ভারতের সঙ্গেই ‘বিগ ম্যাচ’

  স্পোর্টস রিপোর্টার ২৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বকাপে তিনি যা ধরছেন তাতেই সোনা ফলছে। রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে শিখরে সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটারের মর্যাদা পেয়ে গেছেন তিনি। এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এই বিশ্বকাপে তার পাওয়ার ছিল অনেক কিছু। এরই মধ্যে অনেক কিছু পেয়েও গেছেন সাকিব। সোমবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ ৬২ রানে জয় পেয়েছে সাকিবের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা এখন উজ্জ্বল। জিততে হবে পরের দুটি ম্যাচে ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। সাকিব মনে করেন ভারতকেও হারানো সম্ভব। তিনি বলেন, ‘ভারত বড় দল। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার তারা। জিততে হলে আমাদের অবশ্যই কঠিন লড়াই করতে হবে। নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলতে হবে।’ ব্যাটে-বলে সাকিবের দুরন্ত পারফরম্যান্সে পাত্তা পায়নি আফগানরা। সোমবার পর্যন্ত ছিলেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। সাত ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ পাঁচ নম্বরে। আফগান ম্যাচ জেতার পর সাকিব হয়তো ভারতকে সতর্ক করে দিয়েছেন। সমীহের সুর থাকলেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিরাটদের। সাকিব বলেন, ‘অভিজ্ঞতায় ভারত এগিয়ে। কিন্তু অভিজ্ঞতাই ক্রিকেটে শেষ কথা নয়। ভারতকে হারাতে আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে। ভারতের বেশ কয়েকজন সেরা ক্রিকেটার রয়েছে। আমাদেরও তাদের হারানোর সামর্থ্য আছে।’ বিশ্বকাপে তিন নম্বরে খেলার জন্য টিম ম্যানেজমেন্টকে বোঝাতে হয়েছে সাকিবের। সুযোগ পাওয়ার পর পারফর্ম করার তাগিদ ছিল। সেই চ্যালেঞ্জে উত্তীর্ণ হয়েছেন এই বাঁ-হাতি অলরাউন্ডার। তিনি বলেন, ‘নিজের পারফরম্যান্সে অবশ্যই সন্তুষ্ট। তিন নম্বরে নিজেকে প্রমাণের তাগিদ ছিল। এখন পর্যন্ত ঠিকঠাক চলেছে। বাকি দুটি ম্যাচে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।’

ভারতের বিপক্ষেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় ম্যাচ খেলবে। এমনটি মনে করছেন সাকিব। বাংলাদেশের এই বাঁচা-মরা ম্যাচের আগে দিনকয়েক নিজেদের গুছিয়ে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন সাকিবরা। আগামী ২ জুলাই বার্মিংহামে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত। সাকিব বলেন, ‘সবচেয়ে বড় ম্যাচ খেলব ভারতের বিপক্ষে। তারই প্রস্তুতি শুরু হবে এবার।’ পরের দুই ম্যাচের একটি জিতলেও অন্যান্য ম্যাচের সমীকরণ মিলিয়ে সেমিফাইনালে খেলা সম্ভব। তবে দুটি ম্যাচ জিতলে সম্ভাবনা খানিকটা উজ্জ্বল হবে। সাকিব তাকিয়ে সেই সম্ভাবনার দিকে।

মধুর জয়ে সেমির দিকে বাংলাদেশ

আফগানিস্তনের বিপক্ষে সহজ জয়ে ভারতকে চাপে ফেলে দিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবারের মধুর জয় বাংলাদেশকে এগিয়ে দিল সেমিফাইনালের দিকে। সম্ভাবনার সোপান তৈরি হল কীভাবে?

ম্যাচের শুরুতে এই বিশ্বকাপের কনিষ্ঠ স্পিনার মুজিবের হাতে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। সেই ধাক্কা তারা সামলে সাকিব ও তামিমের ব্যাটে। অভিজ্ঞতার যে কোনো বিকল্প হয় না, তা বেশ বোঝা গেল। ৬৯ বলে ৫১ রানের ইনিংস সাকিব আল হাসানকে পৌঁছে দেয় এই বিশ্বকাপে রান সংগ্রহের তালিকায় শীর্ষে। শুধু তাই নয়, এই ইনিংস বাংলাদেশকে সাহায্য করে মিডলঅর্ডারের ওপর থেকে চাপ সরিয়ে দিতে। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে সাকিব বিশ্বকাপে ১০০০ রানের মাইলফলক টপকে যান।

মুশফিকুর রহিমের মতো উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান যে কোনো দলের সম্পদ। গুরুত্বপূর্ণ ৮৩ রানের (৮৭ বলে) ইনিংস খেলে তিনি বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে দেন শক্ত ভিতের ওপর। লোয়ার মিডলঅর্ডারে মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক হোসেনের ইনিংস বাংলাদেশকে পার করে দেয় ২৫০। বিশেষত মোসাদ্দেকের ২৪ বলে ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংস বাংলাদেশের মনোবল বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে।

আফগান ওপেনারদের ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিং চিন্তার কারণ হয়েছিল বাংলাদেশ শিবিরে। প্রথম ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে তারা পৌঁছে যায় ৪৮ রানে। বাংলাদেশের পেসাররা উইকেট নিতে ব্যর্থ হলে, অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা বল তুলে দেন অভিজ্ঞ সাকিবের হাতে। অধিনায়কের বিশ্বাসের মর্যাদা রেখে প্রথম ওভারেই আফগান ওপেনার রহমত শাহকে ফেরত পাঠান সাকিব। পাঁচ উইকেট নিয়ে সাকিব শুধু যে আফগানিস্তানের ব্যাটিংঅর্ডারে ধস নামিয়ে দেন তাই নয়, একই ম্যাচে পাঁচ উইকেট ও অর্ধশত রান করে তিনি ছুঁয়ে ফেলেন যুবরাজ সিংকে। এটাই বাংলাদেশের জয়ের পথ মসৃণ করে দেয়।

আফগানদের অভিজ্ঞতার অভাব আবার এই ম্যাচে প্রকট হয়ে ওঠে। রানিং বিটউইন দ্য উইকেট খারাপ হওয়ায় তাদের আস্কিং রানরেট বাড়তে থাকে। যা সামলাতে যখন তারা আক্রমণাত্মক হতে যায় তখন দেরি হয়ে গেছে। বাংলাদেশি স্পিনার মেহেদী হাসানের কৃপণ বোলিং আটকে রাখে আফগানদের রানের গতি, যা চাপ তৈরি করে আফগান ব্যাটিংয়ে। রশিদ ও নবীর ওপর অতিনির্ভরশীলতায় ভুগছে আফগানরা। বাকি খেলোয়াড়রা যতদিন না আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছেন ততদিন বিপদে থাকবে আফগানিস্তান। এই জয়ের পর কি বাংলাদেশ নিজেদের নিয়ে যেতে পারবে সেমিফাইনালে? সেই অপেক্ষায় এখন বাংলাদেশের সমর্থকরা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×