খেলার চেয়ে দ্বন্দ্ব বেশি যেখানে

  ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর ব্যুরো ২৫ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রিকেট ছাড়া যশোরে অন্য কোনো খেলাধুলা নেই। অবশ্য সেটাও অনিয়মিত। ফুটবল, হ্যান্ডবল, হকি, ভলিবল, সাঁতার- সম্ভাবনাময় এসব খেলাধুলা নিয়ে যেন ভাবারও কেউ নেই। জেলার খেলোয়াড়দের অভিভাবক যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থা। অথচ সংস্থাটি নিজেই নেতৃত্ব সংকটে ভুগছে। আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া দু’পক্ষ। নানা মেরুকরণে বিলম্বিত হচ্ছে নির্বাচন। ফলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যশোরের ক্রীড়াঙ্গনে। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ বলেন, ‘ভোটার তালিকায় অসঙ্গতির অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে অচিরেই নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে।

জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২১ এপ্রিল বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব কবির। তার নেতৃত্বাধীন কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হয় অনেক আগেই। নিয়মতান্ত্রিকভাবে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে নির্বাচন সম্পন্ন করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। এখান থেকেই শুরু জটিলতার। কিন্তু সেই জটিলতা কাটাতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দ্বারস্থ হলে জেলা প্রশাসককে আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) সদস্য সচিব করে সাত সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন দেয় দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এই অভিভাবক সংস্থাটি। এই কমিটি যথাসময়ে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারায় ফের ক্রীড়া পরিষদের দ্বারস্থ হন কর্মকর্তারা। এবারও তারা পত্র মারফত জানান, গঠিত অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করে। সে মোতাবেক নির্বাচন কমিশনার গঠনপূর্বক ঘোষিত হয় নির্বাচনী তফসিল।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জুলাই জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ছিল নানা অসঙ্গতি। যেমন- মৃত ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। আবার জীবিত কাউন্সিলরের নাম ছিল না ভোটার তালিকায়। যা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে শুরু হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। জেলা ক্রীড়া সংস্থার আজীবন সদস্য শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরীর নাম ভোটার তালিকায় না থাকায় নির্বাচন কমিশনার, বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে শুরু করে সম্ভাব্য স্থানে ধরনা দিয়েও কোনো সুফল পাননি তিনি। ফলে ১৮ জুলাই যশোর বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে মামলা (নং ১৬০/১৯) করেন। যার কারণে স্থগিত হয়ে যায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন।

২৯ জুলাই মামলার শুনানি হয়। ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা প্রণয়নে দায়িত্বশীলরা নিজেদের ভুল স্বীকার করেন। ফলে যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণা, ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে শরিফুল ইসলাম সরু চৌধুরীসহ যোগ্য ব্যক্তিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত এবং মৃত ব্যক্তিদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে নিদের্শ দেন সিনিয়র সহকারী জজ তরুণ বাছার। পাশাপাশি মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। মামলা নিষ্পত্তির ফলে অনেকের কাছেই মনে হয়েছিল নির্বাচনী সংকট দূর হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে চিত্র ভিন্ন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আসাদুজ্জামান মিঠু বলেন, ‘বিগত কমিটি চার বছরে ক্রিকেট ছাড়া অন্য কোনো খেলার আয়োজন করেনি। তারা কোনো লিগেরও আয়োজন করতে পারেনি। ওই কমিটির ব্যর্থতার কারণেই অ্যাডহক কমিটি গঠিত হয়। বিগত কমিটির ব্যর্থতায় ক্রীড়াঙ্গনের স্থবিরতার সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘গঠনতন্ত্রের আলোকে দ্রুত নির্বাচন দেয়া হোক। নির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে ক্রীড়া সংস্থা পরিচালিত হলে অচলাবস্থা কেটে যাবে বলে আমি আশাবাদী।’

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব কবীর বলেন, ‘ক্রীড়া সংগঠকের অভাব। রাজনীতিবিদরা ক্রীড়াঙ্গনে ঢুকে গেছে। যাদের অনেকেই ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট নয়।

এজন্য ক্রীড়াঙ্গনে অচলাবস্থা চলছে।’ তিনি বলেন, মামলার কারণে সর্বশেষ নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল। সেই মামলা আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। ঈদের পর পুনরায় তফসিল ঘোষণার কথা। এখনও হয়নি। দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×