একটি সফর, অনেক প্রশ্ন

  স্পোর্টস ডেস্ক ০১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শ্রীলংকা,

প্রশ্ন উঠতে পারে, বিশ্বকাপের পর খেলোয়াড়দের বিশ্রাম না দিয়ে কী প্রয়োজন ছিল তাড়াহুড়ো করে অসম্পূর্ণ দলকে শ্রীলংকায় পাঠানোর। হাতেনাতে ফল পাওয়া গেছে। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৩-০তে হেরে হোয়াইটওয়াশ হল তামিম ইকবালের বাংলাদেশ। কলম্বোয় কাল ১২২ রানে হার। বাংলাদেশের টানা পঞ্চম হার ওডিআইতে। ২০১৪ সালের পর যা সবচেয়ে খারাপ ফল। পাঁচ বছর আগে টানা ১২টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে হারতে হয়েছিল। পাঁচ বছর পরও অবস্থা খুব একটা সুখকর নয়।

উল্টোদিকে শ্রীলংকাকে দেখুন। বিশ্বকাপ তাদেরও ভালো যায়নি। ইংল্যান্ড থেকে ফিরে নিজেদের আঙিনায় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আয়োজন করে লাভই হল তাদের। নিজেদের মাঠে শেষবার তারা ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি জিতেছিল চার বছর আগে। ২০১৫ ফিরিয়ে আনল তারা ২০১৯-এ। আবারও ট্রফি জিতল। বিশ্বকাপে তাদের যত ব্যর্থতা ও হতাশা- সব পেছনে ফেলে আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি পেয়ে গেল ৩-০তে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিতে।

দশ দলের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অষ্টম হওয়ার পর প্রয়োজন ছিল আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের জন্য খানিকটা সময় নেয়া। নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে এবং পরিকল্পনার ডালা সাজিয়ে পূর্ণ শক্তিতে ফেরার পর টুর্নামেন্ট ও সিরিজে ঝাঁপিয়ে পড়া। কিন্তু বিসিবির অদূরদর্শিতায় তড়িঘড়ি করে মাশরাফি, সাকিবহীন খণ্ডিত দল শ্রীলংকায় পাঠিয়ে আত্মবিশ্বাস আরও তলানিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সত্যি বলতে, তামিম ইকবালের বাংলাদেশ এই সিরিজে নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই তাদের ব্যর্থতা চোখে পড়ার মতো। ফলাফলই তার প্রমাণ। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ব্যাট করা সাকিবের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের অন্য ব্যাটসম্যানদের সামনে। তারা তা পারেননি। ব্যর্থ হয়েছেন নিদারুণভাবেই।

এই সিরিজে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবালও পারেননি দুঃসময় থেকে নিজেকে টেনে তুলতে। তিন ম্যাচে তার রান ২১ (১৯, ০ ও ২)। কাল অবশ্য তিনি বোল্ড হননি। ক্যাচ দিয়েছেন। এরআগে শেষ ছয় ইনিংসেই বোল্ড হন এই বাঁ-হাতি। ব্যাটে খরা ঘোচানোর জন্য বাংলাদেশ দলের সাবেক কোচ জেমি সিডন্সের সাহায্যপ্রার্থী হয়েছিলেন তামিম। তার টিপসও কোনো কাজে আসেনি।

হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর তার খেদ, ‘সিরিজের প্রথমদিন থেকে আমি বলে এসেছি যে, দায়িত্ব নেয়াটাই মূল। ১২ বছর ধরে খেলছি আমি। অন্যরাও খেলছে অনেকদিন ধরে। হতাশার কারণ হল এই যে, দলের প্রয়োজনের সময় আমরা দায়িত্ব নিয়ে খেলছি না। এ নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। ঘুরে দাঁড়াতে হবে প্রবলভাবে।’ নিজের ফর্মহীনতা সম্পর্কে তার মত, ‘বিশ্বকাপ থেকে রান পাচ্ছি না আমি। এমন নয় যে, চেষ্টা করছি না। যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। হতে পারে আমার আরও চেষ্টা করা উচিত ছিল। নিজের দুর্বলতা নিয়ে আমাকে কাজ করতে হবে। ফিরে আসতে হবে প্রবলভাবে।’

