নাগপুরে উঁচু হল না নাক

প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  স্পোর্টস ডেস্ক

নাগপুরে রবিবাসরীয় রজনী হতে পারত মোহাম্মদ নাঈমের। হয়নি মাত্র ৬.২ ওভারে ৩৪ রানে শেষ আট উইকেট হারানোয়। বাংলাদেশ এজন্য দায়ী করতে পারে মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের। আর নিজেদের ভাগ্যকে। ভারতের কাছে ৩০ রানে তৃতীয় ও শেষ টি ২০ ম্যাচ হেরে মাহমুদউল্লাহ তাই যথার্থই বলেছেন, এই ফরম্যাটে সফলতার চৌকাঠে পা রাখতে হলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশকে। অথচ মোমেন্টাম ছিল সফরকারীদের পক্ষে। ১৭৫ তাড়া করতে নামা বাংলাদেশ ১৩তম ওভারে ১১০/২। স্কোর বোর্ডটা তখন সুন্দর দেখাচ্ছিল। বিদর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামের দর্শকদের চেহারায় খেলা করছিল হতাশার রেখা। সেখান থেকে বাংলাদেশ ১৪৪ রানে অলআউট। স্বপ্নের সমাধি! সর্বনাশটা করেছেন দীপক চাহার। কী খুনে মেজাজের বোলিং। হ্যাটট্রিকসহ ছয় উইকেট। তা-ও মাত্র সাত রানে।

সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে টি ২০-তে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেয়া মাহমুদউল্লাহর চেয়ে হতাশ আর কে বেশি হতে পারেন। ‘সুযোগ আমাদের নাগালে ছিল। যখন ৩০ বলে ৫০ রান দরকার। তখনই আমরা দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারাই। ম্যাচটা সেখানেই হাতছাড়া হয়ে যায়,’ মাহমুদউল্লাহর সহজ স্বীকারোক্তি। তার সংযোজন, ‘যদি সিরিজের তিনটি ম্যাচ বিশ্লেষণ করেন, দেখবেন আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। টি ২০-তে একবার মোমেন্টাম হারালে, তা ফিরে পাওয়া কষ্টসাধ্য। এই ম্যাচে আমরা জেতার কাছাকাছি ছিলাম। ছয় কী সাত বলে তিন অথবা চার উইকেট হারিয়েছি। এটাই ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের ভুল আমরা বারবার করতে পারি না।’ ম্যাচ-উত্তর আলাপনে মাহমুদউল্লাহ সত্য স্বীকার করে নিতে কুণ্ঠিত হননি, ‘সত্যি বলতে কী, টি ২০-তে আমাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। আমাদের দলে বিগ হিটার নেই। এই ফরম্যাট সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রেখে এবং মানসিকতার দিক থেকে আমরা যদি ধারাবাহিক হতে পারি, তাহলেই টি ২০-তে উন্নতি করব।’

নিজেদের দুই সেরা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে ছাড়াই বাংলাদেশ তিন ম্যাচের টি ২০ সিরিজ খেলে হেরেছে ১-২ ব্যবধানে। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দলছুট হন ইনজুরির দরুন। সিরিজ থেকে প্রাপ্তি মোহাম্মদ নাঈম। ২০ বছরের এই তরুণ শেষ টি ২০ ম্যাচে মাত্র ৪৮ বলে ৮১ রানের দুর্দমনীয় ইনিংস (১০টি চার ও দুটি ছয়) খেলে নিজেকে ভবিষ্যতের কাণ্ডারি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নিজের মাত্র তৃতীয় আন্তর্জাতিক ইনিংসে তার এমন অকুতোভয় ব্যাটিং তাকে লম্বা রেসের ঘোড়া হিসেবে ভাবতে বাধ্য

করেছে। মাহমুদউল্লাহর এজন্য খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক যে, নাঈমের অমন সুন্দর ইনিংসের মর্যাদা তারা দিতে পারেননি।

ভারত সফরে এবার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। মুমিনুল হকের বাংলাদেশ এবার সাদা পোশাকের ক্রিকেটে বৃহস্পতিবার ভারতের মধ্যপ্রদেশের সবচেয়ে জনবহুল ও বৃহত্তম শহর ইন্দোরে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামবে। ‘সিটি অব জয়’ কলকাতার ইডেনে ২২ নভেম্বর শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। গোলাপি বলের দিবা-রাত্রির টেস্টে ওইদিন ইতিহাসের অংশ হবে বাংলাদেশ ও ভারত।