমা চৌধুরী শিরিন, ব্যাডমিন্টনে যুথী, কামরুন নাহার ডানা, সৈয়দা মরিয়ম তারেক, টেবিল টেনিসে মুনিরা মোর্শেদ হেলেন, জোবেরা রহমান লিনু, টুম্পা, সাতারে রেহানা জামান, মাহফুজা আক্তার তানিয়া, লায়লা নূর, মাহফুজা খাতুন শিলা, ডলি আক্তার, সবুরা খাতুন, হ্যান্ডবলে স্বপ্না, ডালিয়া, কাবাডিতে মালেকা, শিলারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

আশি নব্বইয়ের দশকে অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, সাঁতারে নারীদের প্রতিনিধিত্ব ছিল বেশি। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ক্রিকেট, ফুটবলেও নারী এগিয়েছেন। পুরুষ ফুটবল যেখানে ক্রমাগত ব্যর্থ সেখানে নারীরা এনে দিচ্ছেন সাফল্য। সাবিনা, কৃষ্ণারা দেশের বাইরে বিভিন্ন লিগে খেলেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন বলেন, ‘নারীরা ক্রীড়াঙ্গনে অনেক অবদান রাখে। ফুটবলে আমরা রাখছি। অন্যরাও সবাই যার যার অবস্থান থেকে রাখছে। ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীরা পুরুষদের চেয়ে পিছিয়ে নেই।’

সাবেক তারকা সাতারু লায়লা নূর বলেন, ‘ক্রীড়া সংগঠনে নারীদের আরও বেশি করে আসা উচিত। নারীরা বিভিন্ন ফেডারেশনে থাকলে নারী ক্রীড়াবিদের সংখ্যা ও মান আরো ভালো হবে।’

রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পাওয়া সাবেক ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক কামরুন নাহার ডানার কথা, ‘খেলার ডিসিপ্লিনও যেমন বাড়ছে, সফলতাও এনে দিচ্ছে মেয়েরা। কিন্তু ক্রীড়াঙ্গনে এখনও সমান অধিকার নেই। বিশ্ব অলিম্পিকের চার্টার্ড অনুযায়ী ৩০ ভাগ মহিলা থাকা প্রয়োজন। শুধু অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনে অলিম্পিকের সেই চার্টার্ড মানতে দেখা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে এখনও কিছু ফেডারেশন বা অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে, যেখানে নারীই নেই। ক্রীড়া সংগঠকদের বুঝতে হবে আগে নারীদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে আগ্রহ ছিল না। এখন রয়েছে। তারপরও তাদের কাজ করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। ফেডারেশনের নির্বাচনে জেলা থেকে নারী আসে না বলে উনারা রাখেন না। কিন্তু সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হয়েছে। নইলে ডালিয়া পুরুষ হ্যান্ডবল দলের কোচ হিসেবে কাজ করছে। মিরোনা পুরুষ ফুটবল দলের কোচ হয়েছে। তারা যোগ্যতা দিয়েই তা অর্জন করেছে। তাই মেয়েদের জন্য জায়গা তৈরি করে দিতে হবে।’

জাতীয় ভলিবল দলের সাবেক খেলোয়াড় নাসিমা চৌধুরী শিরিন বলেন, ‘আগে প্রায় সব পরিবার থেকেই নারী খেলোয়াড় আসতেন। কিন্তু এখন শহর নয়, গ্রাম থেকে নারী খেলোয়াড় আসেন। আসলে শহরে সেই পরিবেশ নেই। তাই এখন বাবা-মা তাদের মেয়েদের ক্রীড়াঙ্গনে আসতে উৎসাহ দেন না। এক মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ওপর কত চাপ দেয়া যায়। স্কুলগুলোতে মাঠ নেই। মেয়েরা খেলতে পারছে না। আমরা ছোটবেলায় টিফিন টাইমে খেলেছি। আসলে এখন খেলার প্রতি নারীদের আগ্রহ বাড়াতে হবে।’

জাতীয় ক্রিকেট দলের ওপেনার শারমিন আক্তার সুপ্তার কথা, ‘নারী বলে এখন আর হেয় করার কোনো সুযোগ নেই। নারীরা সব ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সামর্থ্য দিয়ে তা প্রমাণ করছে। নারীদের অর্জন ক্রীড়াক্ষেত্রেও অনেক। নারীরা ভবিষ্যতে ক্রীড়াকে আরও বেশি কিছু উপহার দিতে পারবে।’

১৯৯৭ কমনওয়েলথ ও সাফের সোনাজয়ী শুটার সাবরিনা সুলতানা। আগের চেয়ে মেয়েরা সুযোগ-সুবিধা বেশি পাচ্ছেন। দেশের বর্তমান আর্থসামাজিক অবস্থায় নারী ক্রীড়াবিদরা ভালো করছেন বলে মনে করেন তিনি, ‘অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমাদের মেয়েরা এগিয়েছে। লড়াই করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়েও ভালো করছে।’

জাতীয় হ্যান্ডবল অধিনায়ক ডালিয়া আক্তার বলেন, ‘ক্রীড়াঙ্গনেও নারীদের সম্মান করতে হবে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়াতে হবে। তাহলেই ক্রীড়াঙ্গনের নারীরা ভালো থাকতে পারবে। অনেক সময় দেখা যায়, পুরুষ ক্রীড়াবিদদের জন্য লাখ লাখ টাকা পুরস্কার থাকে। নারীদের ক্ষেত্রে কয়েক হাজার টাকা। এই বৈষম্য দূর করতে হবে।’ জাতীয় আরচার সুস্মিতা বণিক বলেন, ‘এখনও মেয়েদের অন্যরকম দৃষ্টিতে দেখা হয়। সবাইকে এটা মনে রাখতে হবে, ছেলেদের তুলনায় এখন মেয়েরা অনেক এগিয়ে। ক্রীড়াবিদ দৃষ্টিতে দেখলে আর সমস্যা থাকবে না।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×