আরামবাগ এখন আনন্দ ভুবন

  ওমর ফারুক রুবেল ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

৬০ বছর ধরে এই স্বপ্ন দেখে এসেছেন আরামবাগবাসী। সেই সবুজ স্বপ্ন শেষতক সত্যি হল। মতিঝিলসংলগ্ন মহল্লায় তাই উৎসবের আনন্দের রেণু উড়ছে। স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের শিরোপা জেতার পর ঘরে ঘরে মিষ্টি বিতরণ করেছেন এলাকাবাসী। ক্লাব টেন্টে মিষ্টিমুখ করানো হয়েছে সবাইকে। পার্টিতে মেতেছেন ফুটবলাররা। শিগগিরই আবু সুফিয়ান সুফিল বাহিনীকে সংবর্ধনা দেয়া হবে বলে জানান ক্লাবের সভাপতি ও কাউন্সিলর আলহাজ একেএম মুমিনুল হক সাঈদ।

শনিবারের সন্ধ্যা আরামবাগবাসীর জন্য আনন্দের সমীরণ নিয়ে আসে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম থেকে ট্রফি নিয়ে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ক্লাব টেন্টে পৌঁছেন ফুটবলাররা। এলাকাবাসী মারুফুল হকের শিষ্যদের মিষ্টিমুখ করান। ১৯৫৮ সালে ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর এ দিনটির অপেক্ষায় ছিলেন তারা। এর আগে আনফা কাপে একবার এবং ঘরোয়া আসরের ফেডারেশন কাপে তিনবার রূপালী (রানার্সআপ) ট্রফি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। এতদিনে সেই খরা ঘুচল। দীর্ঘ ৬০ বছরের অপেক্ষার অবসান হল। সাঈদের কথায়, ‘এলাকাবাসী উচ্ছ্বাসে ভেসেছে। শনিবার রাতে ক্লাবে এসে প্রথমে সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করি আমরা। বোনাসমানি ১০ লাখ টাকা দেয়ার কথা থাকলেও ফুটবলারদের দাবির প্রেক্ষিতে আরও দু’লাখ বাড়াতে হয়েছে। এরপর আমরা বাংলাদেশ যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ভাইয়ের অফিসে যাই। সবাইকে তিনি খাওয়ান। সামনে আরও ভালো খেলার জন্য উৎসাহ দেন। পরে ক্লাবে ডিজে পার্টিতে সবাই অংশ নিই।’

তিনি যোগ করেন, ‘নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান এমপি ফুল ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন। সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছেন। আরামবাগ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল সাংসদ রওশন আরা মান্নান আমাকে ফোন করে এমন সাফল্য এনে দেয়ায় কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে আরামবাগ ক্লাবকে সমৃদ্ধ করেছেন সাবেক এমপি মোস্তফা জামান বেবি। তিনিও আমাকে ফোন করে স্বাগত জানিয়েছেন। এলাকার সবার ঘরে ঘরে এখন আনন্দ। এই ভাষা ও আবেগ কাটিয়ে উঠতে পারছি না। সবাই প্রাণের ক্লাবকে গভীয় ভালোবাসা দিচ্ছেন।’

ছুটিতে যাচ্ছেন ফুটবলাররা। সাঈদ বলেন, ‘সবাই ছুটি চাচ্ছে। তাই ক’দিনের জন্য ক্যাম্প বন্ধ রেখে সবাইকে ছুটি দিতে হচ্ছে। রোববার ছুটিতে যাওয়ার আগে বিকেলে ফুটবলারদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছি। দু’চারদিন পর আমরা সংবর্ধনার আয়োজন করব। সেই উৎসবে শামিল হবেন এলাকাবাসী সবাই।’ কাউন্সিলর সাঈদের কথায়, ‘এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অর্জন হল এই যে, পাতানো ম্যাচ হয়নি একটিও। যা বাংলাদেশের খেলায় নজিরবিহীন। তাই নিজেদের শক্তি দেখাতে পেরেছি আমরা। বিদেশি ফুটবলাররা থাকলে হয়তো আরিফরা ফোকাস পেত না। আমি অনুরোধ করেছি ফেডারেশন কাপেও বিদেশি ফুটবলারদের যেন রাখা না হয়। তাহলে স্থানীয় ফুটবলাররা আরও বেশি ফোকাস পাবে এবং ভালো খেলতে উদ্বুদ্ধ হবে।’

 

 

আরও পড়ুন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.