রদ্রিগোর হ্যাটট্রিক : বিধ্বংসী রিয়াল

  স্পোর্টস ডেস্ক ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুই ম্যাচ হাতে রেখেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর টিকিট কেটে ফেলল জুভেন্টাস, বায়ার্ন মিউনিখ ও পিএসজি। পারফরম্যান্স আহামরি না হলেও তিন দলই পেয়েছে প্রত্যাশিত জয়। দগলাস কস্তার শেষ মুহূর্তের গোলে লোকোমোতিভ মস্কোর মাঠ থেকে ২-১ ব্যবধানের নাটকীয় জয় নিয়ে ফিরেছে জুভেন্টাস। ঘরের মাঠে অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে বায়ার্ন জিতেছে ২-০ গোলে। আর প্যারিসে মাউরো ইকার্দির দেয়া একমাত্র গোলে ক্লাব ব্রুগেকে হারিয়েছে পিএসজি। জিতলে নকআউটপর্ব নিশ্চিত হয়ে যেত ম্যানসিটি ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদেরও। কিন্তু তিন পয়েন্টের সমীকরণ মেলাতে পারেনি তারা। আতালান্তার মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে অপেক্ষা বেড়েছে ম্যানসিটির। আর অ্যাটলেটিকো ২-১ গোলে হেরেছে লেভারকুসেনের কাছে। শেষ ষোলোর হিসাব এক পাশে সরিয়ে রাখলে বুধবার রাতের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ইউরো মঞ্চে রিয়াল মাদ্রিদের স্বরূপে ফেরা। ব্রাজিলীয় সেনসেশন রদ্রিগোর দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে গালাতাসারেকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বিধ্বংসী রিয়াল।

‘এ’ গ্রুপের প্রথম তিন ম্যাচে নিজেদের হারিয়ে খোঁজা রিয়াল বার্নাব্যুতে গোল উৎসব করেই পাল্টা জবাব দিল দুঃসময়কে। রদ্রিগোর হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি জোড়া গোল করেছেন করিম বেনজেমা। গোল পেয়েছেন অধিনায়ক সের্গিও রামোসও। তবে দল হিসেবে রিয়ালের জ্বলে ওঠার দিনে সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন ১৮ বছর বয়সী রদ্রিগো। ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিষেকটা রাঙালেন তিনি নিখুঁত হ্যাটট্রিকে। তিন গোলের একটি বাঁ পায়ে, একটি ডান পায়ে ও অন্যটি হেডে। যাকে বলে পারফেক্ট হ্যাটট্রিক। মেসি ও রোনাল্ডোরও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পারফেক্ট হ্যাটট্রিক নেই। সেখানে ১৮ বছর বয়সেই রদ্রিগোর এমন দুর্দান্ত কীর্তি। ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড গড়েছেন আরেকটি কীর্তি। টুর্নামেন্ট ইতিহাসের দ্রুততম জোড়া গোল। বার্নাব্যু মাতিয়ে সাত মিনিটের মধ্যে রিয়ালকে ২-০তে এগিয়ে দেন রদ্রিগো। ১৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান ৩-০ করেন রামোস। বিরতির ঠিক আগে বেনজেমার প্রথম গোলটিও রদ্রিগোর বানিয়ে দেয়া। ৮১ মিনিটে বেনজেমার দ্বিতীয় গোলের পর ইনজুরি টাইমে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রদ্রিগো।

এই জয়ে চার ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে নকআউট পর্বের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল রিয়াল। ১২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থাকা পিএসজি গত পরশুই পেয়ে গেছে শেষ ষোলোর টিকিট। তবে আগের ম্যাচে ব্রুগের মাঠে ৫-০ গোলে জেতা পিএসজি ঘরের মাঠে পারেনি ত্রাস ছড়াতে। ২২ মিনিটে ইকার্দির গোলটিও হয়তো যথেষ্ট হতো না। শেষদিকে পেনাল্টি ঠেকিয়ে পিএসজির জয় নিশ্চিত করেন গোলকিপার কেইলর নাভাস। পিএসজির মতো বায়ার্নও পেয়েছে টানা চতুর্থ জয়। প্রথমার্ধে ১২টি শট নিয়েও অলিম্পিয়াকোসের গোলমুখ খুলতে না পারা বায়ার্নকে দ্বিতীয়ার্ধে কাক্সিক্ষত গোল এনে দেন রবার্ট লেওয়ানডোস্কি ও ইভান পেরিসিচ। সাত পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে থাকা টটেনহ্যাম এদিন সন হিউং-মিনের জোড়া গোলে ৪-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে রেডস্টার বেলগ্রেডকে।

শেষ ষোলোতে যেতে সবচেয়ে বেশি ঘাম ঝরাতে হয়েছে জুভেন্টাসকে। অ্যারন রামসের গোলে শুরুতে এগিয়ে যাওয়া জুভেন্টাস লিড ধরে রাখতে পারেনি বেশিক্ষণ। ১২ মিনিটে লোকোমোতিভ মস্কোকে সমতায় ফেরান মিরানচুক। এরপর আর গোলের দেখা নেই। নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগিয়ে চলা ম্যাচের ইনজুরি টাইমে অসাধারণ এক গোলে সব আলো কেড়ে নেয় দগলাস কস্তা। লেভারকুসেনের মাঠে অ্যাটলেটিকোর আলভারো মোরাতাও ইনজুরি টাইমে গোল করেন। কিন্তু তাতে হারের ব্যবধানই শুধু কমেছে। অ্যাটলেটিকোর মতো অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে ম্যানসিটিকেও। রাহিম স্টার্লিংয়ের গোলে শুরুতে এগিয়ে গিয়েও আটালান্টার মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরতে পারেনি ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা। টানা তিন জয়ের পর প্রথম পয়েন্ট হারাল ম্যানসিটি।

একনজরে ফল

রিয়াল মাদ্রিদ ৬ : ০ গালাতাসারে

পিএসজি ১ : ০ ক্লাব ব্রুগে

বায়ার্ন মিউনিখ ২ : ০ অলিম্পিয়াকোস

টটেনহ্যাম ৪ : ০ রেড স্টার বেলগ্রেড

আতালান্তা ১ : ১ ম্যানসিটি

ডায়নামো জাগরেব ৩ : ৩ শাখতার

জুভেন্টাস ২ : ১ লোকোমোতিভ মস্কো

লেভারকুসেন ২ : ১ অ্যাটলেটিকো

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×