অপেক্ষায় ছিলেন সাকিব
jugantor
অপেক্ষায় ছিলেন সাকিব

  স্পোর্টস রিপোর্টার  

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বোলিংটা হচ্ছিল ভালোই। কিন্তু ব্যাট হাতে দেখা যাচ্ছিল না সাকিব আল হাসানের চেনা চেহারা। বাংলাদেশ অধিনায়ক অবশ্য জানতেন, হারিয়ে ফেলেননি নিজেকে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো ইনিংসের পর বললেন, অপেক্ষায় ছিলেন এমন ইনিংসের। শনিবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বোলিংটা হয়েছিল দুর্দান্ত। এরপর সাকিবের অপরাজিত ৭০ রানে ভর করে চার উইকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান সাত উইকেটে ১৩৮ রান করে। জবাবে ১৯ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। এর আগে টানা চার টি ২০ ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে হেরেছে সাকিবরা।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে প্রথম ইনিংসে সাকিব আউট হয়েছিলেন ১১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪ করলেও ফিরেছিলেন বাজে শটে। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে সাকিবের ব্যাট থেকে এসেছে ১, ১৫ ও ১০। অবশেষে আপন রূপে ফিরেছেন শনিবার। আফগানদের কাছে টানা চার টি ২০ হারার পর অধিনায়কের সৌজন্যে জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাকিবের কাছে প্রশ্ন গেল, ‘টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে ব্যাট হাতে ভোগান্তির পর ইনিংসটি নিশ্চয়ই স্বস্তির?’ সাকিব ঠিক একমত হলেন না ভোগান্তি ব্যাপারটির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রান পাচ্ছিলাম না। কিন্তু আমার কখনই মনে হয়নি যে আমি ফর্মে নেই। জানতাম, উইকেটে কিছু সময় কাটালেই চলবে। সেটিও ছিল সে ফ সময়ের ব্যাপার। আজকে কাউকে না কাউকে ইনিংস টেনে নিতে হতো। সৌভাগ্যবশত, দলের জন্য কাজটি আমি করতে পেরেছি।’ 
সাকিব পেরেছেন বলেই জিততে পেরেছে বাংলাদেশ। নইলে মাঝারি রান তাড়ায়ও দল হোঁচট প্রায় খেয়েই বসেছিল। দুই ওপেনার ভালো করেননি। পরে ৫৮ রানের জুটি গড়লেও মুশফিকুর রহিম পারেননি ইনিংস লম্বা করতে। মিডল অর্ডারে কেউ পারেননি অধিনায়ককে সঙ্গ দিতে। সাকিব একাই বলতে গেলে এগিয়ে নিয়েছেন দলকে। শেষদিকে অবশ্য ১৯ বলে ৩৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে সঙ্গী পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেনকে।
সাকিব জানালেন, এই ইনিংসে তিনি টিকে থাকতে ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই বাঁ-হাতি বলেন, ‘টুর্নামেন্টজুড়েই আমাদের বোলিং দারুণ হয়েছে, ফিল্ডাররা সহায়তা করেছে। কিন্তু ব্যাটিংই বারবার দলকে ভুগিয়েছে। টি ২০তে সবাই একসঙ্গে রান করবে না। কিন্তু যেদিন যে রান করবে, তাকে দলের জন্য শেষ পর্যন্ত টিকতে হবে। চেষ্টা করেছি সেটি করতে।’ 
এদিকে নিয়ম রক্ষার হলেও বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি ছিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ফাইনালের আগে নিজেদের প্রমাণ করার জন্য হলেও জয়টা খুবই জরুরি ছিল। সেই জয় এসেছে বাংলাদেশের। কিন্তু এক জয়েই বাংলাদেশ অতি উৎসাহে উড়ছে না বলেই জানালেন, মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ফাইনালের আগে এমন একটি ম্যাচ জেতা খুব প্রয়োজন ছিল। তবে জিতেছি বলে আকাশে উড়ছি না, আবার হেরে গেলেও মাটিতে পড়ে যেতাম না। তবে এই জয় নিশ্চিতভাবেই আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’ তিনি বলেন, ‘ফাইনালে যে কোনো কিছুই হতে পারে। তবে জেতা সব সময়ই আত্মবিশ্বাস দেয়। শেষ দুটি ম্যাচে আমার ধারাবাহিক ভালো খেলেছি। এভাবে ফাইনাল খেলতে পারলে সিরিজ জেতা কঠিন কিছু না।’
