ফুটবলের ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর’
jugantor
ফুটবলের ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর’

  স্পোর্টস রিপোর্টার  

২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৩৭ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আজও ফুটবলার ও দর্শকদের মধ্যে গেঁথে রয়েছে একটি বেদনাদায়ক দৃশ্য। মাঠ থেকেই হাতকড়া পরিয়ে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল দেশের চার তারকা ফুটবলারকে। যে দৃশ্য আজও ভুলতে পারেন না অনেকেই। শনিবার ছিল সেই ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর।

১৯৮২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা লিগে আবাহনী মোহামেডানের শেষ ম্যাচ ছিল। খেলায় এক গোলে পিছিয়ে ছিল আবাহনী লিমিটেড। শেষ বাঁশি বাজার ১০ মিনিট আগে বিতর্কিত গোল নিয়ে বাধে শোরগোল। আবাহনীর অধিনায়ক কাজী আনোয়ারের একটি ক্রস বাঁক খেয়ে গোলে প্রবেশের মুখে তা রুখে দেন মোহামেডানের তরুণ গোলকিপার মোহাম্মদ মহসীন। মহসীন ওই ম্যাচে কাজী সালাউদ্দিনের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দারুণ উজ্জীবিত। মহসীন আনোয়ারের ক্রসটি ফিরিয়ে দিলেও তা মুহূর্তের জন্য গোললাইন স্পর্শ করেছিল। আবাহনীর খেলোয়াড়রা মরিয়া হয়ে দাবি জানান গোলের। কিন্তু রেফারি মুনীর হোসেন আর লাইন্সম্যান অনড় থাকেন তাদের সিদ্ধান্তে। মাঠের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতে। আবাহনী ও মোহামেডানের সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া শুরু করে পুলিশ। উত্তেজিত সমর্থকরা স্টেডিয়ামের বাইরে পল্টন-জিপিও, বায়তুল মোকাররম মসজিদ, বিজয়নগর এলাকায়ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অগ্নিস্ফূলিঙ্গের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে সেই সন্ধ্যার ঢাকা। মাঠের গোলযোগ একটু কমলে খেলোয়াড়রা ফিরে যান যার যার ক্লাবে। আবাহনী ও মোহামেডানের বেশ ক’জন ফুটবলার ছিলেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে। অনেকেই চলে যান যার যার বাড়িতে। কেউ কেউ চলে যান নিজ ক্লাবে। রাত গভীর হলে সেনাবাহিনী, বিডিআর আর পুলিশের একটি যৌথ বাহিনী অভিযান চালায় ক্রীড়া পরিষদের জাতীয় দলের ক্যাম্পে। তাদের আরও একটি দল অভিযান চালায় ধানমণ্ডির আবাহনী ক্লাবে। গোলাম রব্বানী হেলালসহ আবাহনীর প্রায় বেশ ক’জন খেলোয়াড়কে আটক করা হয় ক্লাব থেকে। জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় কাজী আনোয়ার আর আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নুকে। আর গুলশানের বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় কাজী সালাউদ্দিনকে। সামরিক আদালতের বিচারে সালাউদ্দিন ও চুন্নুকে তিন মাসের জেল দেয়া হয়। হেলালকে ছয় মাস আর কাজী আনোয়ারকে দেয়া হয় এক বছরের কারাদণ্ড। ঢাকার বাইরে জেল খাটতে পাঠিয়ে দেয়া হয় দেশের এই শীর্ষ ফুটবলারদের। ফলে ২১ সেপ্টেম্বর দিনটিকে ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর হিসেবে আজও মনে রাখেন ফুটবল সমর্থকরা।

ফুটবলের ‘ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর’

 স্পোর্টস রিপোর্টার 
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

৩৭ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আজও ফুটবলার ও দর্শকদের মধ্যে গেঁথে রয়েছে একটি বেদনাদায়ক দৃশ্য। মাঠ থেকেই হাতকড়া পরিয়ে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল দেশের চার তারকা ফুটবলারকে। যে দৃশ্য আজও ভুলতে পারেন না অনেকেই। শনিবার ছিল সেই ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর।

১৯৮২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা লিগে আবাহনী মোহামেডানের শেষ ম্যাচ ছিল। খেলায় এক গোলে পিছিয়ে ছিল আবাহনী লিমিটেড। শেষ বাঁশি বাজার ১০ মিনিট আগে বিতর্কিত গোল নিয়ে বাধে শোরগোল। আবাহনীর অধিনায়ক কাজী আনোয়ারের একটি ক্রস বাঁক খেয়ে গোলে প্রবেশের মুখে তা রুখে দেন মোহামেডানের তরুণ গোলকিপার মোহাম্মদ মহসীন। মহসীন ওই ম্যাচে কাজী সালাউদ্দিনের পেনাল্টি ঠেকিয়ে দারুণ উজ্জীবিত। মহসীন আনোয়ারের ক্রসটি ফিরিয়ে দিলেও তা মুহূর্তের জন্য গোললাইন স্পর্শ করেছিল। আবাহনীর খেলোয়াড়রা মরিয়া হয়ে দাবি জানান গোলের। কিন্তু রেফারি মুনীর হোসেন আর লাইন্সম্যান অনড় থাকেন তাদের সিদ্ধান্তে। মাঠের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতে। আবাহনী ও মোহামেডানের সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া শুরু করে পুলিশ। উত্তেজিত সমর্থকরা স্টেডিয়ামের বাইরে পল্টন-জিপিও, বায়তুল মোকাররম মসজিদ, বিজয়নগর এলাকায়ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। অগ্নিস্ফূলিঙ্গের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে সেই সন্ধ্যার ঢাকা। মাঠের গোলযোগ একটু কমলে খেলোয়াড়রা ফিরে যান যার যার ক্লাবে। আবাহনী ও মোহামেডানের বেশ ক’জন ফুটবলার ছিলেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে। অনেকেই চলে যান যার যার বাড়িতে। কেউ কেউ চলে যান নিজ ক্লাবে। রাত গভীর হলে সেনাবাহিনী, বিডিআর আর পুলিশের একটি যৌথ বাহিনী অভিযান চালায় ক্রীড়া পরিষদের জাতীয় দলের ক্যাম্পে। তাদের আরও একটি দল অভিযান চালায় ধানমণ্ডির আবাহনী ক্লাবে। গোলাম রব্বানী হেলালসহ আবাহনীর প্রায় বেশ ক’জন খেলোয়াড়কে আটক করা হয় ক্লাব থেকে। জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় কাজী আনোয়ার আর আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নুকে। আর গুলশানের বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় কাজী সালাউদ্দিনকে। সামরিক আদালতের বিচারে সালাউদ্দিন ও চুন্নুকে তিন মাসের জেল দেয়া হয়। হেলালকে ছয় মাস আর কাজী আনোয়ারকে দেয়া হয় এক বছরের কারাদণ্ড। ঢাকার বাইরে জেল খাটতে পাঠিয়ে দেয়া হয় দেশের এই শীর্ষ ফুটবলারদের। ফলে ২১ সেপ্টেম্বর দিনটিকে ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর হিসেবে আজও মনে রাখেন ফুটবল সমর্থকরা।