ম্যানচেস্টারের জাদুঘর...

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিনিধি, ম্যানচেস্টার থেকে

রিশাদ রাইমাম বুয়েট থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছেন। বৃত্তি নিয়ে এসেছেন ম্যানচেস্টারে। তার ভাগ্যটা ভালো বলতে হয়। ইংল্যান্ডে এসেই কাজ পেয়েছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভেন্যু ওল্ড ট্রাফোর্ডে। তার দায়িত্ব ছিল মাঠের নিরাপত্তা দেখার। কাছ থেকে অনেক তারকাকে দেখেছেন। কিন্তু খেলা নিয়ে তার বিশেষ আগ্রহ ছিল না। শহরটা সম্পর্কে তার ভালো ধারণা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সময় পেলে ম্যানচেস্টারের জাদুঘর একবার ঘুরে দেখতে পারেন।’

বিকেল ৫টার মধ্যে সব বন্ধ হয়ে যায়- দোকানপাট, অফিস-আদালত সব। ম্যাকডোনাল্ড সারা রাত খোলা থাকে। আমাদের যখন কাজ শেষ হয় তখন জাদুঘর বন্ধ হয়ে যায়। ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির আসল তৃষ্ণা তো মেটায় জাদুঘর। দেখতে না পারার আফসোস তো থাকেই। ভেতরে ঢুকতে না পারলেও কাছ থেকে কয়েকটা জাদুঘর দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। ম্যানচেস্টারে অর্ধশতাধিক জাদুঘর রয়েছে। প্রতিটিরই আলাদা বৈশিষ্ট্য। বাইরে থেকে আসা অধিকাংশ দর্শনার্থীর পছন্দের তালিকায় এক নম্বরে ইম্পেরিয়াল যুদ্ধ জাদুঘর। ইতালি থেকে

আসা বিশ্ববিল্যায়ের দুই ছাত্র জাদুঘর থেকে বেরিয়ে জানালেন, ‘আমরা এই মাত্র যুদ্ধের ময়দান থেকে বের হলাম।’

ম্যানচেস্টার বিশ্বের প্রথম শিল্পনগরী হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছিল। বিশ্বের শিল্পবিপ্লব ম্যানচেস্টার শহর থেকেই শুরু হয়। টেক্সটাইলসামগ্রী নির্মাণ ও সুতা শিল্পের এটি একটি প্রধান কেন্দ্র। ১৯ শতকের শুরুতে এর নাম ছিল কটনোপোলিশ। কয়লা খনির শ্রমিকদের জীবনযাত্রা কেমন ছিল, সেটা দেখার জন্য কয়েকশ’ বছর আগে যাওয়ার দরকার হয় না। ম্যানচেস্টারের শিল্প জাদুঘরে গেলেই সবকিছুর ছোঁয়া পাওয়া যায়। প্রতিটি মূর্তির সঙ্গে মিল রেখে শব্দ সেট করা হয়েছে। কয়লা খনির মধ্যে গেলে কী ধরনের শব্দ হয়, তারা কীভাবে ওই সময়ে খনির মধ্যে জীবনযাপন করতেন- সবই ফুটে উঠেছে। খনির মধ্যে কী ধরনের গন্ধ থাকত, সেটাও স্প্রে করে দেয়া হয়েছে। সেখানে গেলেই কয়েকশ’ বছর পেছনে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মনে হতে পারে। এভাবেই বর্ণনা করলেন আয়ারল্যান্ড থেকে আসা পাওলিয়াসো।

তবে আরবিস বিল্ডিংয়ে জাতীয় ফুটবল জাদুঘর বাইরে থেকে আলাদা সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছে! এই জাদুঘর আগে ছিল ল্যাংকাশায়ারে। ২০১২ সালে ম্যানচেস্টারে স্থানান্তর হয়। জানানো হয়, ম্যানচেস্টারে জাদুঘর থেকে বেশি আয় হবে। ফুটবল জাদুঘরের পিচ গ্যালারিতে রাখা হয়েছে এফএ কাপ ও প্রিমিয়ার লিগের রেপ্লিকা ট্রফি। হল অব ফেমে যারা আছেন তাদের সবার নাম। গ্যালারিতে ম্যাচের আবহ, দর্শক, লড়াইয়ের আবহ, ছেলে ও মেয়েদের বিভিন্ন সময়ের বল, স্টেডিয়াম, মিডিয়া গ্যালারি, ক্লাব, খেলোয়াড়। রয়েছে ১৯৩০ বিশ্বকাপের ফুটবল, ১৯৬৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের বল- জুলে রিমে ট্রফির রেপ্লিকাও।

বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরেও যেখানে ভর্তুকির টাকা ছাড়া চলে না, সেখানে ম্যানচেস্টারে এত জাদুঘর থাকার পরও সেখানে হাজার হাজার মানুষ পাউন্ড খরচ করে ঐতিহ্য-ইতিহাস চাক্ষুষ করেন।