সূর্যাস্তে সৌম্যর সূর্যোদয়

বিশ্বকাপের আগে সৌম্যর ডাবল সেঞ্চুরি

  স্পোর্টস রিপোর্টার ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

লিগের শুরুতে ৩০-৪০ রানের আশপাশে আউট হয়েছেন তিনি। এরপর রানখরা। একটা বড় ইনিংসের জন্য হাপিত্যেশ করছিলেন। বিশ্বকাপের আগে সৌম্যর ফর্মহীনতার সমালোচনা চলছিল চারদিকে। ঠিক তখনই জ্বলে উঠলেন তিনি। আগের ম্যাচে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে ঝড়ো সেঞ্চুরি। কাল শেখ জামালের বিপক্ষে রেকর্ড গড়া দ্বিশতক। লিস্ট-এ ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে করলেন ডাবল সেঞ্চুরি। ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট সুপার লিগের শেষ ম্যাচে বিকেএসপিতে সৌম্য ১৫৩ বলে করেছেন অপরাজিত ২০৮। এর আগে ২০১৭ সালে বিকেএসপিতেই ঢাকা লিগে মোহামেডানের রকিবুল হাসান ১৩৮ বলে করেছিলেন ১৯০ রান। এতদিন সেটাই ছিল বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস।

ডাবল সেঞ্চুরির আগেই আরেকটি রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন সৌম্য। লিস্ট-এ ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৬টি ছক্কা হাকিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জহুরুল ইসলামকে নিয়ে ওপেনিং জুটিতে সৌম্য যোগ করেন ৩১২ রান। লিস্ট-এ ক্রিকেটে যে কোনো উইকেটে জুটিতে যা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ। শিরোপা ছোঁয়ার লড়াইয়ে শেখ জামালের বিপক্ষে এদিন আবাহনীর দরকার ছিল ৩১৮ রান। জহুরুলের সেঞ্চুরি (১০০) এবং সৌম্যর ডাবল সেঞ্চুরিতে ১৭ বল বাকি থাকতে নয় উইকেটে জয়ী হয় আবাহনী। সৌম্য ১৬ ছক্কার সবই মেরেছেন স্পিনারদের। ২০১২ সালে কুয়ালালামপুরে এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে কুয়েতের বিপক্ষে ১৩৫ বলে ২০৯ করেছিলেন তিনি। কাল সেঞ্চুরির পর সৌম্য বলেন, ‘আমার ব্যাটিং আগের মতোই আছে। প্রথমে ৩০-৪০-এ আউট হয়ে যাচ্ছিলাম। এরপর ১, ২ এবং ০তে আউট হতে শুরু করলাম। মাঠেই পরিকল্পনা করেছি। আর রান করলে অবশ্যই

আত্মবিশ্বাস বাড়ে।’ ওপেনিং জুটিতে বাংলাদেশের আগের রেকর্ড ছিল গত বছর আবাহনীর এনামুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর। তারা ২৩৬ রানের জুটি গড়েছিলেন। তবে সব মিলিয়ে আগের সর্বোচ্চ রানের জুটি ছিল ২৯০ রানের। ২০০৭ সালে জাতীয় লিগের ওয়ানডে সংস্করণে রাজশাহী বিভাগের বিপক্ষে চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে

এ জুটি গড়েছিলেন মাহবুবুল করিম ও ধীমান ঘোষ। সৌম্যর ব্যাটে আবাহনী টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। লিগে আগের ম্যাচে সৌম্যর সেঞ্চুরি ছিল ৭১ বলে। কাল শেখ জামালের বিপক্ষে ছিল ৩১৮ রান তাড়ার চাপ। তিনশ’ রানের ইনিংস যে কোনো উইকেটেই কঠিন। সৌম্যর ব্যাটে সেটা সহজ হয়ে যায়। এ মৌসুমে আবাহনী

এদিনই সবচেয়ে দাপুটে জয় পেয়েছে। সৌম্যর ফিফটিতে পৌঁছতে লাগে ৫২ বল। পরের ৫০ করতে মাত্র ২৬ বল খেলেন তিনি। ৭৮ বলে সেঞ্চুরি, ১০৪ বলে ১৫০ এবং ১৪৯ বলে ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আবাহনী ও শেখ জামাল

শেখ জামাল ৩১৭/৯, ৫০ ওভারে (ফারদিন হাসান

৩৪, তানভির হায়দার

১৩২*, ইলিয়াস সানি

৪৫, মেহরাব হোসেন ৪৪। মাশরাফি মুর্তজা ৪/৫৬)।

আবাহনী ৩১৯/১, ৪৭.১ ওভারে (জহুরুল ইসলাম ১০০, সৌম্য সরকার ২০৮*। ইমতিয়াজ হোসেন ১/১০)।

ফল : আবাহনী ৯

উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : সৌম্য সরকার (আবাহনী)।

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ

ও প্রাইম ব্যাংক

লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ

৩২৭/৪, ৫০ ওভারে (মেহেদী মারুফ ৫৪, মোহাম্মদ নাঈম ১৩৬, মুমিনুল হক ৫২, নাঈম ইসলাম ২৪*, জাকের আলী ২৭, মুক্তার আলী ২২*।

মোহর শেখ ১/৫৩)।

প্রাইম ব্যাংক ২৩৯/১০, ৪২.১ ওভারে (রুবেল মিয়া ৩৭, এনামুল হক ২৬, আরিফুল হক ৩৩, অলক কাপালি ২১, নাহিদুল ইসলাম ৭৪। নাবিল সামাদ ২/৪১, মোহাম্মদ শহীদ ৪/২২, মুক্তার আলী ২/৬২)।

ফল : লিজেন্ডস অব

রূপগঞ্জ ৮৮ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মোহাম্মদ নাঈম (রূপগঞ্জ)।

প্রাইম দোলেশ্বর ও মোহামেডান

প্রাইম দোলেশ্বর ২৭৪/৬, ৫০ ওভারে (সাইফ হাসান

৫৫, সৈকত আলী ৬৫

ফরহাদ হোসেন ৮৯, মার্শাল আইয়ুব ৩৮। শফিউল

ইসলাম ২/৩৯)।

মোহামেডান ২৭১/৯, ৫০ ওভারে (ইরফান শুকুর

২৬, মোহাম্মদ আশরাফুল

৭৬, রকিবুল হাসান

২২, রাহাতুল ফেরদৌস

৩৭, নিহাদুজ্জামান ৩৫*। ফরহাদ রেজা ২/৫১, মাহমুদুল হাসান ২/৫৬, তৈয়বুর

রহমান ৩/৩৪)।

ফল : প্রাইম দোলেশ্বর

৩ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : ফরহাদ হোসেন (দোলেশ্বর)।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×