‘প্রতিভার মুকুল ফুল হয়ে ফুটতে পারে না’

  স্পোর্টস রিপোর্টার ২১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘হ্যান্ডবল উন্নয়নে ইন্সটিটিউটের কোনো বিকল্প নেই। ভারতেও এমন ইন্সটিটিউট দেখেছি। কিন্তু আমাদের দেশে নেই। আমি সব সময় চাইতাম, দেশে একটি হ্যান্ডবলের ইন্সটিটিউট হোক’, কথাগুলো বললেন সাবেক তারকা হ্যান্ডবল খেলোয়াড় কামরুন নাহার স্বপ্না। তিনি যোগ করেন, ‘আমি হ্যান্ডবল ও ভলিবল খেলেছি। এখন নারী ফুটবলারদের নিয়েই কাজ করতে চাই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেলে তারা অনেক সুনাম কুড়িয়েছে। দেশের নারী ফুটবলাররা উপকৃত হবে বলেই আমার বিশ্বাস।’

দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একসময়ের উজ্জ্বল মুখ ছিলেন স্বপ্না। ১৯৯২ সালে ঢাকা আঞ্চলিক স্কুল ও মাদ্রাসা হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা দলকে চ্যাম্পিয়ন করাতে সাহায্য করেন। ঢাকা মহানগরী স্কুল হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় ঢাকা ভিকারুননিসা নূনের হয়ে প্রথম হন। ডেনমার্কে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক স্কুল হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের পক্ষে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিভাগীয় বেক্সিমকো মহিলা হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন এবং আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতায় অ্যাথলেটিক্সে রানার্সআপ হন। ১৯৯৪ সালে স্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় হাই জাম্প, লংজাম্প, জেভলিন থ্রো ও ডিসকাসে রানার্সআপ হয়েছিলেন। ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিভাগ ও ঢাকা জেলার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হয়ে হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় এবং ঢাকা বিভাগীয় বেক্সিমকো মহিলা হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন। ১৯৯৫ সালে ঢাকা জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় বর্শা নিক্ষেপ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় এবং হাই জাম্পে প্রথম হন। একই বছর নারী হ্যান্ডবলে চ্যাম্পিয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ ইয়ুথ কমনওয়েলথ হ্যান্ডবলে বাংলাদশে জাতীয় দলের হয়ে রানার্সআপ হন। ১৯৯৬ সালে ভারতের জয়পুরে অনুষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে রানার্সআপ করাতে বড় ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৯ সালে ঢাকা জেলা পর্যায়ে মহিলা বর্শা নিক্ষেপ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় ও চাকতি নিক্ষেপে তৃতীয় হন। ২০০০ সালে শীতল মহিলা হ্যান্ডবল লিগে আরামবাগ ক্রীড়া চক্রের হয়ে চ্যাম্পিয়নও হন। একই বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ষষ্ঠ কমনওয়েলথ নারী হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতায় কোরিয়া দলের লিয়াজোঁ অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। পরে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত হ্যান্ডবল রেফারিং কোর্সে প্রশিক্ষণ নেন। ২০০১ সালে প্রথম বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় গেমস ভলিবলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অংশ নিয়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করান। একই বছর বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় গেমস ভলিবলে স্বর্ণ জেতেন এবং শীতল মহিলা হ্যান্ডবল লিগে আরামবাগ ক্রীড়া চক্রের হয়ে খেলে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেন। ক্যারিয়ারে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ডেনমার্ক, জার্মান, ফ্রান্স, দুবাই, সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তান, মিসর সফর করেছেন।

স্বপ্নার কথা, ‘ওই সময়ে মহিলা ক্রীড়ায় বাংলাদেশের তেমন কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছিল না। অলিম্পিক কিংবা এশিয়াডে তো প্রশ্নই আসে না। সাফ আসরেও আমরা পাইনি কোনো স্বর্ণপদক। সেখানে কমনওয়েলথ যুব হ্যান্ডবলে রানার্সআপ হতে পারাটাই ছিল বড় পাওয়া।’ ওই টুর্নামেন্টের মাধ্যমেই পাদপ্রদীপের আলোয় এসেছিলেন স্বপ্না। দিনে দিনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন নারী ক্রীড়াঙ্গনে প্রজন্মের প্রতিভূ রূপে।

তিনি দু’ডজনেরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়া শিশুশিল্পী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন। বর্তমানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাই টিভিতে সিনিয়র সংবাদ পাঠিকা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

স্বপ্নার মতে, ‘সমাজের মৌলিক একক পরিবার। শিশুর বিকাশের চাবি এখানে। উজ্জ্বল বিকাশের প্রয়োজনে চাই পারিবারিক সমর্থন। উৎসাহ, উদ্দীপনা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা প্রদান। আমাদের দেশে এরই অভাব প্রকট। কখনও পরিবারের সদস্যদের উৎসাহ থাকে না। আর উৎসাহ থাকলেও তৈরি হয়। সামর্থ্য সংকট। এসব কারণে প্রবল ইচ্ছা কিংবা প্রতিভার মুকুল ফুল হয়ে ফুটতে পারে না।’ তিনি যোগ করেন, ‘এক্ষেত্রে আমারবেলায় সাধারণের তুলনায় একটু ব্যতিক্রম ছিল। মা-বাবার দিক থেকে উৎসাহের অভাব ছিল না। আর মামা-চাচারাও সাধ্যমতো এগিয়ে এসেছেন।’

হ্যান্ডবলের সাবেক এ তারকা মনে করেন, শহুরে ছাঁচে ফেলা মেয়েদের দিয়ে সাধারণত তেমন কিছু হয় না। গ্রাম থেকে খুঁজে বের করতে হবে প্রাকৃতিক প্রতিভা। এজন্য প্রয়োজন নিবেদিত প্রাণ সংগঠক। প্রমীলা ক্রীড়ায় যারা পথিকৃত, তারাও নিজেদের মান অনুযায়ী স্বীকৃতি পাননি। সেজন্য নবীনরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।’

এদেশের ক্রীড়াঙ্গনে তারকা খেলোয়াড়ের প্রচণ্ড অভাব। সারা বিশ্বে টেনিস, অ্যাথলেটিক্স, সুইমিং, বিচ ভলিবল, ফুটবল, হকি, ক্রিকেট, জিমন্যাস্টিক্সের ভুবনমোহিনী তারকা খেলোয়াড়রা দর্শকদের মধ্যে যে উত্তেজনা তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে, এদেশের খেলোয়াড়রা তা পারছেন না। তবে দেশের মহিলা ক্রীড়ার সুদর্শনা তারকা হিসেবে হৃদয়কাড়া মডেল স্বপ্নার অবস্থান ছিল সবার শীর্ষে। স্বপ্নার কথা, ‘শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে এদেশের মহিলারা আজ ক্রীড়াঙ্গনেও তাদের অবস্থান মজবুত করতে সক্ষম হয়েছে। এদের দেখাদেখি আজ অন্যরাও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইনডোর গেমসে এদেশের মেয়েরা ভালো ফলাফল করে বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। ইনডোরের পাশাপাশি আউটডোর গেমসেও আজ মেয়েরা এগিয়ে আসছে। হ্যান্ডবল, ফুটবল, শুটিং, অ্যারচারি, ভলিবল, খোখো, ক্রিকেট, টেবিল টেনিস, ব্যাডমিন্টন, জুডো, কারাতেও মহিলাদের মধ্যে সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু ক্রীড়াঙ্গনে মহিলা ক্রীড়াবিদদের উপস্থিতি সহজে প্রচার মাধ্যমে পৌঁছাচ্ছে না। যোগ্যতা থাকার পরও জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারসহ যথাযথ সম্মান মেলে না নারী ক্রীড়াবিদদের।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×