অ্যাশেজের শুরু থেকে শেষ

আধুনিক ‘ডন’ স্মিথ

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এএফপি, লন্ডন

দ্য ওভালে অ্যাশেজের শেষ টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ১৩৫ রানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ২-২-এ শেষ করেছে ইংল্যান্ড। আগের সিরিজ জেতায় অ্যাশেজের ভস্মাধার অস্ট্রেলিয়ার দখলে থাকলেও ক্রিকেটের প্রাচীনতম দ্বৈরথ এবার দারুণ রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে। একনজরে দেখে নেয়া যাক এবারের অ্যাশেজের শুরু থেকে শেষ-

অনবদ্য স্মিথ

ফুটবলে ‘ভিন্ গ্রহের খেলোয়াড়’ বলা হয় লিওনেল মেসিকে। এবারের অ্যাশেজে নিজেকে সেই পর্যায়ে নিয়ে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং স্তম্ভ স্টিভেন স্মিথ। সিরিজসেরা স্মিথের ব্যাটে ছিল অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা। মাত্র সাত ইনিংসেই করেছেন ৭৭৪ রান। গড় ১১০.৫৭। জফরা আর্চারের বাউন্সারের আঘাতে মিস করেছেন তিনটি ইনিংস। অন্যথায় এক সিরিজে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের সর্বোচ্চ ৯৭৪ রানের রেকর্ড হয়তো ভেঙে দিতেন স্মিথ। তবে ডনের রেকর্ড ভাঙতে না পারলেও টেস্টে নিজেকে আধুনিক ডনের আসনে বসাতে পেরেছেন তিনি।

ইংল্যান্ডের প্রাণ স্টোকস

দেশকে প্রথম বিশ্বকাপ জিতিয়েই ইংলিশ ক্রিকেটের কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠেছেন বেন স্টোকস। সেই সুখস্মৃতি টাটকা থাকতেই অ্যাশেজে নতুন জাদু দেখালেন এই অলরাউন্ডার। দুই সেঞ্চুরিতে করেছেন চারশ’র বেশি রান। এরমধ্যে হেডিংলি টেস্টে তার ম্যাচ জেতানো ১৩৫* মহাকাব্যিক ইনিংসটি জায়গা করে নিয়েছে ক্রিকেটীয় রূপকথায়। ব্যাটে-বলে ঝড় তোলার পাশাপাশি দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়েও মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন স্টোকস। ইংল্যান্ডের জন্য তিনিই সিরিজসেরা।

নড়বড়ে ব্যাটিং

অস্ট্রেলিয়ার স্মিথ ও মার্নাস লাবুশেন এবং ইংল্যান্ডের স্টোকস ও ররি বার্নস ছাড়া দু’দলের বাকি সব ব্যাটসম্যানই নিদারুণ হতাশ করেছেন। এরমধ্যে সুপার ফ্লপ ডেভিড ওয়ার্নার। বিশ্বকাপ মাতানো অসি ওপেনার এবারের অ্যাশেজে ৯.৫ গড়ে ১০ ইনিংসে করেছেন মাত্র ৯৫ রান। টেস্ট ইতিহাসে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে কোনো ওপেনারের এমন ডাহা ফেল করার নজির নেই। ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটিও ছিল নড়বড়ে। নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি জো রুটও। সিরিজে ইংল্যান্ড অধিনায়কের ব্যাটিং গড় ৩২.৫। তিনবার আউট হয়েছেন শূন্য রানে।

আগুনে বোলিং

প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের অন্তরাত্মা কাঁপিয়ে দু’দলের পেসাররাই আগুন ঝরিয়েছেন এবারের অ্যাশেজে। অস্ট্রেলিয়ার দুই বোলিং হিরো প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউড মিলে নিয়েছেন ৪৯ উইকেট। সিরিজের প্রথম টেস্টে চোটের থাবায় জেমস অ্যান্ডারসনকে হারানো ইংল্যান্ডও গতির জবাব গতিতেই দিয়েছে। স্টুয়ার্ট ব্রড নিয়েছেন ২৩ উইকেট। অভিষিক্ত জফরা আর্চার ছিলেন আরও ভয়ংকর। চার টেস্টেই আর্চার নিয়েছেন ২২ উইকেট। পাশাপাশি গোলার মতো বাউন্সারে ছড়িয়েছেন ত্রাস।

টেস্টের সুদিন

মহানাটকীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল ওয়ানডে ক্রিকেটকে যেমন অক্সিজেন জুগিয়েছে, রোমাঞ্চ ঠাসা অ্যাশেজ তেমনি টেস্টে ফিরিয়েছে যৌবন। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অভিষেক সিরিজে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর সমানে সমান লড়াই টেস্টের প্রতি আকৃষ্ট করেছে নতুন প্রজন্মকে। টানটান উত্তেজনার সঙ্গে ছিল চরম নাটকীয়তা। স্মিথ ও আর্চারের খণ্ড লড়াই বা স্টোকসের সেই মহাকাব্য বহুদিন ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে গেঁথে থাকবে। সমতার অ্যাশেজে তাই আসল বিজয়ী টেস্ট।