বিদেশি ফুটবল কোচ ও খেলোয়াড়রা কর ফাঁকি দিচ্ছেন

  মোজাম্মেল হক চঞ্চল ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রাজিলিয়ান এডসন সিলভা ডিডো, ইতালির ফ্যাবিও লোপেজ
ব্রাজিলিয়ান এডসন সিলভা ডিডো, ইতালির ফ্যাবিও লোপেজ

দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। হুন্ডির মাধ্যমে এ অর্থ বিদেশ পাঠানো হচ্ছে। বিদেশি ফুটবল কোচ ও খেলোয়াড়রা আয়কর ফাঁকি দিচ্ছেন।

মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত হচ্ছেন তারা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) হাফ ডজন বিদেশি কোচ কাজ করছেন। তাদের সঙ্গে বিসিবির চুক্তির কপি বোর্ড অব ইনভেস্টমেন্টে (বিওআই) জমা দেয়া হয়। তারপর নিরাপত্তা ক্লিয়ারেন্সের জন্য পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই থেকে ছাড়পত্র নেয়া হয়।

যখনই বিদেশি কোচরা বিসিবিতে কাজ শুরু করেন, তখনই তাদের আয়ের অর্থ থেকে আয়কর কেটে নিয়ে রাজস্ব বিভাগে জমা দেয় বিসিবি। যখন একজন কোচ মেয়াদ শেষে বাংলাদেশ থেকে চলে যান, তখন ইমিগ্রেশনে ট্যাক্স পরিশোধের সনদপত্র দেখাতে হয়। আর এখানেই রয়েছে ফুটবল কোচদের শুভঙ্করের ফাঁকি।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) একই কায়দায় বিদেশি কোচদের নিয়ে আসে। নিয়মানুযায়ী কোচদের আয়ের ওপর ধার্যকৃত ৩০ ভাগ আয়কর রাজস্ব বিভাগে বাফুফের জমা দেয়ার কথা। কিন্তু বাফুফে বছরের পর বছর ধরে করের টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয় না। কর ফাঁকি দেয়ার জন্যই কোচদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ থাকা অবস্থায় বরখাস্ত করা হয়। কিংবা বিদেশি কোচরাই পালিয়ে যান।

ব্রাজিলিয়ান এডসন সিলভা ডিডো, সার্বিয়ার জোরান দর্দোভিজ, ক্রোয়েশিয়ার রবার্ট রুবচিচ, মেসিডোনিয়ার নিকোলা ইলিয়েভস্কি, নেদারল্যান্ডসের লোডভিক ডি ক্রুইফ ও রেনে কোস্টার এবং ইতালির ফ্যাবিও লোপেজের আয়কর রাজস্ব বিভাগে জমা দেয়নি বাফুফে। এসব কোচের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চাকরিচ্যুত অথবা চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। মাসিক ১০ লাখ টাকা বেতন দিয়ে ব্রিটিশ বংশদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পল স্মল্লিকে পুষছে বাফুফে। প্রায় দেড় বছর ধরে বাংলাদেশে কাজ করা স্মল্লিকে পৌনে

দু’কোটি টাকা বেতন-ভাতা দেয়া হচ্ছে। স্মল্লির আয়কর বাবদ প্রায় ৫৭ লাখ টাকা রাজস্ব জমা হওয়ার কথা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। যার একটি টাকাও দেয়নি বাফুফে। গত বছরের মাঝামাঝি বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পাওয়া অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্ড্রু অর্ড মাসিক আট লাখ টাকা বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তার আয়করের টাকাও জমা দেয় না বাফুফে।

এদিকে বাংলাদেশে ১২ বছর ধরে চালু রয়েছে পেশাদার ফুটবল লীগ। বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে ক্লাবগুলোর চুক্তির কপি বাফুফের কাছে জমা থাকে। বিদেশি ফুটবলারদের সঙ্গে চুক্তি হয় মার্কিন ডলারে। অথচ ব্যাংকের মাধ্যমে না পাঠিয়ে বিদেশি ফুটবলাররা হুন্ডির মাধ্যমে ডলার পাঠিয়ে দেন। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিদেশি ফুটবলাররা প্রতি বছর কমপক্ষে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেন, যার পুরোটাই হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করেন। আয়করও দেন না তারা। শুধু যে বিদেশি খেলোয়াড়রাই আয়কর দেন না তা নয়, দেশি খেলোয়াড়রাও আয়কর ফাঁকি দিচ্ছেন। আর এ আয়কর ফাঁকির ঘটনা ঘটছে বাফুফের জ্ঞাতসারেই।

অন্যদিকে ফুটবলাররা মাদক ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। সম্প্রতি পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুলের নেতৃত্বে সিআইডির মানি লন্ডারিং শাখা ক’জন বিদেশি ফুটবলারকে অপকর্মের দায়ে আটক করেছিল। রাজধানীর বিভিন্ন বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন ওইসব বিদেশি। খ্যাপ খেলার নামে ঢাকার বাইরেও তারা ছড়িয়ে পড়েছেন। প্রায়ই তারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। ঢাকার বিভিন্ন থানায় বিদেশি ফুটবলারদের নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ‘প্রায়ই বিভিন্ন অভিজাতপাড়ার ক্লাব/ডিসকোতে হানা দিয়ে বিদেশিদের আটক করা হলেও পরে ফুটবলার পরিচয়ে তাদের ছেড়ে দিতে হয়। এসব খেলোয়াড় ইয়াবা, হেরোইন ও ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন। এদের আটক করা হলে সংশ্লিষ্ট ক্লাবের কর্মকর্তারা এসে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তদবির করেন। ’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter