আবাহনী চ্যাম্পিয়ন

  স্পোর্টস রিপোর্টার ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রথম পর্বের পর আবাহনীর জন্য কাজটা কঠিনই ছিল। কিন্তু সুপার লিগের একটি ম্যাচেও হারেনি তারা। জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড়ে ভরা আবাহনী জিতেছে টানা পাঁচ ম্যাচ। আর সুপার লিগের শুরুতে আবাহনীর চেয়ে চার পয়েন্ট এগিয়ে থাকা লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ হেরেছে দুটি ম্যাচে। তবুও ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের শেষ রাউন্ডের জন্য কিছুটা রোমাঞ্চ অবশিষ্ট ছিল। মিরপুরে কাল প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে নাঈম শেখের সেঞ্চুরিতে (১৩৬) ৩২৭ রান করে ৮৮ রানের বড় জয় পেয়েছে রূপগঞ্জ। আর বিকেএসপিতে শেখ জামালের বিপক্ষে ৩১৮ রানের লক্ষ্যে নেমে সৌম্য সরকারের ডাবল সেঞ্চুরি (২০৮*) এবং জহুরুল ইসলামের (১০০) সেঞ্চুরিতে নয় উইকেটের বিশাল জয় পেয়েছে আবাহনী। লিগ শেষে রূপগঞ্জ ও আবাহনীর পয়েন্ট সমান ২৬ করে। মুখোমুখি লড়াইয়েও ১-১ সমতা। তবে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকার সুবাদে শেষ হাসি হেসেছে আবাহনীই। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকা লিগে চ্যাম্পিয়ন হল দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। শেষ চার আসরে এটি তাদের তৃতীয় শিরোপা। ঢাকার শীর্ষ ক্লাব টুর্নামেন্টে এ নিয়ে ২০ বার চ্যাম্পিয়ন হল আবাহনী। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহামেডান শিরোপা জিতেছে নয়বার।

আবাহনীর সমান পয়েন্ট নিয়েও রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে রূপগঞ্জকে। ২০ পয়েন্ট নিয়ে প্রাইম দোলেশ্বর তৃতীয়। শেখ জামাল (১৮) চতুর্থ ও প্রাইম ব্যাংক (১৬) পঞ্চম স্থানে থেকে লিগ শেষ করেছে। সুপার লিগে মাত্র একটি জয় পাওয়া মোহামেডান ১৪ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে থেকে লিগ শেষ করেছে। এছাড়া আগেই ঢাকা লিগ থেকে অবনমন হয়েছে বিকেএসপি ও উত্তরা স্পোর্টিং ক্লাবের।

বাঁচা-মরার ম্যাচে শেখ জামাল কাল চমকে দিয়েছিল আবাহনীকে। তানভির হায়দারের অপরাজিত ১৩২ রানে নয় উইকেটে ৩১৭ রানের পাহাড় গড়ে শেখ জামাল। চার উইকেট নিয়ে আবাহনীর সেরা বোলার মাশরাফি মুর্তজা। পুরো লিগে ভালো বোলিং করা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন একটি উইকেট নিতে খরচ করেছেন ৬৯ রান। ৩১৮ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেখ জামালের বোলারদের তুলোধুনা করেছেন সৌম্য সরকার ও জহুরুল ইসলাম। লিস্ট-এ ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন সৌম্য। ১৫৩ বলে করেছেন ২০৮* রান। হাকিয়েছেন লিস্ট-এ ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৬ ছক্কাও। এছাড়া জহুরুলকে নিয়ে ওপেনিং জুটিতে করা ৩১২ রানও যে কোনো উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। রেকর্ডময় ম্যাচে ১৭ বল বাকি থাকতেই জয়ের ঠিকানায় পৌঁছে যায় আবাহনী। জহুরুল ১২৮ বলে করেন ১০০ রান।

মিরপুরে নাঈম শেখের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বিশাল স্কোর (৩২৭/৪) দাঁড় করায় রূপগঞ্জ। নাঈম ১৩০ বলে ১৩৬ এবং মেহেদী মারুফ (৫৪) ও মুমিনুল হক (৫২) হাফ সেঞ্চুরি করেন। শেষদিকে নয় বলে ২২ রান করেন মুক্তার আলী। জবাবে মোহাম্মদ শহীদের চার উইকেটে ২৩৯ রানে অলআউট হয় প্রাইম ব্যাংক। তবে জয়ের পরও শিরোপা উৎসব করা হল না রূপগঞ্জের।

ফতুল্লায় নিয়ম রক্ষার অপর ম্যাচে হার দিয়ে লিগ শেষ করেছে মোহামেডান। প্রথমে ব্যাট করে সাইফ হাসান (৫৫), সৈকত আলী (৬৫) ও ফরহাদ রেজার (৮৯) হাফ সেঞ্চুরিতে ছয় উইকেটে ২৭৪ রান করে প্রাইম দোলেশ্বর। জবাবে মোহাম্মদ আশরাফুলের হাফ সেঞ্চুরি (৭৬) এবং শেষদিকে নিহাদুজ্জামানের ১৯ বলে ৩৫ রানের পরও ২৭১ রান করতে পারে মোহামেডান।

১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে ঢাকা মেট্রোপলিস প্রথম বিভাগ ক্রিকেট নামে শুরু হয় ঢাকার শীর্ষ এই ক্লাব প্রতিযোগিতা। প্রথম মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন ছিল আবাহনী। ১৯৮৭-৮৮ মৌসুম থেকে প্রথম বিভাগ রূপান্তরিত হয় প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে। ঢাকা লিগে এটি ছিল ৪২তম আসর।

এরমধ্যে দু’বার ২০০৩-০৪ ও ২০১২-১৩ মৌসুমে খেলা হয়নি। মোহামেডান ও বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে যুগ্মভাবে দু’বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবাহনী। ঢাকা লিগের সবচেয়ে সফল দল আবাহনীর দু’বার হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের রেকর্ডও রয়েছে। আগামী আসরে জিততে পারলে আরেকটি হ্যাটট্রিক হবে তাদের।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×