স্কোর কার্ড
আফগানিস্তান
রান বল ৪ ৬
রাহমানউল্লাহ ক ও ব মোস্তাফিজ ২৯ ২৭ ২ ২
জাজাই ক মোস্তাফিজ ব আফিফ ৪৭ ৩৫ ৬ ২
আসগর ক নাজমুল ব আফিফ ০ ২ ০ ০
নাজিবউল্লাহ ব সাইফউদ্দিন ১৪ ১৬ ০ ১
নবী এলবিডব্লু ব সাকিব ৪ ৬ ০ ০
গুলবাদিন রানআউট ১ ১ ০ ০
শফিকউল্লাহ নটআউট ২৩ ১৭ ২ ১
জানাত ক মোস্তাফিজ ব শফিউল ৩ ৪ ০ ০
রশিদ নটআউট ১১ ১৩ ০ ০
অতিরিক্ত ৬
মোট (৭ উইকেটে, ২০ ওভারে) ১৩৮
উইকেট পতন : ১/৭৫, ২/৭৫, ৩/৮০, ৪/৮৮, ৫/৯৬, ৬/১০৯, ৭/১১৪।
বোলিং : সাইফউদ্দিন ৪-০-২৩-১, শফিউল ৪-০-২৪-১, সাকিব ৪-০-২৪-১, মাহমুদউল্লাহ ১-০-১৬-০, মোস্তাফিজ ৩-০-৩১-১, মোসাদ্দেক ১-০-১০-০, আফিফ ৩-১-৯-২।
বাংলাদেশ
রান বল ৪ ৬
লিটন ক আসগর ব মুজিব ৪ ১০ ০ ০
নাজমুল ক রশিদ ব নাভেন ৫ ৮ ০ ০
সাকিব নটআউট ৭০ ৪৫ ৮ ১
মুশফিক ক শফিকউল্লাহ ব জানাত ২৬ ২৫ ০ ১
মাহমুদউল্লাহ এলবিডব্লু ব রশিদ ৬ ৮ ০ ০
সাব্বির ক রহমতউল্লাহ ব নাভেন ১ ২ ০ ০
আফিফ ব রশিদ ২ ৪ ০ ০
মোসাদ্দেক নটআউট ১৯ ১২ ১ ০
অতিরিক্ত ৬
মোট (৬ উইকেটে, ১৯ ওভারে) ১৩৯
উইকেট পতন : ১/৯, ২/১২, ৩/৭০, ৪/৯৩, ৫/৯৬, ৬/১০৪।
বোলিং : মুজিব ৪-০-১৯-১, নাভেন ৪-০-২০-২, জানাত ৩-০-৩১-১, গুলবাদিন ২-০-১৬-০, নবী ৩-০-২৪-০, রশিদ ৩-০-২৭-২।
ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী। 
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)।

অপেক্ষায় ছিলেন সাকিব

 স্পোর্টস রিপোর্টার 
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বোলিংটা হচ্ছিল ভালোই। কিন্তু ব্যাট হাতে দেখা যাচ্ছিল না সাকিব আল হাসানের চেনা চেহারা। বাংলাদেশ অধিনায়ক অবশ্য জানতেন, হারিয়ে ফেলেননি নিজেকে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো ইনিংসের পর বললেন, অপেক্ষায় ছিলেন এমন ইনিংসের। শনিবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বোলিংটা হয়েছিল দুর্দান্ত। এরপর সাকিবের অপরাজিত ৭০ রানে ভর করে চার উইকেটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান সাত উইকেটে ১৩৮ রান করে। জবাবে ১৯ ওভারে ছয় উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। এর আগে টানা চার টি ২০ ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে হেরেছে সাকিবরা।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে প্রথম ইনিংসে সাকিব আউট হয়েছিলেন ১১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪ করলেও ফিরেছিলেন বাজে শটে। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম তিন ম্যাচে সাকিবের ব্যাট থেকে এসেছে ১, ১৫ ও ১০। অবশেষে আপন রূপে ফিরেছেন শনিবার। আফগানদের কাছে টানা চার টি ২০ হারার পর অধিনায়কের সৌজন্যে জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাকিবের কাছে প্রশ্ন গেল, ‘টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে ব্যাট হাতে ভোগান্তির পর ইনিংসটি নিশ্চয়ই স্বস্তির?’ সাকিব ঠিক একমত হলেন না ভোগান্তি ব্যাপারটির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রান পাচ্ছিলাম না। কিন্তু আমার কখনই মনে হয়নি যে আমি ফর্মে নেই। জানতাম, উইকেটে কিছু সময় কাটালেই চলবে। সেটিও ছিল সে ফ সময়ের ব্যাপার। আজকে কাউকে না কাউকে ইনিংস টেনে নিতে হতো। সৌভাগ্যবশত, দলের জন্য কাজটি আমি করতে পেরেছি।’
