দিনকে দিন দৈন্যদশা বাড়ছে ফুটবলে!

দেশের ফুটবলের নিম্নমুখী ও হতশ্রী রূপটাই যেন ফুটে ওঠে দশরথ স্টেডিয়ামে

  স্পোর্টস রিপোর্টার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

১১ ডিসেম্বর নেপালের শীর্ষস্থানীয় সব দৈনিকের প্রথম পাতায় আট কলামে ছাপা হয়েছে সোনাজয়ী নেপালী ফুটবলারদের ছবি। হাস্যোজ্জ্বল ফুটবলারদের গলায় সোনার পদক। অথচ এই দৃশ্যটি থাকতে পারত বাংলাদেশের শীর্ষ সব দৈনিকে লাল-সবুজদের বিজয়গাথা নিয়ে। কিন্তু তা আর হল কই। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে কাতার, ভারত ও আফগানিস্তানের সঙ্গে দুর্দান্ত খেলা দলটির অধিকাংশ ফুটবলারই ছিলেন এসএ গেমসের দলে। তারপরও ভুটান ও নেপালের কাছে দু’ম্যাচে হেরে আগেই সব শেষ হয়ে যায়। দেশের ফুটবলের নিম্নমুখী ও হতশ্রী রূপটাই যেন ফুটে উঠে দশরথ স্টেডিয়ামে। লাল-সবুজের ফুটবলারদের এমন দৈন্যদশা দেখে হতাশ হয়েছেন ফুটবলামোদী সমর্থকরা। জামাল ভূঁইয়াদের খেলা দেখে সমালোচনামুখর ছিলেন নেপালবাসীরাও। তাদের কথায়, ‘বাংলাদেশের ফুটবলের মান এতটা নিচে নেমে গেছে, তা আমরা ভাবতেও পারিনি।’

গৌহাটির পর কাঠমান্ডু। চার বছরে দুটি সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে খেলেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। একই ফল। দুটিতেই ব্রোঞ্জ। ২০১০ সালের সেই স্বর্ণপদক গৌহাটিতে ধরে রাখতে পারেনি। এবারও কাঠমান্ডুতে তা পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ জামাল-বাহিনী। উপরন্তু ভুটান ও স্বাগতিক নেপাল অনূর্ধ্ব-২৩ দলের কাছে হেরে লজ্জায় মাথা নিচু করে মাঠ ছেড়েছেন জামাল ভূঁইয়া, নাবীব নেওয়াজ জীবনদের মতো ফুটবলাররা। যদিও বিষয়টিকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত বলে মনে করছেন না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কর্মকর্তারা। বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীর কথায়, ‘আমাদের ফুটবল এগিয়ে যাচ্ছে। তবে একটি টুর্নামেন্ট দিয়ে পুরো দলকে বিচার করা যাবে না। কারণ বয়সভিত্তিক দলতো ভালো করছে।’

যদিও লাল-সবুজদের এমন ফলাফলের জন্য দশরথের উঁচু-নিচু মাঠ ও রাবারের বলকেই দায়ী করেছেন জাতীয় দলের অন্যতম ফরোয়ার্ড নাবীব নেওয়াজ জীবন। তার কথায়, ‘মাঠে ঘাস কম ছিল। উঁচু-নিচু মাঠ। দৌড়াতে গেলে সমস্যা হতো। তাছাড়া রাবারের বল খুব বাউন্স করত।’ তিনি যোগ করেন, ‘এসব বলে এখন লাভ নেই। কারণ আমরা পারিনি, এটাই এখন বড় কথা। তবে আমি অবাক হয়েছি যে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শুধু আমাকেই দোষারোপ করা হচ্ছে। আমিই নাকি হারের জন্য দায়ী। দলে কি আর কোনো ফরোয়ার্ড নেই? তাই আমি আপাতত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম অকার্যকর করে রেখেছি। এমন গঞ্জনা শুনতে আর ভালো লাগে না।’ জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘অযথা বলা হচ্ছে আমরা নাকি লিগের জন্য গেমসে খারাপ খেলেছি। কেউ কি চাইবে জাতীয় দলের জার্সি পরে খারাপ খেলতে? আমি আর এসব সমালোচনা নিতে পারছি না।’ জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার ও কোচ হাসানুজ্জামান খান বাবলু বলেন, ‘এদেশের ফুটবল বলতে আর কিছুই বাকি থাকল না। এক সময় আমরা ভুটান ও নেপালকে হালি হালি গোলে হারাতাম। আর গোল না দেয়ার জন্য তারা মিনতি করত। অথচ এখন তাদের কাছেই আমাদের হারতে হয় অহরহ, যা আমাদের ফুটবলের এক লজ্জাজনক অধ্যায়। আর কত নিচে নামবে এদেশের ফুটবল?’ পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক বাফুফের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বাফুফের দায়িত্বহীনতাই আজ ডুবেছে দেশের ফুটবল। এটা একদিনে হয়নি। গত ১২ বছরে তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে ফুটবলকে। নইলে এখন ভুটান ও নেপালের মতো দলের কাছেও হারতে হয়। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ফের অবনমন হয়েছে বাংলাদেশের ফুটবল। এই কমিটির হাতে থাকলে ফুটবল আর তিল পরিমাণও এগোবে না। ফুটবলে পুনর্জাগরণ ঘটাতে হলে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। এর কোনো বিকল্প নেই। ফুটবল বাঁচাতে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের এক হতে হবে। তাহলে যদি পুরনো যৌবন ফিরিয়ে আনা যায় ফুটবলে।’

আরও খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত