এমন হারে কোথায় মুখ লুকাবেন সাকিবরা?

  স্পোর্টস ডেস্ক ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এ এমন এক জয়, আফগানরা যা মনে রাখবে অনেকদিন। শুধু কি আফগানরা? ক্রিকেটবিশ্ব কি নয়? নিজেদের মাত্র তৃতীয় টেস্টে ২২৪ রানের অবিস্মরণীয় জয়ে নিশ্চয় কাল কাবুল থেকে কান্দাহারে আনন্দের ঢেউ বয়ে গেছে। চট্টগ্রামের সাগরিকায় সাগরের ঢেউ হয়ে ওঠা রশিদ খানকেও মনে রাখবে আফগানরা। টেস্টে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেকে প্রথম ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি ও ১১ উইকেট আর কারও নেই। রশিদ খান সেই বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন সাকিব আল হাসানদের বিপক্ষে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া এই লেগ-স্পিনার সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে ম্যাচসেরার পুরস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন।

সোমবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আফগানিস্তান নিজেদের তৃতীয় টেস্ট ম্যাচে পেয়েছে দ্বিতীয় জয়। নিজেদের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় টেস্টে দ্বিতীয় জয় পাওয়া দ্বিতীয় দল হল আফগানিস্তান। প্রথম এই নজির তৈরি করে অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই টেস্টে তাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের ওপর নিজেদের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে আফগানিস্তান সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে। আফগান ব্যাটসম্যানরা নিজেদের প্রয়োগ করেছেন যথার্থভাবে। সাকিব, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহরা এখানে দৃষ্টিকটুভাবে ব্যর্থ। তাদের নিবেদনের ঘাটতি ছিল পীড়াদায়ক। একটিবারও তাদের খেলা দেখে মনে হয়নি যে, তারা নিজেদের ১১৫তম টেস্ট খেলছেন।

রহমত শাহ সেঞ্চুরি করেছেন আফগানদের হয়ে। বাংলাদেশের কারও শতরানের ইনিংস নেই। রহমত আফগানদের প্রথম ‘ব্যানারম্যান’ হওয়ার নজির তৈরি করেছেন। অভিষিক্ত ইব্রাহিম জাদরান ও আফসার জাজাই যেভাবে টেস্ট মেজাজের ব্যাটিং করেছেন, তা থেকে মোসাদ্দেকদের শেখার আছে। দুই আফগান ব্যাটসম্যানই ব্যাটিং টেকনিকের চমৎকার প্রদর্শনী করেছেন। প্রয়োজনের সময়ে মূল্যবান রানও এসেছে তাদের ব্যাট থেকে।

উল্টোদিকে ভুল পরিকল্পনা এবং নিবেদন প্রয়োগের ঘাটতি বাংলাদেশকে নিতান্ত অসহায় করে তুলেছিল চট্টগ্রাম টেস্টে। ব্যাটসম্যানরা এমনভাবে ব্যাটিং করেছেন যেন বনভোজনে বেরিয়েছেন। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান সংবাদ সম্মেলনে এসে রসিকতা করেছেন। তিনি হয়তো জানেন না যে, নিয়তির অভিধানে রসিকতা বলে কোনো শব্দ নেই। প্রকৃতি সদয় হলে হয়তো চট্টগ্রাম টেস্টে নবীনদের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার লজ্জা এড়ানো যেত। কিন্তু প্রকৃতিও শেষ বিকেলে সহানুভূতি প্রত্যাহার করে নেয় রহস্যজনক কারণে! সারা দিন আকাশ অভিমান করে রইল। মাঝখানে ১৩ বল হওয়ার পর আবারও বৃষ্টি। মনে হচ্ছিল, বৃষ্টি বুঝি পর্দা নামিয়ে দেবে শেষতক। কিন্তু ১৭.৪ ওভার প্রকৃতির অনুমোদনে খেলা হল। সেই সঙ্গে সর্বনাশও।

১১৫ টেস্ট খেলা দল কোথায় মুখ লুকাবে?

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×