জ্বালা জুড়ানোর এই তো সুযোগ

  ইশতিয়াক সজীব ২০ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একদিবসী ক্রিকেটে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দ্বৈরথের বয়স ২৯ বছর। প্রায় তিন দশকের পথচলায় ওয়ানডেতে মাত্র ২১ বার দেখা হয়েছে দু’দলের। এর মধ্যে শেষ দুটি ম্যাচ ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। ২০১৫ বিশ্বকাপের ম্যাচ মাঠেই গড়াতে পারেনি। আর ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সর্বশেষ দেখায় মাঝপথে পরিত্যক্ত হয়েছিল ম্যাচ। ফল হওয়া বাকি ১৯ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটি। এমন বিবর্ণ রেকর্ডের পুরো দায় কিন্তু বাংলাদেশের নয়। পরিত্যক্ত ম্যাচের হিসাব বাদ দিলে ওয়ানডেতে দু’দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছে সেই ২০১১ সালের এপ্রিলে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ তখনও তৃতীয় বিশ্বের দল। গত চার বছরে বদলে যাওয়া নতুন বাংলাদেশের রুদ্ররূপ দেখার সুযোগ এখনও হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। সেটা তাদের নাক উঁচু মানসিকতার জন্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পায়ের নিচে মাটি খুঁজে নেয়ার দীর্ঘ লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি অসহযোগিতা পেয়েছে বাংলাদেশ। তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ২০০৮ সালের পর দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ দলকে আর আমন্ত্রণই জানায়নি অস্ট্রেলিয়া। পাশাপাশি নানা বাহানায় বেশ কয়েকবার বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছে তারা। যে দু’বার (২০০৩ ও ২০০৮) দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফরে গেছে বাংলাদেশ, একবারও পায়নি আন্তরিক আতিথ্য। কেয়ার্নস ও ডারউইনের মতো অখ্যাত ভেন্যুতে খেলতে হয়েছে। দীর্ঘ বঞ্চনা ও নীরব অপমানের সব জ্বালা জুড়ানোর সুযোগ আজ বাংলাদেশের সামনে। বিশ্বকাপ মঞ্চে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে তাদের অহম গুঁড়িয়ে দিতে পারলে সেটাই হবে মোক্ষম জবাব। ওয়ানডেতে দীর্ঘদিন দেখা-সাক্ষাৎ প্রায় বন্ধ থাকলেও সাদা পোশাকে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের ভয়াল রূপ একবার দেখেছে অস্ট্রেলিয়া। ২০১৭ সালে নিজেদের আঙিনায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের অমৃত স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে অসিদের দর্প চূর্ণ করেছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে বাঘের থাবায় রক্তাক্ত হয়েও বাংলাদেশকে অপমান করতে ছাড়েনি অস্ট্রেলিয়া। দেশটির এক ক্রিকেট কর্তা সফরের ব্যর্থতা নিয়ে বোর্ডকে পাঠানো প্রতিবেদনে লিখেছিলেন, ‘আমরা এমন একটি দলের কাছে হেরেছি যে দলের একজনেরও অস্ট্রেলিয়া দলে খেলার যোগ্যতা নেই।’

দু’বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হওয়ার আগে সেই অস্ট্রেলিয়াই কাঁপছে সাকিবের ভয়ে! সাকিবকে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার মানতে এক চুল দ্বিধা নেই অস্ট্রেলিয়ার কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারের, ‘সাকিবকে সামলাতে আমাদের কিছু পরিকল্পনা আছে। সে সত্যিই খুব ভালো খেলছে। সাকিব সম্ভবত বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার। এটা বিস্ময়কর কিছু নয়। সে দারুণ এক ক্রিকেটার। ভালো একজন বাঁ-হাতি স্পিনার এবং ভালো ব্যাটসম্যান। তার জন্য আমাদের প্রস্তুত হয়েই নামতে হবে।’ ‘এ’ দল থেকে ডেকে আনা বাঁ-হাতি স্পিনার অ্যাশটন আগারকে নেটে খেলে সেই প্রস্তুতি সারছেন ফিঞ্চরা। এক সাকিবই বাংলাদেশ দল নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মনোভাব পাল্টে দিয়েছেন। এই বিশ্বকাপে চার ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৩৮৪ রান সাকিবের। বিশ্বকাপের সবচেয় প্রভাবশালী খেলোয়াড়ের তালিকায় সাকিবই শীর্ষে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রেকর্ডরাঙা দুই জয়ে সাকিব পথ দেখালেও বাংলাদেশ জিতেছে দলীয় প্রচেষ্টায়। এই বাংলাদেশকে নিয়েও সমীহ ঝরছে ল্যাঙ্গারের কণ্ঠে, ‘দীর্ঘদিন আমরা তাদের সঙ্গে খেলিনি। যখন খেলতাম তখন সাধারণত শুধু ঘরের মাঠে খেলত তারা। সেই বাংলাদেশ আর এই বাংলাদেশ এক নয়। অনেক এগিয়েছে তারা। আমরা তাদের খেলা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। ছেলেরা জানে প্রস্তুতি নিয়েই নামতে হবে।’

হেড-টু-হেড

ম্যাচ বাংলাদেশ জয়ী অস্ট্রেলিয়া জয়ী ফলহীন

২০ ১ ১৮ ১

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×