আরামবাগ চ্যাম্পিয়ন

  স্পোর্টস রিপোর্টার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম থেকে মতিঝিলপাড়া। কতটুকু দূরত্ব! যতটাই হোক না কেন? উৎসবের আমেজে ভেসেছেন সবাই। স্টেডিয়ামের গগনবিদারী চিৎকার যেন ইথারে ভেসে গেছে মতিঝিল পর্যন্ত। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে আরামবাগ। প্রথমবারের মতো কোনো ফুটবল টুর্নামেন্টে শিরোপা জিতেছে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। শনিবার স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে চট্টগ্রাম আবাহনীকে ২-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। প্রিমিয়ার লীগের পর মৌসুমের স্বাধীনতা কাপেও হতাশার বৃত্তে আটকে থাকল বন্দরনগরীর দলটি। খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন দলের হাতে পাঁচ লাখ ও রানার্সআপ দলের হাতে তিন লাখ টাকার পুরস্কার তুল দেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী। এছাড়া ক্লাবের খেলোয়াড়দের জন্য ১০ লাখ টাকা বোনাস ঘোষণা করেন আরামবাগ ক্লাবের সভাপতি ও কাউন্সিলর একেএম মুমিনুল হক সাঈদ।

ঘরোয়া ফুটবলে সর্বোচ্চ রানার্সআপ ট্রফিই ছিল আরামবাগের মধ্যমণি। এর আগে ফেডারেশন কাপের তিনটি আসরে রুপালি ট্রফি জিতেছিল তারা। ১৯৯৭ সালে ঢাকা আবাহনীর কাছে ফাইনালে ২-১ গোলে, ২০০১ সালের ফাইনালে মুক্তিযোদ্ধার কাছে ৩-০ গোলে এবং সর্বশেষ ২০১৬ সালে ঢাকা আবাহনীর কাছেই ১-০ গোলে হেরে শিরোপা স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে যায় আরামবাগের। তবে এক বছর বাদে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিল দলটি। তবে বিদেশের মাটিতে আরামবাগের

সাফল্যের ঐতিহ্য আরও পুরনো। ১৯৮১ সালে নেপালের বিখ্যাত টুর্নামেন্ট আনফা কাপের দ্বিতীয় আসরে চীনের স্যানডং ক্লাবের কাছে ৫-১ গোলে হেরে রানার্সআপ ট্রফি নিয়ে দেশে ফেরে তারা। সেটাই ছিল আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের প্রথম ট্রফি জয়।

রথী-মহারথীদের হারিয়ে যোগ্যতর দল হিসেবেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ। কোয়ার্টার ফাইনালে প্রিমিয়ার লীগের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী এবং সেমিফাইনালে রানার্সআপ শেখ জামালকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে আসে দলটি। ফলে দুর্দান্ত আরামবাগকে রুখে দেয়ার কোনো বাধাই আর কাজে আসেনি লীগের তৃতীয় হওয়া চট্টগ্রাম আবাহনীর।

দুরন্ত দলটিকে উৎসাহ দিতে মাঠে হাজির হয়েছিলেন প্রায় হাজার পাঁচেক দর্শক। ম্যাচের আগে দলে দলে দর্শক এসেছেন। মাঠে প্রিয় দলকে উৎসাহ দিয়েছেন। সার্থক হয়েছে তাদের মাঠে আসা। ট্রফি নিয়ে কোচ মারুফুল হক ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে উল্লাস করেছেন তারাও। তবে ম্যাচের শেষ দিকে এসে হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মোহামেডান গ্যালারি। সেখানে অবস্থানরত আরামবাগের প্রায় হাজার তিনেক দর্শক উত্তেজিত হয়ে গ্যালারির শত শত চেয়ার ভেঙে ছুড়ে মারেন। পরে অবশ্য বাদ্যের তালে নেচেছেনও।

ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে আরামবাগ। দুরন্ত গতিতে ছুটে চলা মারুফুলের শিষ্যরা যেন জয়ের প্রতিজ্ঞা করেই মাঠে নেমেছিলেন। যার ফল তারা পেয়ে যায় ম্যাচের ২০ মিনিটেই। ডান প্রান্ত থেকে শাহরিয়ার বাপ্পির ক্রসে বক্সে বল পেয়ে লাফিয়ে উঠে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন ডিফেন্ডার আরিফ (১-০)। ডিফেন্ডার হওয়া সত্ত্বেও মাঝেমধ্যেই উপরে উঠে আসছিলেন আরিফ। তাকে আটকে দেয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছিল প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জন্য। ৩৮ মিনিটে একটা সুযোগ এসেছিল চট্টগ্রাম আবাহনীর। মামুনুল ইসলামের কর্নার দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন আরামবাগের গোলকিপার আজম খান। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে চট্টগ্রাম আবাহনীর জালে আরও একবার বল জড়ায় আরামবাগ। ৪৫ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে আবু সুফিয়ান সুফিলের বাড়িয়ে দেয়া বল বুঝে নিয়ে ফরোয়ার্ড জুয়েল ক্রসে ঠেলে দেন সামনের দিকে। সেই বল পেয়ে ডান-পায়ের জোড়ালো শটে বল জালে জড়ান ডিফেন্ডার রকি (২-০)। পরে শত চেষ্টা করেও চট্টগ্রাম আবাহনী গোল শোধ দিতে না পারায় ২-০ গোলে ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ।

চ্যাম্পিয়ন : আরামবাগ

রানার্সআপ : চট্টগ্রাম আবাহনী

ম্যান অব দ্য ফাইনাল : আরিফ (আরামবাগ)

সর্বোচ্চ গোলদাতা : জুয়েল (আরামবাগ)

টুর্নামেন্ট সেরা : আরিফ (আরামবাগ)

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter