দক্ষিণ আফ্রিকার অনুপ্রেরণা হতে পারে ইংল্যান্ড

  আইসিসি ওয়েবসাইট ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এ যেন দক্ষিণ আফ্রিকার ভরাডুবির বিশ্বকাপ। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই সমান নিষ্প্রভ প্রোটিয়ারা। রোববার পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৯ রানের হারে সেমিফাইনালের ক্ষীণ আশাটুকুও নিভে গেল প্রোটিয়াদের। আফগানিস্তানের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ থেকে ঝরে পড়ল তারা। সাত ম্যাচে জয় মাত্র একটি। বাকি দুই ম্যাচে আর কিছুই পাওয়ার নেই ডু প্লেসিদের। এর আগে মাত্র একবার (২০০৩) বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকে। সেবারও এতটা বিপন্ন মনে হয়নি দলটিকে। উত্তরসূরিদের ইতিহাসের তলানি ছুঁতে দেখে কষ্ট পেলেও ভবিষ্যতের প্রশ্নে এখনও আশাবাদী দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার জ্যাক ক্যালিস। এই বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে ইংল্যান্ডের মডেল অনুসরণের পরামর্শ দিলেন তিনি প্রোটিয়াদের। আইসিসির ওয়েবসাইটে লেখা জ্যাক ক্যালিসের কলাম যুগান্তর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।

দক্ষিণ আফ্রিকার এখন ইংল্যান্ডের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা খোঁজা উচিত। যাতে তারা পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য দল পুনর্গঠন করতে পারে। চার বছর আগে র‌্যাংকিংয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দলগুলোর একটি ছিল ইংল্যান্ড। ২০১৫ বিশ্বকাপে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয়েছে তাদের। কিছুই তাদের পক্ষে যায়নি। সেই হতাশাকে তারা দল পুনর্গঠনের অস্ত্র বানিয়েছে। ওয়ানডে ক্রিকেট নিয়ে নিজেদের মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে ফেলেছে ইংল্যান্ড। এখন তারা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে। ভুল হওয়ার ভয়ে আর আতঙ্কিত থাকে না তারা। আমার মতে, এই বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার মানসিকতাই ছিল রক্ষণাত্মক। এগিয়ে যাওয়ার জন্য ইতিবাচক থেকে প্রতি ম্যাচেই আক্রমণাÍক হওয়া উচিত ছিল তাদের।

এখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পুরো দল বদলে ফেলার কোনো দরকার নেই। ইংল্যান্ড এখনও ইয়ন মরগ্যানের নেতৃত্বে খেলছে। চার বছর আগেও সে অধিনায়ক ছিল। অনেকে এখন সবকিছু বদলে ফেলার দাবি জানাবেন। কিন্তু সেটা এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথ নয়। সমস্যার গভীরে গিয়ে ভাবতে হবে আমাদের। সবার আগে যেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে তা হল কোন ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই আলোচনায় খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। নিজের ক্যারিয়ারে প্রতিটি ধাক্কা আমাকে আরও শানিত করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী যখন কিছু হয় না, তা থেকে শিক্ষা নেয়াটা মানুষের সহজাত প্রবণতা। এখন প্রয়োজন আত্মসমালোচনা ও নিজেদের পারফরম্যান্সের সঠিক পর্যালোচনা। পারস্পরিক আস্থাও দরকার। গোটা দল বদলে ফেলা কোনো সমাধান নয়। দারুণ সম্ভাবনাময় কিছু তরুণ খেলোয়াড় আছে দক্ষিণ আফ্রিকার। কাগিসো রাবাদা (২৪), লুঙ্গি এনগিডি (২৩), আন্দিলে ফেলুকওয়ায়ো (২৩) ও আইডেন মার্করামের (২৪) বয়স বিশের ঘরে। তারাই হতে পারে ভবিষ্যতের ভিত। এই বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা অমূল্য শিক্ষা হবে পরের ধাপে যাওয়ার জন্য। ইংল্যান্ড দেখিয়ে দিয়েছে, মাত্র চার বছরে কত দ্রুত সবকিছু বদলে যেতে পারে। সেজন্য দরকার সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও কর্মপন্থা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×