২০০ কোটি মানুষের রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় যে ম্যাচ

  ইশতিয়াক সজীব ১৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপের মেন্যুতে আজ একটাই পদ- চাপ, চাপ আর চাপ! ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই যে চাপের খেলা। যে চাপ বিকল করে দেয় স্নায়ু। প্রায় ২০০ কোটি মানুষের রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। চিরবৈরী দুই পড়শির ক্রিকেটপাগল জনতা যুক্তির চৌকাঠ না মাড়িয়ে উন্মুখ থাকে জয়ের জন্য। তাদের অভিন্ন চাওয়া, আর যাই হোক এই ম্যাচে হারা চলবে না। হারলে যেন জীবনই শেষ। ম্যানচেস্টারে আজ বৃষ্টির শঙ্কা থাকলেও এ নিয়ে কোনো হেলদোল নেই এই অবুঝ সমর্থকদের। বিশ্বকাপের উত্তাপ বাড়িয়ে এক মনে তারা জপছে জয়ের মন্ত্র। ইংল্যান্ড প্রবাসী ভারতীয় সমর্থক হারুন মেমনের চাওয়াটা শুনুন, ‘এই ম্যাচটা আমরা জিততে চাই। পাকিস্তানকে যদি হারাতে পারি তবে কোহলির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি না উঠলেও সমস্যা নেই।’

বিশ্বকাপে ছয়বারের দেখায় কখনই ভারতকে হারাতে পারেনি পাকিস্তান। এমন একপেশে ব্যাপারটা দিব্যি উপেক্ষা করে টুইটারে এক পাকিস্তানি সমর্থক লিখেছেন, ‘ক্রিকেটে আমরা সব সময়ই ভারতের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে এসেছি। খেলা বলেন আর যুদ্ধ, রোববার আমরাই জিততে যাচ্ছি।’ এখানেই আপত্তি পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরামের। ক্রিকেটের সবচেয়ে উপভোগ্য দ্বৈরথকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে চিত্রিত না করার আহ্বান জানালেন আকরাম, ‘ক্রিকেটে এরচেয়ে বড় কোনো ম্যাচ নেই। দুই দেশের সমর্থকদের প্রতিই আমার আহ্বান, শান্ত থেকে ম্যাচটা উপভোগ করুন। দিন শেষে এক দল জিতবে, এক দল হারবে। এটাই নিয়ম। দয়া করে একে যুদ্ধ হিসেবে নেবেন না। যারা এই ম্যাচকে যুদ্ধ বানাতে চায় তারা সত্যিকারের ক্রিকেটপ্রেমী নয়।’

আকরামের উপদেশ মনে হয় না কেউ কানে তুলবেন! সমর্থকদের উন্মাদনা দু’দলের স্বপ্নসারথিদেরও বিষম চাপে ফেলে দেয়। যে চাপে উড়ে যায় রাতের ঘুম। অনুমান নয়, ভারতের সাবেক স্পিনার হরভাজন সিংয়ের ভাষ্য এটি। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭টি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তার। এর মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় ২০১১ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। সেই ম্যাচের আগে কতটা চাপে ছিলেন সেটাই জানালেন হরভাজন, ‘অনেক চেষ্টা করেও ম্যাচের আগের রাতে ঘুমাতে পারিনি। শুধু ভাবছিলাম হেরে গেলে কী হবে। অনেক চিন্তা মাথায় ঘুরছিল। ভাবছিলাম হেরে গেলে যা-তা ঘটিয়ে ফেলতে পারে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা। ২০০৩ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুধু একটি ম্যাচে আমরা খারাপ করেছিলাম। তাতেই মানুষ আমাদের বাড়িতে ঢিল ছুড়েছিল। সেখানে পাকিস্তানের কাছে হারলে তো সর্বনাশ! শেষ পর্যন্ত আমরা জিতেছিলাম। তবে খুশি ও উত্তেজনায় সেই রাতেও ঘুম হয়নি। পাকিস্তান ম্যাচের চাপ এমনই। ইংল্যান্ড বা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এমনটা হয় না।’ ফেভারিট হওয়ায় এবারও কোহলিরা বেশি চাপে থাকবেন বলে অভিমত হরভাজনের, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে দলের দুর্দান্ত রেকর্ডের জন্য এবারও বেশি চাপে থাকবে ভারতের ক্রিকেটাররা। রেকর্ড অক্ষত রাখার চ্যালেঞ্জ ডেকে আনবে চাপ।’

ভারতের সাবেক অধিনায়ক কপিল দেব অবশ্য এত চাপের কিছু দেখছেন না। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ভারতকে তিনি পরিষ্কার এগিয়ে রাখছেন, ‘দুই দলের দিকে তাকালেই বুঝবেন পাকিস্তানের চেয়ে কতটা এগিয়ে ভারত। নিজে ভারতীয় বলে এ কথা বলছি না আমি। আমরা যখন খেলতাম তখন আমাদের চেয়ে অনেক ভালো দল ছিল পাকিস্তান। কিন্তু এখন বলতে পারি, দু’দল ১০টি ম্যাচ খেললে সাতটিতেই জিতবে ভারত। তবে নির্দিষ্ট দিনে ঠিক কী ঘটবে তা শুধু সৃষ্টিকর্তাই জানেন।’ কপিলের শেষ কথাটাই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মূল সুর।

হেড-টু-হেড

ম্যাচ ভারত জয়ী পাকিস্তান জয়ী পরিত্যক্ত

১৩১ ৫৪ ৭৩ ৪

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×