রেকর্ড জুটিতে রানের রেকর্ড বাংলাদেশের

  স্পোর্টস রিপোর্টার ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শুরুটা ছিল সাবধানী। পঞ্চম ওভার থেকে সৌম্য সরকারের আক্রমনাত্মক ব্যাটিং শুরু। তামিম ইকবাল ও সৌম্য দ্রুত দলীয় রান পঞ্চাশ পার করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তামিম বেশি দূর যেতে পারেননি। এরপর বড় ইনিংসের সম্ভাবনা জাগিয়েও ৩০ বলে ৪২ রান করে ফেরেন সৌম্য। তবে ওপেনিং জুটির দেখানো পথেই সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম দারুণ শুরু করেন। দু’জনের জুটি আগে থেকেই বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সেরা। বিশ্বকাপে নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন তারা। রোববার দ্য ওভালে এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে সাকিব ও মুশফিক গড়েন ১৪২ রানের যুগলবন্দি, যা বিশ্বকাপে যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি। তবে সব মিলিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে এটি বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান।

শুরু থেকে সমানতালে এগিয়ে দু’জনই তুলে নেন ফিফটি। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও সাকিব ৭৫ এবং মুশফিক ফেরেন ৭৮ রান করে। তবে ১৩৭ বলে তাদের ১৪২ রানের জুটিই বাংলাদেশের শুরুটা রাঙিয়ে দেয়। তাদের গড়ে দেয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়েই মাহমুদউল্লাহরা দলকে নিয়ে যান রেকর্ড ৩৩০ রানে। বিশ্বকাপে তো বটেই, বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসেই যা সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ।

চোটের কারণে তামিম ইকবাল ও সাইফউদ্দিনের খেলা নিয়ে শঙ্কা ছিল। কিন্তু সব শঙ্কা কাটিয়ে সেরা একাদশ নিয়েই মাঠে নামে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে ওয়ানডাউনে খেলবেন বলে আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন সাকিব। ব্যাটিংয়ের শুরুটাও করেন দায়িত্ব নিয়ে। প্রথম চার বলে কোনো রান নেই। এরপর চার মেরে রানের খাতা খোলেন সাকিব। রান তোলার লড়াইয়ে প্রতিযোগিতায় নামেন সাকিব-মুশফিক। সাকিব ৫৪ বলে পেয়ে যান ক্যারিয়ারের ৪৩তম ওয়ানডে ফিফটি। ৫২ বলে মুশফিক তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৩৪তম ওয়ানডে ফিফটি। সাকিবকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নিজের শততম ওয়ানডে খেলতে নামা ইমরান তাহির। প্রোটিয়া এ লেগ-স্পিনারকে সুইপ করতে চেয়েছিলেন সাকিব। ব্যাটে-বলে করতে না পেরে ফিরে যান বোল্ড হয়ে।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আগের রেকর্ড জুটিতেও ছিলেন ‘মি. ধারাবাহিক’ মুশফিক। সেবার তার সঙ্গী ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ সেই জয়ের ম্যাচে দু’জন মিলে গড়েছিলেন ১৪১ রানের জুটি। এ দুটি ছাড়া ছয় বিশ্বকাপে বাংলাদেশ আর মাত্র দুটি একশ ছাড়ানো জুটি গড়তে পেরেছে। সে দুটিই আবার হয়েছে ২০১৫ অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে। নেলসনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩৯ রানের জুটি গড়েছিলেন তামিম ও মাহমুদউল্লাহ। ক্যানবেরায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১১৪ রানের জুটি গড়েছিলেন সাকিব ও মুশফিক। শতরানের জুটিতে সবার উপরে সাকিব-মুশফিকই। তাদের রয়েছে পাঁচটি শতরানের জুটি। তবে মুশফিক ও তামিমেরও রয়েছে সমান পাঁচটি তিন অঙ্ক ছাড়ানো জুটি। এছাড়া তামিম ও সৌম্য সরকার জুটিও একশ ছুঁয়েছে পাঁচবার। তবে বাংলাদেশের জুটির মোট রানে অনেক এগিয়ে সাকিব ও মুশফিক। এই জুটির রান যেখানে তিন হাজার ছাড়াতে চলেছে, সেখানে অন্য কোনো জুটির রান দুই হাজারও নেই।

বিশ্বকাপের আগেই ওয়ানডের অলরাউন্ডারদের র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে উঠেছেন সাকিব। কাল প্রোটিয়াদের বিপক্ষে বিশ্বকাপে আগের সেরা ৬৩ ছাড়িয়ে ৭৫ রানে থামেন এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তার ৮৪ বলের ইনিংস গড়া আট চার ও এক ছক্কায়। মুশফিক ৮০ বলে আট চারে ৭৮ করে আউট হন।

স্কোর কার্ড

বাংলাদেশ

রান বল ৪ ৬

তামিম ক ডি কক ব ফেলুকওয়ায়ো ১৬ ২৯ ২ ০

সৌম্য ক ডি কক ব মরিস ৪২ ৩০ ৯ ০

সাকিব ব তাহির ৭৫ ৮৪ ৮ ১

মুশফিক ক ডুসেন ব ফেলুকওয়ায়ো ৭৮ ৮০ ৮ ০

মিঠুন ব তাহির ২১ ২১ ২ ১

মাহমুদউল্লাহ নটআউট ৪৬ ৩৩ ৩ ১

মোসাদ্দেক ক ফেলুকওয়ায়ো ব মরিস ২৬ ২০ ৪ ০

মিরাজ নটআউট ৫ ৩ ১ ০

অতিরিক্ত ২১

মোট (৬ উইকেটে, ৫০ ওভারে) ৩৩০

উইকেট পতন : ১/৬০, ২/৭৫, ৩/২১৭, ৪/২৪২, ৫/২৫০, ৬/৩১৬।

বোলিং : এনগিডি ৪-০-৩৪-০, রাবাদা ১০-০-৫৭-০, ফেলুকওয়ায়ো ১০-১-৫২-২, মরিস ১০-০-৭৩-২, মার্করাম ৫-০-৩৮-০, তাহির ১০-০-৫৭-২, ডুমিনি ১-০-১০-০।

দক্ষিণ আফ্রিকা ২০৫/৪, ৩৬ ওভারে (মার্করাম ৪৫, ডু প্লেসি ৬২, মিলার ৩৮, ভ্যান ডার ২৫*। মোস্তাফিজ ১/২৯, মিরাজ ১/৩৬, সাকিব ১/৩৭।) (অসমাপ্ত)।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×