১০ অধিনায়কের কথার সুরে বিশ্বকাপের আগমনী

  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ২৪ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভেন্যুর নাম ‘দ্য ফিল্ম শেড’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বোমায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর আবার গড়ে তোলা কমপ্লেক্স এখন ইতিহাসের নানা ধাপ পেরিয়ে সিনেমা, নাটকের শুটিংয়ের জনপ্রিয় জায়গা। তবে উপলক্ষ এবার রুপালি পর্দা নয়। বিশ্বকাপ ক্রিকেট নাটকীয়তার আগমনী সুর বেজে উঠল সেন্ট্রাল লন্ডনের এই মঞ্চে, যেখানে পাশাপাশি এবারের বিশ্বকাপের ১০ অধিনায়ক। হাসি, আড্ডা, মজা, খুনসুটি, কথায় অধিনায়কেরা শোনালেন তাদের বিশ্বকাপ ভাবনা। এক রকম শুরু হয়ে গেল ২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক পথচলাও।

বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় ছিল আয়োজন শুরুর নির্ধারিত সময়। লন্ডনের যানজটে এক অধিনায়কের আসতে দেরি। অনুষ্ঠান শুরুর ৫ মিনিট দেরির জন্যও ঘোষণা দিয়ে দুঃখপ্রকাশ করা হল। সুসজ্জিত মঞ্চে ১০ দলের খেলার ছোট্ট ভিডিও দিয়ে শুরু হল আয়োজন। ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে স্থানীয় বিভিন্ন ক্রিকেট একাডেমির বাছাই করা শিশুরা পেলেন মহাতারকাদের কাছ থেকে দেখা ও ছোঁয়ার সুযোগ। অধিনায়কদের মঞ্চের পথে এগিয়ে নিলেন তারাই। তুমুল করতালিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যান প্রথম পা রাখলেন মঞ্চে। তার ঠিক পরেই ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। পাশাপাশি বসেই কোনো একটা রসিকতা করলেন কোহলি, যাতে হেসে উঠলেন দু’জনই।

এরপর পাকিস্তানের সরফরাজ আহমেদ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেসন হোল্ডার, আফগানিস্তানের গুলবাদিন নাইব হয়ে বাংলাদেশের মাশরাফি মুর্তজা। বাংলাদেশ অধিনায়কের পাশে বসলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ ও দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি। সবশেষে মঞ্চে এলেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মার্ক চাপম্যানের প্রথম প্রশ্নই আয়োজন জমিয়ে দিল। ‘হোল্ডার অস্ট্রেলিয়া’ নাকি ‘হোস্ট ইংল্যান্ড’, কে এগিয়ে এবার?

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ফিঞ্চ কোনো সংশয় ছাড়াই এগিয়ে রাখলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে। সায় দিলেন কোহলিও। সঙ্গে ভারত অধিনায়ক যোগ করলেন, ‘কন্ডিশন ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে অবশ্যই ইংল্যান্ড দারুণ শক্তিশালী। তবে এবার যে ফরম্যাট, তাতে খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্বকাপ হবে।’

টানা ১০ ওয়ানডে হেরে বিশ্বকাপে যাচ্ছে পাকিস্তান। তবু দলকে নিয়ে দারুণ আশাবাদী সরফরাজ। ইংল্যান্ডে ১৯৯৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিল পাকিস্তান, শিরোপা জিতেছে ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। পাকিস্তান অধিনায়ক মনে করিয়ে দিলেন, ইংল্যান্ডে তারা বরাবরই দুর্দান্ত। গুরুত্বপূর্ণ সব কথার মেলায় ছিল কৌতুকের ভেলাও। ফাফ ডু প্লেসির ইয়ারফোন মাইক্রোফোন ঠিকমতো কাজ করছিল না। পাশ থেকে মাথা বাড়িয়ে ডু প্লেসির মুখের সামনে গিয়ে উইলিয়ামসন বললেন, ‘আমারটা দারুণ, এটা দিয়ে কাজ চালাতে পার!’ নিউজিল্যান্ড অধিনায়কের ভঙ্গিতে হেসে উঠলেন সবাই।

গত বিশ্বকাপ থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটে সাফল্যের পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। মাশরাফির কাছে সঞ্চালকের প্রশ্ন সেই সাফল্যের রহস্য নিয়ে। কিভাবে পারল বাংলাদেশ? অধিনায়ক বললেন দলে সিনিয়র ও জুনিয়রদের দারুণ সমন্বয়ের কথা। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ফাফ ডু প্লেসির দিকে তাকিয়ে মাশরাফি বললেন, ‘আশা করি, ফাফের দলের বিপক্ষে শুরুটা ভালো করতে পারব আমরা।’ পাশ থেকে ফাফের চকিত উত্তর, ‘আমি আশা করি তোমার আশার পূরণ হবে না!’

গত কয়েক বছরে ওয়ানডে ক্রিকেটের ব্যাটিংয়ে নিত্যনতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে ইংল্যান্ড। ৫০ ওভারে ৫০০ রানও এখন অসম্ভব নয়, এই নিয়ে চলছে আলোচনা। আসলেই ৫০০ সম্ভব? কোহলি হাসিমুখে তাকালেন মরগ্যানের দিকে, ‘সম্ভব কিনা, এটা নির্ভর করছে ইংলিশদের ওপর, ওদের তো পাঁচশ’র ভাবনায় ঘুম নেই!’

তবে ভারত অধিনায়কের ধারণা, শুধু রানের খেলাই হবে না এবার, ‘বিশ্বকাপের মতো আসরে চাপ একটি বড় ব্যাপার। দেখবেন, ২৫০-২৬০ রান করেও অনেক ম্যাচে জেতা যাবে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের শেষের দিকে আমার মনে হয় না বড় রান বেশি হবে।’

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনার আঁচ এখানেও লাগল অবধারিতভাবেই। টিকিট নিয়ে নাকি চলছে হাহাকার। কোহলি ও সরফরাজের দিকে তাকিয়ে মরগ্যান খুব সিরিয়াস ভঙ্গিতে জানতে চাইলেন, ‘তোমাদের কাছে টিকিট আছে?’ পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজের উত্তর, ‘টিকিট চাওয়ার যন্ত্রণায় ফোন নম্বর বদলানোর কথা ভাবছি।’ সরফরাজের দিকেও প্রশ্ন গেল বেশি। ১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ জেতানো ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। সরফরাজেরও ইচ্ছে? পাকিস্তান অধিনায়ক বললেন, কেবল বিশ্বকাপ জিততে পারলেই তিনি মহাখুশি। গুলবাদিন শোনালেন আফগানিস্তানে ক্রিকেট এখন কত বড় ব্যাপার এবং জাতিকে কতটা ঐক্যবদ্ধ করে। মরগ্যান জানালেন, জফরা আর্চারকে দলে পেয়ে তার রোমাঞ্চের কথা।

১০ অধিনায়কই শোনালেন দল নিয়ে আশা আর চ্যালেঞ্জের কথা। মাশরাফির কণ্ঠে শোনা গেল প্রত্যয়, ‘আমাদের বিশ্বাস আছে যথেষ্ট। যদি শুরুটা ভালো করতে পারি, আমরা হারাতে পারি যে কোনো দলকে।’ সবশেষে সব অধিনায়কই আবার শোনালেন নিজেদের প্রত্যাশা। সেই স্বপ্নের সুবাস নিয়েই শেষ হল দারুণ আয়োজন। অপেক্ষা এখন মূল লড়াই শুরুর।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×