বাংলাদেশের কাতার-পরীক্ষা

বাংলাদেশ-কাতার ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচ আজ ঢাকায়

  স্পোর্টস ডেস্ক ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ

রোমাঞ্চের সঙ্গে আছে শঙ্কাও। ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৩ এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের হোম ম্যাচে আজ ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শক্তিধর কাতারের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য আক্ষরিক অর্থেই অগ্নিপরীক্ষা। ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ কাতার। এশিয়ান কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন তারা। এমন শক্তিশালী একটি দলের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ এক ধরনের প্রাপ্তি। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে ভূমিধস ঘটলে মুহূর্তেই উধাও হয়ে যাবে সব রোমাঞ্চ। গত বছর এশিয়ান গেমসে কাতার অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে ১-০ গোলে হারিয়ে বড় এক চমক উপহার দিয়েছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। এবারের লড়াইটা মূল দলের। মঞ্চও আলাদা। তবু সেই ম্যাচের প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশ দলের ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। তাত্ত্বিকভাবে কথাটা মিথ্যা নয়, কিন্তু বাস্তবতা বড় নির্মম।

অনূর্ধ্ব-২৩ দল আর জাতীয় দল এক নয়। এই কাতার অনেক শক্তিশালী। বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের মেরু ব্যবধানের স্পষ্ট প্রতিফলন ফিফা র‌্যাংকিংয়েও। নির্দিষ্ট করে বললে কাতারের ১২৫ ধাপ পেছনে বাংলাদেশ। কাতারের অবস্থান ৬২ নম্বরে। বাংলাদেশ ১৮৭তম। র‌্যাংকিংয়ে বিশাল এই ফারাক বাংলাদেশের হৃদয় খুঁড়ে পুরনো বেদনা জাগিয়ে তুলতে পারে। ১৯৯৬ সালে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ছিল ১১০ নম্বরে। আর ২০১০ সালে কাতার ছিল ১১৩ নম্বরে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে কাতারের মাত্র তিন বছর পর বাংলাদেশের অভিষেক। ১৯৭০ সালে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে বাহরাইনের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল কাতার। অন্যদিকে ১৯৭৩ সালের ২৬ জুলাই কুয়ালালামপুরে নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে থাইল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছিল বাংলাদেশ।

শুরুর দিনগুলোতে বাংলাদেশের জন্য কাতার মোটেও দূর আকাশের তারা ছিল না। কাতার জাতীয় দলকে রুখে দেয়ার রেকর্ডও আছে বাংলাদেশের। ১৯৭৯ সালে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে দু’দলের প্রথম সাক্ষাতে কাতারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছিল বাংলাদেশ। পরের গল্পটা কাতারের উত্থান আর বাংলাদেশের পতনের। প্রথম সাক্ষাতের পর ২০০৬ সালে আবারও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে দেখা হয় দু’দলের। সেবার দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৪-১ ও ৩-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। তখনও অবশ্য এশিয়ার পরাশক্তি হয়ে ওঠেনি কাতার। পেট্রো ডলারের জোরে ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক নির্বাচিত হওয়ার পর কাতারকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া কাতার তার জবাব দিয়েছে মাঠেই। ফাইনালে জাপানের মতো দলকে উড়িয়ে দিয়ে এ বছর প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপ জিতেছে তারা।

গত বছর প্রীতি ম্যাচে হারিয়েছে সুইজারল্যান্ডকে। বিশ্বকাপ বাছাই তাদের জন্য শুধুই প্রস্তুতিপর্ব। একসময় লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার উঠতি প্রতিভাদের নাগরিকত্ব দিয়ে জাতীয় দলে খেলাত কাতার। প্রবল সমালোচনার মুখে সেখান থেকে সরে এসে গত দু’বছরে ‘দেশজ সম্পদ’ নিয়েই শূন্য থেকে শিখরে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দলটি। ফুটবলে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি সুষ্ঠু পরিকল্পনাও কাতারের উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে। এশিয়ান কাপ জয়ের পর নিজেদের আরও উঁচুতে তুলে ধরতে এ বছর অতিথি দল হিসেবে কোপা আমেরিকায় খেলেছে কাতার। টক্কর দিয়েছে মেসির আর্জেন্টিনার সঙ্গে। অন্যদিকে এশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের কোনো দলের বিপক্ষে এখনও জয়ের স্বাদ না পাওয়া বাংলাদেশ ঘরের মাঠে কাতার-পরীক্ষার প্রস্তুতি সেরেছে ভুটানের সঙ্গে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলে। যে ভুটানকে ২০১৫ সালে ১৫-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল কাতার! র‌্যাংকিংয়ের চেয়েও বড় ফারাক দু’দলের দূরদৃষ্টিতে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×