‘বারবার একইভাবে আউট হলে নিজেরই তো লজ্জা লাগে’
jugantor
‘বারবার একইভাবে আউট হলে নিজেরই তো লজ্জা লাগে’
হার নিয়ে যা বললেন দুই সাবেক অধিনায়ক

  স্পোর্টস রিপোর্টার  

১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাকিব, মুশফিকদের শরীরী ভাষা, ব্যাটিংয়ের ধরন যেন বদলে গেছে। চট্টগ্রামে একমাত্র টেস্টে হারার পর ত্রিদেশীয় টি ২০ সিরিজেও আফগানদের কাছে পরাজয়বরণ। দুই সাবেক অধিনায়ক মনে করছেন, ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রান্তিকাল চলছে। এখান থেকে বের হতে না পারলে বিপদে পড়তে হবে। সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা ও গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর তাগিদ, এখান থেকে দ্রুত বের হওয়ার জন্য ক্রিকেটারদের সবার সহযোগিতা করা উচিত।

বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ শফিকুল হক। তিনি বলেন, ‘এত বছর খেলার পরও একেকজনকে দেখে মনে হচ্ছে তারা ব্যাটই ধরতে পারে না। সবে ক্রিকেট খেলাটা শিখেছে। ধারাবাহিকভাবে বাজে শট খেলে আউট হচ্ছে তারা। এমন নয় যে প্রতিপক্ষ অনেক ভালো করছে। বারবার একইভাবে আউট হলে নিজেরই তো লজ্জা লাগার কথা।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের পর থেকে পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছে ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রান্তিকাল চলছে। এ অবস্থা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে আরও ভয়ানক আকার ধারণ করবে। হারটা তখন মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়বে।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে রোববার শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। রশিদ খানদের চাপে ফেলে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চাপ সামলে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয় সেটা টেস্ট থেকেই প্রমাণ করে চলেছে আফগানরা। আরও একবার সেটা প্রমাণ করল তারা। তবে শফিকুল হক শুধু ক্রিকেটারদের দোষ দিতে রাজি নন। তিনি সব ব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন।

এই সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান বলেন, ‘মাঠে ক্রিকেটাররা খেলেন। তাদেরকেই বুঝতে হবে কীভাবে চাপ সামলে এগিয়ে যেতে হয়। আবার তাদের যারা পরিচালনা করছে তাদের দায়িত্ব আরও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত, কীভাবে তাদের ফর্মে ফেরানো যাবে, এসব নিয়ে সঠিক একটা পরিকল্পনা করা খুবই জরুরি। প্রয়োজনে ভালো মনোবিদ এনে তাদের অবস্থা যাচাই করে কার্যপ্রণালী দিতে হবে।’

গাজী আশরাফ হোসেন মনে করছেন, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকার পরও এভাবে পথ হারালে প্রতিপক্ষের জন্য জেতা সহজ হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং অর্ডারে একটিমাত্র পরিকল্পনা নিয়েই নেমেছিল বাংলাদেশ। ভাবতে অবাক লাগে এ কেমন পরিকল্পনা? টিম ম্যানেজমেন্ট কীভাবে চিন্তা করে নিল যে, ব্যাটসম্যান ফর্মে নেই। তাকে উপরে খেলালেই ফর্মে ফেরার সঙ্গে ম্যাচ জিতিয়ে দেবে। মুশফিক ও লিটন ওপেনিংয়ে নেমে দৃষ্টিকটুভাবে আউট হয়েছে। যেটা দেখে খারাপ লাগে।’

তিনি বলেন, ‘দুটি ম্যাচ খেলার পর সবাই বুঝে গেছেন আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বোলিংয়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য। তবে এখন দল যেমনই করুক না কেন এটা আমাদেরই দল। মন্দ সময় যাচ্ছে। তাই তাদের পাশে থাকতে হবে আমাদের।’

গ্রুপপর্বের বাকি তিনটি ম্যাচ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। আগামীকাল জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। প্রথম ম্যাচে আফিফের দুর্দান্ত ফিফটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ।

