১০ কন্যার সাতকাহন

  স্পোর্টস ডেস্ক ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ধোনি,

শুরু হল ছয় জাতির বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। প্রথম আসরের প্রথম ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ২-০ গোলে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। তার আগে ১০ লাল-সবুজ ফুটবলকন্যার সাতকাহন

মিশরাত জাহান মৌসুমী, (অধিনায়ক)

‘অনেকেই আমাকে বলেছিলেন, ফুটবল খেলাটা মেয়েদের মানায় না। এ খেলাটি শুধু ছেলেদের জন্য।’ মিশরাত জাহান মৌসুমী এ কথা বলে হয়তো স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, কথাটা শুধু ভুলই নয়, মহাভুল। বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে স্বাগতিক বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মিডফিল্ডার মৌসুমী। উপরের কথাগুলো তারই। তবে বাধা যেমন পেয়েছেন, অনুপ্রাণিত করা লোকেরও অভাব হয়নি। যারা এই দলে ছিলেন, তারা তার মা-বাবাকে রাজি করিয়েছেন মেয়েকে ফুটবল খেলতে দিতে। ‘প্রেরণাদাতারা আমার মা-বাবাকে বলেছিলেন, যখন আপনাদের মেয়ে সুনামের সঙ্গে ফুটবল খেলবে, ভালো ফল বয়ে আনবে, তখন নিন্দুকেরা ঠিকই সমর্থন জানাবে’, বলেছেন মৌসুমী।

মারিয়া মান্দা, মিডফিল্ডার

বাংলাদেশের ফুটবলের বিস্ময় বালিকা। বলা হয়, বল ওর কথা শোনে! মারিয়ার ফুটবলার হয়ে ওঠা তার মায়ের অনুপ্রেরণায়। শিক্ষকদের সহযোগিতায়। দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন মারিয়া। শৈশব থেকে দুঃখ-কষ্ট ছিল তার নিত্যসঙ্গী। মারিয়ার মতো যেসব মেয়ে ফুটবলে সমর্পিত হয়েছেন, তাদের কম বাধা টপকাতে হয়নি। এসব প্রত্যয়ী ও প্রতিভাময়ী মেয়ের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য মারিয়া ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে (বাফুফে)।

আঁখি খাতুন, ডিফেন্ডার

মেয়েদের ফুটবলে বাংলাদেশের আশার দীপ জ্বালিয়েছেন যারা, তাদের মধ্যে অন্যতম আঁখি। অসম্ভব প্রতিভাময়ী। রক্ষণ সামলেও গোল করার সামর্থ্য এবং খেলা তৈরি করার গুণাবলিতেও সমান পারদর্শী। আঁখি ভাগ্যবতী যে, পরিবারের বাধার মুখে পড়তে হয়নি তাকে। বিশেষ করে ফুটবলার হওয়ার পেছনে তার বাবার অবদান মুখ্য।

মার্জিয়া আক্তার, ফরোয়ার্ড

আর দশজন মেয়ের মতো শুরুতে মার্জিয়ার ফুটবলে আসাটাকে ভালোভাবে নেয়নি কেউ। ‘এমনকি মা-বাবাও প্রথমদিকে ফুটবল খেলব বলে খুশি হতে পারেননি’, বলেছেন মার্জিয়া। স্কুল টুর্নামেন্টে ভালো খেলতে শুরু করলে ধীরে ধীরে সব বাধা দূরে সরে যায়। তার ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে শিক্ষক মফিজুর রহমানের ভূমিকা মার্জিয়া স্মরণ করেন।

শামসুন্নাহার, ডিফেন্ডার

মেয়েদের ফুটবলে বাংলাদেশের চারণভূমি ময়মনসিংহের কলসিন্দুর থেকে উঠে এসেছেন শামসুন্নাহার। সানজিদা, তহুরার খেলা দেখে ফুটবলার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শামসুন্নাহার। ‘দেশের হয়ে খেলতে নামার সময় আমি অনেক বেশি অনুপ্রাণিত হই। একটা চিন্তাই তখন মাথায় থাকে, কীভাবে দেশকে ভালো কিছু দেয়া যায়’, বলেন এই ডিফেন্ডার।

মনিকা চাকমা, মিডফিল্ডার

পার্বত্য চট্টগ্রামের মেয়ে। মনিকার মা-বাবাও প্রথমে অনুমোদন করেননি তার ফুটবল খেলা। জাতীয় পর্যায়ে খেলার পর ছবিটা পাল্টে যায়। এখন সবাই খুশি। মনিকার অর্জনে গর্বিত তারা।

শিউলি আজিম, ডিফেন্ডার

শিউলিও কলসিন্দুরকন্যা। তার স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হওয়ার। স্কুল ফুটবল শিউলির জীবন-পথ বদলে দেয়। এখন ফুটবলই তার ধ্যানজ্ঞান। ভালোবাসা। ‘আমি বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখি’, বলেছেন শিউলি।

কৃষ্ণা রানী সরকার, ফরোয়ার্ড

বঙ্গমাতা স্কুল ফুটবল দিয়ে টাঙ্গাইলের কৃষক পরিবারের মেয়ে কৃষ্ণার শুরু। প্রথমদিকে মেয়েকে নিবৃত্ত করতে মা তার ফুটবল কেটে টুকরো টুকরো করে দিতেন। বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়ে চিকিৎসক হবে। এখন সবাই তাকে অনুপ্রাণিত করে ভালো খেলার জন্য।

সানজিদা আক্তার, উইঙ্গার

১১ বছর বয়সে সানজিদার ফুটবল-যাত্রা শুরু। সে-ও প্রথমদিকে পরিবার ও সমাজের বাধার মুখে পড়ে। কিন্তু সব বাধা অপসারিত হয় তারকা ফুটবলার হয়ে ওঠার পর। এশিয়ার সপ্তম সেরা বয়সভিত্তিক নারী ফুটবলারের মর্যাদা পাওয়া সানজিদা বলেন, ‘খেলাধুলার মাধ্যমে বহু দেশ চিনেছে বাংলাদেশকে। মাতৃভূমির সুনাম আমরা ছড়িয়ে দিতে পারি আরও বেশি অবদান রেখে।’

সিরাত জাহান স্বপ্না, ফরোয়ার্ড

সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপে এক ম্যাচে পাঁচ গোল করে সবার নজর কাড়েন স্বপ্না। এ পর্যন্ত তার সেরা পারফরম্যান্স ভুটানে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ চ্যাম্পিয়নশিপে। সেই আসরে এক ম্যাচে সাত গোল করেছিলেন স্বপ্না।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ওয়েবসাইট অবলম্বনে

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×