এই সিরিজ তামিমকে হতাশা ছাড়া আর কিছুই দেয়নি। উল্টোদিকে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে দিয়েছে দুই হাত ভরে। তৃতীয় ও শেষ ওডিআইতে শ্রীলংকার ১২২ রানের জয়ে তার একার অবদান ৮৭। একাধারে তিনি ম্যাচসেরা এবং সিরিজসেরা। হতাশার অলিগলি পেরিয়ে আবারও সাফল্যের রাজপথে ম্যাথিউস। স্কুটার ও বাইক পেয়েছেন পুরস্কার হিসেবে। সাফল্যের সূত্র কী? পুরস্কার নিতে এসে স্মিত হেসে শ্রীলংকার সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘কখনও নিজের ওপর আস্থা হারাতে নেই। ১২-১৬ মাস হতাশায় কেটেছে আমাদের। সুখের বিষয়, শক্তিশালী বাংলাদেশের বিপক্ষে ছেলেরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এজন্যই বলি, নিজের সামর্থ্যরে প্রতি আস্থা রাখুন। অভিজ্ঞতা কাজে লাগান। এখান থেকেই আমাদের নতুন শুরু। এবার আমরা তাকিয়ে নিউজিল্যান্ড সিরিজের দিকে।’

স্কোর কার্ড

শ্রীলংকা

রান বল ৪ ৬

আভিশকা এলবিডব্লু ব শফিউল ৬ ১৪ ০ ০

করুনারত্নে ক মুশফিক ব তাইজুল ৪৬ ৬০ ৪ ০

কুশাল পেরেরা ক মুশফিক ব রুবেল ৪২ ৫১ ৫ ০

কুশাল মেন্ডিস ক সাব্বির ব সৌম্য ৫৪ ৫৮ ৫ ১

ম্যাথিউস ক মুশফিক ব সৌম্য ৮৭ ৯০ ৮ ১

শানাকা ক সাব্বির ব শফিউল ৩০ ১৪ ২ ২

জয়সুরিয়া ক তামিম ব শফিউল ১৩ ১৭ ১ ১

হাসারাঙ্গা নটআউট ১২ ৫ ২ ০

আকিলা ক সাব্বির ব সৌম্য ০ ১ ০ ০

রাজিথা নটআউট ০ ০ ০ ০

অতিরিক্ত ৪

মোট (৮ উইকেটে, ৫০ ওভারে) ২৯৪

উইকেট পতন : ১/১৩, ২/৯৬, ৩/৯৮, ৪/১৯৯, ৫/২৫১, ৬/২৮০, ৭/২৮৪, ৮/২৮৪।

বোলিং : শফিউল ইসলাম ১০-২-৬৮-৩, রুবেল হোসেন ৯-১-৫৫-১, তাইজুল ইসলাম ১০-১-৩৪-১, মেহেদী হাসান মিরাজ ৯-০-৫৯-০, সৌম্য সরকার ৯-০-৫৬-৩, মাহমুদউল্লাহ ৩-০-২২-০।

বাংলাদেশ রান বল ৪ ৬

এনামুল ক আভিশকা ব রাজিথা ১৪ ২৪ ২ ০

তামিম ক কুশাল পেরেরা ব রাজিথা ২ ৬ ০ ০

সৌম্য ব আকিলা ৬৯ ৮৬ ৫ ১

মুশফিকুর ক কুশাল মেন্ডিস ব শানাকা ১০ ১৫ ১ ০

মিঠুন ক লাহিরু ব শানাকা ৪ ১১ ০ ০

মাহমুদউল্লাহ ক কুশাল পেরেরা ব শানাকা ৯ ১২ ১ ০

সাব্বির ক বদলি ব লাহিরু ৭ ১৭ ০ ০

মিরাজ ক বদলি ব লাহিরু ৮ ৬ ২ ০

তাইজুল নটআউট ৩৯ ২৮ ৫ ১

শফিউল স্টা. কুশাল পেরেরা ব হাসারাঙ্গা ১ ৫ ০ ০

রুবেল রানআউট ২ ৬ ০ ০

অতিরিক্ত ৭

মোট (অলআউট, ৩৬ ওভারে) ১৭২

উইকেট পতন : ১/৪, ২/২৯, ৩/৪৬, ৪/৬০, ৫/৮৩, ৬/১০৫, ৭/১১৭, ৮/১৪৩, ৯/১৪৯, ১০/১৭২।

বোলিং : শেহান জয়সুরিয়া ৬-০-৪০-০, কাসুন রাজিথা ৫-০-১৭-২, আকিলা দনঞ্জয়া ১০-০-৪৪-১, দাসুন শানাকা ৬-০-২৭-৩, হাসারাঙ্গা ৪-১-১৬-১, লাহিরু কুমারা ৫-০-২৬-২।

ফল : শ্রীলংকা ১২২ রানে জয়ী।

সিরিজ : তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ৩-০তে জয়ী শ্রীলংকা।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও ম্যান

অব দ্য সিরিজ : অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস (শ্রীলংকা)।

ঘটনাপ্রবাহ : বাংলাদেশ-শ্রীলংকা সিরিজ কলম্বো-২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×