কেউ খোঁজ রাখে না মোনেম মুন্নার পরিবারের

  মোজাম্মেল হক চঞ্চল ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন মোনেম মুন্না। যার হাত ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশ পেয়েছে প্রথম সাফল্য। ফুটবলের স্বর্ণালী যুগের সফল সেনানী কিংব্যাক মুন্নার ত্রয়োদশ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। মুন্নার পরিবারের খবর কেউ রাখে না। তার মৃত্যুদিনে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও দেয় না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ও আবাহনী। অথচ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এদেশের ফুটবলকে সমৃদ্ধ করার কাজে আÍনিয়োজিত ছিলেন বাংলাদেশের ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল এই তারকা।

১৩ বছরেই পরিবারের বিস্মৃত মোনেম মুন্না। প্রতি বছর তার মৃত্যুবার্ষিকী আসে, কিন্তু কেউ তার পরিবারের খোঁজখবর রাখে না। নারায়ণগঞ্জ বন্দরে মুন্না স্মৃতি সংসদ তাকে স্মরণ করে। তার প্রিয় ক্লাব আবাহনী কিংবা দেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা বাফুফে কোনো খোঁজ রাখে না। মিলাদ মাহফিলের আয়োজন দূরে থাক, মুন্নার মৃত্যুদিনে একটি প্রেস রিলিজও পাঠানোর প্রয়োজন বোধ করে না। ফুটবল ভবনে মুন্নার ছবি রাখা হয়নি। ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারের টুর্নামেন্টে বিজয়ী বাংলাদেশ দলের একটি ছবি ছিল, সেটাও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ভবনজুড়ে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ কর্মকর্তা ও তাদের ছেলেমেয়েদের ছবি। কিন্তু মুন্নার ছবি নেই। শুধু মুন্না কেন? বাংলাদেশের ফুটবলের হাতেগোনা যে ২/৪টি স্মরণীয় জয় রয়েছে, তার কোনো ছবি নেই ফুটবল ভবনে।

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মোনেম মুন্নার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সকালে নারায়ণগঞ্জ সোনালী অতীত ক্লাব ও মুন্না স্মৃতি সংসদের পক্ষ থেকে মুন্নার কবরে ফুল দেয়া হবে। মঙ্গলবার বাদ মাগরিব নারায়ণগঞ্জ সোনালী অতীত ক্লাবে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার বাদ আসর তার বাসভবন ও বন্দরে মুন্না স্মৃতি সংসদে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংসদের সভাপতি ও সাবেক তারকা ফুটবলার আজমল হোসেন বিদ্যুৎ। স্বামীর আÍার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করছেন সুরভী মোনেম। রোববার এই প্রতিবেদককে মুঠোফোনে সুরভী বলেন, ‘মুন্না নেই। প্রতিটি মুহূর্ত কাটে কষ্টে। মনের মধ্যে কষ্ট পুষে রাখতে হচ্ছে। প্রকাশ করতে পারি না। পাছে ছেলেমেয়ে হতাশায় ভেঙে পড়বে- এই ভয়ে।’

মুন্নার মেয়ে ডানিয়া মালয়েশিয়ার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে অনার্স শেষ করে দেশে ফিরে একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করছেন। ডানিয়া বলেন, ‘বাবার কথা খুব মনে পড়ে। বাবাই ছিলেন আমার সব। তখন ছোট ছিলাম। অনেক কিছুই বুঝতাম না। কিন্তু বাবার স্মৃতি আজও জ্বলজ্বল করছে।’ মুন্নার পরিবারকে সহায়তা করছেন আবাহনীর পরিচালক ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সহ-সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি এবং আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশিদ ।

২০০৫ সালে কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন মোনেম মুন্না। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের ফুটবলে মুন্নার উত্থান। সালটা ১৯৮৪। প্রথম দুই মৌসুম মুক্তিযোদ্ধায়। এরপর ব্রাদার্স ইউনিয়নে। ১৯৮৭ সালে তিনি যোগ দেন আবাহনী শিবিরে। সেখানে পার করে দেন নিজের ফুটবল ক্যারিয়ার। তিনি ছিলেন নন্দিত ফুটবলার। ১৯৯১ মৌসুমের দলবদলে আবাহনীতে খেলেছিলেন ওই সময়ের বিচারে অকল্পনীয় ২০ লাখ টাকা পারিশ্রমিকে, যা অনেকদিন পর্যন্ত বাংলাদেশেই শুধু নয়, গোটা উপমহাদেশে ছিল এক অনন্য রেকর্ড, অভাবনীয় এক ঘটনা। জাতীয় দলের অধিনায়ক হয়েছেন একাধিকবার। ১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে প্রথম গায়ে জড়িয়েছিলেন জাতীয় দলের জার্সি। এরপর দু-একটি ব্যতিক্রম বাদ দিলে জাতীয় দলে খেলেছেন ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত। ১৯৯০ বেইজিং এশিয়ান গেমসে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের অধিনায়কের আর্মব্যান্ড হাতে পরেছিলেন। তার নেতৃত্বেই ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ মিয়ানমারে চার জাতি প্রতিযোগিতার শিরোপা জয় করেছিল। ওটাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রথম কোনো শিরোপা।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter