নাঈম ঝলকে স্বপ্নের শুরু

  স্পোর্টস রিপোর্টার ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাপ্তি যেমন আছে, তেমনি হতাশাও কম নয়। ছিল সিরিজ জয়ের হাতছানি। হল না। একটি জয়ে আক্ষেপ বেড়েছে। আরেকটু পরিণত ক্রিকেট খেলতে পারলে প্রথমবারের মতো ভারতের বিপক্ষে টি ২০ সিরিজ জিততে পারত বাংলাদেশ। ক্রিকেটারদের ধর্মঘটের কারণে প্রথমেই ধাক্কা। এরপর আইসিসি সাকিব আল হাসানকে নিষিদ্ধ করে। তার আগে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য নিজেকে সরিয়ে নেন তামিম ইকবাল। চোটের কারণে ছিটকে পড়েন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও। কম্বিনেশন ঠিক করাই ছিল কঠিন। কিন্তু তাদের পরিবর্তে যারা সুযোগ পেয়েছেন তারা দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।

আমিনুল ইসলাম ঘরের মাঠে অভিষেকে নিজিকে চিনিয়েছিলেন। ভারত সফরে নিজেকে আরও মেলে ধরলেন এই লেগ-স্পিনার। সাড়ে তিন বছর পর জাতীয় দলে ফেরা আল-আমিন হোসেনও ভালো করেছেন। তবে বড় প্রাপ্তি মোহাম্মদ নাঈম শেখ। রোববার অলিখিত ফাইনালে হতে পারতেন বাংলাদেশের নায়ক। সেঞ্চুরি উপহার দেয়ার সুযোগ ছিল তার। দুবের ইয়র্কার স্বপ্ন ভেঙে দিল নাঈমের। ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে হতাশায় শূন্যে পা ছুড়লেন। উইকেটে আরেকটু না থাকার হতাশায় পুড়লেও যে ইনিংসটা খেলেছেন তাতে বিধর্ভ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামের দর্শকরা তাকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেনি। পায়ের কাজ অসাধারণ, লম্বা ইনিংস খেলার তাড়না আর দৃষ্টিনন্দন সব স্ট্রোকে মুগ্ধ করেন নাঈম। শেষ পর্যন্ত জয় পায়নি বাংলাদেশ। কিন্তু টি ২০ ক্রিকেটে যে ধরনের ব্যাটসম্যান খোঁজা হচ্ছে সেটা হয়তো পেয়ে গেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচে ৪৭.৬৬ গড়ে ১৪৩ রান করে সিরিজে সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান ২০ বছর বয়সী এই ওপেনার।

সেপ্টেম্বরে ত্রিদেশীয় টি ২০ সিরিজের মাঝপথে বাংলাদেশ দলে ডাকা হয় নাঈমকে। সেবার একাদশে তার জায়গা মেলেনি। এবার সুযোগ পেয়ে প্রথম ম্যাচ থেকেই ব্যাটিংয়ে নিজের সক্ষমতা দেখিয়েছেন। শেষ ম্যাচে মুগ্ধ করেছেন। ষষ্ঠ ওভারে চাহালের বলে টানা তিন চার মারেন নাঈম। চাহালের ১১ বল খেলে আদায় করে নেন ২৯ রান। যে লেগ-স্পিনার বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রভাব বিস্তার করে, সেখানেই নাঈম তার ব্যাটে সাফল্য দেখিয়েছেন। ৪৮ বলে ৮১ রানের ইনিংস সাজিয়েছেন।

দিল্লিতে ভালো শুরু করেছিলেন, বেশি দূর এগোতে পারেননি (২৬)। রাজকোটে ৩৬। নাগপুরে বোঝা গেল তাকে নিয়ে বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখতেই পারে। ফরিদপুরের শহরতলি থেকে উঠে আসা নাঈমের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট গত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। নবম রাউন্ডে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড় হিসেবে তাকে দলে নেয় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। ১৬ ম্যাচে ৫৩.৮০ গড়ে তিন সেঞ্চুরি ও পাঁচ ফিফটিতে ৮০৭ রান করে হয়েছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক। এরপরই নির্বাচকরা তার দিকে তাকান। নির্বাচকরা তাকে ‘এ’ দল, ইমার্জিং দলে সুযোগ দিয়েছেন। সেখানে ভালো করেই নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করেন নাঈম। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুমে জায়গা পাওয়াটা সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অনেক কিছু শিখেছি, যা পরের সিরিজে কাজে দেবে।’

নাঈমের গুরু ফরিদপুর জেলার সিনিয়র কোচ মোখলেছুর রহমান। তিনি তানভির আহমেদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকেই তাকে নিয়ে নজরে রেখেছেন সবাই। একটি সিরিজ দিয়েই তাকে ভবিষ্যতের তারকা বিবেচনা করা হয়তো ঠিক হবে না। তবে তিনি যে ঝলক দেখিয়েছেন তাতে স্বপ্ন দেখতেই পারে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×