সাকিব পেরেছেন বলেই জিততে পেরেছে বাংলাদেশ। নইলে মাঝারি রান তাড়ায়ও দল হোঁচট প্রায় খেয়েই বসেছিল। দুই ওপেনার ভালো করেননি। পরে ৫৮ রানের জুটি গড়লেও মুশফিকুর রহিম পারেননি ইনিংস লম্বা করতে। মিডল অর্ডারে কেউ পারেননি অধিনায়ককে সঙ্গ দিতে। সাকিব একাই বলতে গেলে এগিয়ে নিয়েছেন দলকে। শেষদিকে অবশ্য ১৯ বলে ৩৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে সঙ্গী পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেনকে।
সাকিব জানালেন, এই ইনিংসে তিনি টিকে থাকতে ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই বাঁ-হাতি বলেন, ‘টুর্নামেন্টজুড়েই আমাদের বোলিং দারুণ হয়েছে, ফিল্ডাররা সহায়তা করেছে। কিন্তু ব্যাটিংই বারবার দলকে ভুগিয়েছে। টি ২০তে সবাই একসঙ্গে রান করবে না। কিন্তু যেদিন যে রান করবে, তাকে দলের জন্য শেষ পর্যন্ত টিকতে হবে। চেষ্টা করেছি সেটি করতে।’
এদিকে নিয়ম রক্ষার হলেও বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি ছিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ফাইনালের আগে নিজেদের প্রমাণ করার জন্য হলেও জয়টা খুবই জরুরি ছিল। সেই জয় এসেছে বাংলাদেশের। কিন্তু এক জয়েই বাংলাদেশ অতি উৎসাহে উড়ছে না বলেই জানালেন, মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ফাইনালের আগে এমন একটি ম্যাচ জেতা খুব প্রয়োজন ছিল। তবে জিতেছি বলে আকাশে উড়ছি না, আবার হেরে গেলেও মাটিতে পড়ে যেতাম না। তবে এই জয় নিশ্চিতভাবেই আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’ তিনি বলেন, ‘ফাইনালে যে কোনো কিছুই হতে পারে। তবে জেতা সব সময়ই আত্মবিশ্বাস দেয়। শেষ দুটি ম্যাচে আমার ধারাবাহিক ভালো খেলেছি। এভাবে ফাইনাল খেলতে পারলে সিরিজ জেতা কঠিন কিছু না।’
স্কোর কার্ড
আফগানিস্তান
রান বল ৪ ৬
রাহমানউল্লাহ ক ও ব মোস্তাফিজ ২৯ ২৭ ২ ২
জাজাই ক মোস্তাফিজ ব আফিফ ৪৭ ৩৫ ৬ ২
আসগর ক নাজমুল ব আফিফ ০ ২ ০ ০
নাজিবউল্লাহ ব সাইফউদ্দিন ১৪ ১৬ ০ ১
নবী এলবিডব্লু ব সাকিব ৪ ৬ ০ ০
গুলবাদিন রানআউট ১ ১ ০ ০
শফিকউল্লাহ নটআউট ২৩ ১৭ ২ ১
জানাত ক মোস্তাফিজ ব শফিউল ৩ ৪ ০ ০
রশিদ নটআউট ১১ ১৩ ০ ০
অতিরিক্ত ৬
মোট (৭ উইকেটে, ২০ ওভারে) ১৩৮
উইকেট পতন : ১/৭৫, ২/৭৫, ৩/৮০, ৪/৮৮, ৫/৯৬, ৬/১০৯, ৭/১১৪।
বোলিং : সাইফউদ্দিন ৪-০-২৩-১, শফিউল ৪-০-২৪-১, সাকিব ৪-০-২৪-১, মাহমুদউল্লাহ ১-০-১৬-০, মোস্তাফিজ ৩-০-৩১-১, মোসাদ্দেক ১-০-১০-০, আফিফ ৩-১-৯-২।
বাংলাদেশ
রান বল ৪ ৬
লিটন ক আসগর ব মুজিব ৪ ১০ ০ ০
নাজমুল ক রশিদ ব নাভেন ৫ ৮ ০ ০
সাকিব নটআউট ৭০ ৪৫ ৮ ১
মুশফিক ক শফিকউল্লাহ ব জানাত ২৬ ২৫ ০ ১
মাহমুদউল্লাহ এলবিডব্লু ব রশিদ ৬ ৮ ০ ০
সাব্বির ক রহমতউল্লাহ ব নাভেন ১ ২ ০ ০
আফিফ ব রশিদ ২ ৪ ০ ০
মোসাদ্দেক নটআউট ১৯ ১২ ১ ০
অতিরিক্ত ৬
মোট (৬ উইকেটে, ১৯ ওভারে) ১৩৯
উইকেট পতন : ১/৯, ২/১২, ৩/৭০, ৪/৯৩, ৫/৯৬, ৬/১০৪।
বোলিং : মুজিব ৪-০-১৯-১, নাভেন ৪-০-২০-২, জানাত ৩-০-৩১-১, গুলবাদিন ২-০-১৬-০, নবী ৩-০-২৪-০, রশিদ ৩-০-২৭-২।
ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ)।