‘বারবার একইভাবে আউট হলে নিজেরই তো লজ্জা লাগে’

হার নিয়ে যা বললেন দুই সাবেক অধিনায়ক
 স্পোর্টস রিপোর্টার 
১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সাকিব, মুশফিকদের শরীরী ভাষা, ব্যাটিংয়ের ধরন যেন বদলে গেছে। চট্টগ্রামে একমাত্র টেস্টে হারার পর ত্রিদেশীয় টি ২০ সিরিজেও আফগানদের কাছে পরাজয়বরণ। দুই সাবেক অধিনায়ক মনে করছেন, ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রান্তিকাল চলছে। এখান থেকে বের হতে না পারলে বিপদে পড়তে হবে। সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা ও গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর তাগিদ, এখান থেকে দ্রুত বের হওয়ার জন্য ক্রিকেটারদের সবার সহযোগিতা করা উচিত।

বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ শফিকুল হক। তিনি বলেন, ‘এত বছর খেলার পরও একেকজনকে দেখে মনে হচ্ছে তারা ব্যাটই ধরতে পারে না। সবে ক্রিকেট খেলাটা শিখেছে। ধারাবাহিকভাবে বাজে শট খেলে আউট হচ্ছে তারা। এমন নয় যে প্রতিপক্ষ অনেক ভালো করছে। বারবার একইভাবে আউট হলে নিজেরই তো লজ্জা লাগার কথা।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের পর থেকে পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছে ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রান্তিকাল চলছে। এ অবস্থা দ্রুত কাটিয়ে উঠতে না পারলে আরও ভয়ানক আকার ধারণ করবে। হারটা তখন মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়বে।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে রোববার শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। রশিদ খানদের চাপে ফেলে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চাপ সামলে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয় সেটা টেস্ট থেকেই প্রমাণ করে চলেছে আফগানরা। আরও একবার সেটা প্রমাণ করল তারা। তবে শফিকুল হক শুধু ক্রিকেটারদের দোষ দিতে রাজি নন। তিনি সব ব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন।

এই সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান বলেন, ‘মাঠে ক্রিকেটাররা খেলেন। তাদেরকেই বুঝতে হবে কীভাবে চাপ সামলে এগিয়ে যেতে হয়। আবার তাদের যারা পরিচালনা করছে তাদের দায়িত্ব আরও বেশি। এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত, কীভাবে তাদের ফর্মে ফেরানো যাবে, এসব নিয়ে সঠিক একটা পরিকল্পনা করা খুবই জরুরি। প্রয়োজনে ভালো মনোবিদ এনে তাদের অবস্থা যাচাই করে কার্যপ্রণালী দিতে হবে।’

গাজী আশরাফ হোসেন মনে করছেন, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে থাকার পরও এভাবে পথ হারালে প্রতিপক্ষের জন্য জেতা সহজ হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং অর্ডারে একটিমাত্র পরিকল্পনা নিয়েই নেমেছিল বাংলাদেশ। ভাবতে অবাক লাগে এ কেমন পরিকল্পনা? টিম ম্যানেজমেন্ট কীভাবে চিন্তা করে নিল যে, ব্যাটসম্যান ফর্মে নেই। তাকে উপরে খেলালেই ফর্মে ফেরার সঙ্গে ম্যাচ জিতিয়ে দেবে। মুশফিক ও লিটন ওপেনিংয়ে নেমে দৃষ্টিকটুভাবে আউট হয়েছে। যেটা দেখে খারাপ লাগে।’

তিনি বলেন, ‘দুটি ম্যাচ খেলার পর সবাই বুঝে গেছেন আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বোলিংয়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য। তবে এখন দল যেমনই করুক না কেন এটা আমাদেরই দল। মন্দ সময় যাচ্ছে। তাই তাদের পাশে থাকতে হবে আমাদের।’

গ্রুপপর্বের বাকি তিনটি ম্যাচ চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। আগামীকাল জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। প্রথম ম্যাচে আফিফের দুর্দান্ত ফিফটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ।