বোলিং সাফল্যই বিশ্বকাপ জয়ের মন্ত্র

  ক্রিকইনফো ২৭ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বড় ব্যাট ও বড় স্কোরের এই যুগে দানবীয় ব্যাটিং ওয়ানডের মূল বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। তারপরও সত্যিকারের দুর্দান্ত কিছু বোলিং আক্রমণ ২০১৯ বিশ্বকাপে গর্জে ওঠার অপেক্ষায়। এই বিশ্বকাপে উইকেট নেয়াটাই সবচেয়ে বড় প্রভাবক হয়ে উঠতে পারে। আধুনিক মারকাটারি ব্যাটিং স্টাইলের পরও টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বে গিয়ে ব্যাটসম্যানদের কাজটা সহজ হবে না। যে দল উইকেট নেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ধারাবাহিক হবে, বিশেষ করে

মাঝের ওভারগুলোতে, তারাই সম্ভবত শিরোপা জিতবে। যাদের বোলিং আক্রমণ সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ তারাই এগিয়ে থাকবে। এক্ষেত্রে ইংল্যান্ড, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার কথা বলব আমি।

কিছুদিন আগেও ইংল্যান্ড দলে সত্যিকারের একজন গতিময় পেসারের অভাব ছিল। শেষ মুহূর্তে জফরা আর্চারের অন্তর্ভুক্তি ও মার্ক উডের উত্থানে সেই ঘাটতি মিটে গেছে। অবস্থা এমন যে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বোলার লিয়াম প্লাংকেটকে হয়তো বিশ্বকাপে বেঞ্চে বসে থাকতে হবে। পেস আক্রমণে আর্চার, উড ও ক্রিস ওকাস। স্পিনে মঈন আলী ও আদিল রশিদ। সঙ্গে বেন স্টোকসকে নিয়ে তাদের বোলিং আক্রমণ অবশ্যই ভীতিজাগানিয়া। ব্যাটিং লাইআপ আরও শক্তিশালী ও গভীর। ইংল্যান্ডের জন্য উদ্বেগের একমাত্র জায়গা হল বিশ্বকাপে তাদের ব্যর্থতার সুদীর্ঘ ইতিহাস এবং প্রত্যাশার চাপে ভেঙে পড়ার প্রবণতা। এক্ষেত্রে অধিনায়ক হিসেবে ইয়ন মরগ্যানের স্থিরতা এবার বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সে যদি দলের মনোযোগ ধরে রেখে সবাইকে লক্ষ্যে অবিচল রাখতে পারে, স্বাগতিকদের থামানো কঠিন হবে।

ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার মতো গতিময় আক্রমণভাগ না থাকলেও ভারতের আছে বৈচিত্র্য। অনুকূল কন্ডিশনে তাদের তিন পেসার দারুণ কার্যকর হতে পারে। উইকেটে আর্দ্রতা থাকলে জাসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ সামি ও ভুবনেশ্বর কুমার বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। কন্ডিশন ও উইকেট ভিন্ন হলে কুলদীপ যাদব ও যুজবেন্দ্র চাহাল সাফল্য পাবে। এছাড়া হার্দিক পান্ডিয়ার মতো একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার ও অনেক বিকল্প আছে বিরাট কোহলির হাতে।

জশ হ্যাজলউড দলে না থাকলেও মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্সের মতো দারুণ আগ্রাসী ও উইকেট শিকারি পেস জুটি আছে অস্ট্রেলিয়ার। এখন তৃতীয় পেসারের ভূমিকায় নাথান কোল্টার-নাইল বা জেসন বেহরেনডর্ফ কেমন করে তার ওপর নির্ভর করবে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্য।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ যথেষ্ট সমৃদ্ধ। কাগিসো রাবাদা, ডেল স্টেইন ও লুঙ্গি এনগিতির মতো দুর্ধর্ষ পেসত্রয়ী আছে দক্ষিণ আফ্রিকার। আছে ইমরান তাহিরের মতো উইকেট শিকারি স্পিনার। উইকেট নেয়া দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু তাদের ব্যাটিংয়ে আগের সেই গভীরতা নেই। গায়ে সেঁটে থাকা ‘চোকার’ তকমা আরেক বাধা। সাধারণত নকআউট পর্বে তাদের এই চেহারা বেরিয়ে আসে। এবার নকআউট পর্বে যেতে ব্যাট হাতে তাদের নিজেদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যেতে হবে। পেস আক্রমণে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো আশীর্বাদপুষ্ট না হলেও ট্রেন্ট বোল্ট ও টিম সাউদির মতো দারুণ দু’জন সুইং বোলার আছে নিউজিল্যান্ডের। বিশ্বকাপ মঞ্চে নিয়মিতই শেষ চারে জায়গা করে নেয় নিউজিল্যান্ড। এবারও তার পুনরাবৃত্তি হতে পারে। কিন্তু ফাইনালে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী নয় তাদের ব্যাটিং।

এবারের বিশ্বকাপে সব দলই একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। ফলে সেরাটা খেলার কোনো বিকল্প নেই। ফরম্যাটের কারণে লড়াইটা এবার উন্মুক্ত। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড যদি প্রত্যাশার চাপ সামলাতে পারে, তাদের বোলিং আক্রমণে বিজয়ী হওয়ার সব রসদ আছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×