সাফল্যবিহীন ফুটবল
jugantor
সাফল্যবিহীন ফুটবল
জাতীয় দলের খারাপ করার পেছনে ম্যানেজমেন্টের দায় দেখছেন তরফদার রুহুল আমিন

  স্পোর্টস রিপোর্টার  

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘এসএ গেমসে অনেকদিন ধরে সাফল্য নেই দেশের ফুটবলে। সর্বশেষ নেপাল এসএ গেমসেও অবস্থা তথৈবচ। নেপাল ও ভুটানের বিপক্ষে আমরা জিততে পারিনি। ব্যর্থতার পোস্টমর্টেম হয়নি। কেন এই ব্যর্থতা এ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই বাফুফের। তড়িঘড়ি করে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আয়োজন করেছে তারা। সেখানেও সাফল্য পায়নি’, মঙ্গলবার ক্রীড়ালেখক সমিতি পরিদর্শনে এসে মতবিনিময় সভায় কথাগুলো বলেন বাফুফের নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী তরফদার রুহুল আমিন।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে মানহীন দল নিয়ে তার কথা, ‘টুর্নামেন্টে ফিলিস্তিন ভালো দল ছিল। আফ্রিকা থেকে বুরুন্ডি এসেছিল। তারাও ভালো দল। তবে যে দলটি খেলেছে সেই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ফুটবলার। তারপরও ভালো বলতাম, যদি আমরা ফিলিস্তিন কিংবা বুরুন্ডিকে হারাতে পারতাম। কিন্তু সেটা করতে পারেনি বাংলাদেশ দল।’

তিনি বলেন, ‘বাফুফের বর্তমান কমিটি অনেকদিন ধরে ক্ষমতায়। এতদিনেও তারা একটা শক্তিশালী ফুটবল কাঠামো তৈরি করতে পারেনি। জাতীয় দলের পাইপলাইন শক্ত থাকলে এসএ গেমসে, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে দল বাজে ফল করত না। হাতে বিকল্প খেলোয়াড়, সাইডবেঞ্চে অতিরিক্ত রিসোর্স থাকলে নিশ্চয় ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত খেলোয়াড়দের মাঠে নামাতে হতো না।’

জাতীয় দলের খারাপ করার পেছনে ম্যানেজমেন্টের দায়ও দেখছেন রুহুল আমিন। বিশেষ করে জাতীয় দলের ম্যানেজার। এই জায়গায় একজন নিরপেক্ষ লোক থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি, ‘চেনা মুখ বেছে বেছে দল নির্বাচন করে খেলোয়াড় মাঠে নামালে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ক্লাবের খেলোয়াড়দের বাড়তি সুযোগ দিলে ফল এমনই হবে। আমরা অনেকদিন ধরেই বলে আসছি জাতীয় দলের জন্য একজন নিরপেক্ষ ম্যানেজার নিয়োগ দেয়া হোক। যিনি কোনো ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না। কিন্তু বর্তমানে যিনি আছেন তিনি একটি নির্দিষ্ট ক্লাবেরও ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় দলেও একই দায়িত্বে তিনি। তাহলে দল নির্বাচনে নিরপেক্ষতা থাকবে কীভাবে। আমরা বাফুফের ব্যর্থতা নিয়ে বলছি। বাফুফের কর্তারা বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন, তবু তাদের অনুশোচনা নেই। সামনে জাতীয় ফুটবল দলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের চারটি ম্যাচ।

ওই চার ম্যাচে কীভাবে সাফল্য পেতে পারে লাল-সবুজ দল, তার টোটকা দিয়েছেন তরফদার রুহুল আমিন। তার কথায়, ‘যেহেতু মার্চে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব, তাই জাতীয় দলের এখন থেকেই মাঠে নেমে পড়া উচিত। ক্লাবগুলো তাদের খেলোয়াড় ছাড়তে চায় না। তাই চাইলেও আগে অনুশীলনে নামতে পারে না জাতীয় দলের ফুটবলাররা। সবার আগে আমাদের দেশের স্বার্থ দেখতে হবে। বাফুফে যদি আমাদের চট্টগ্রাম আবাহনী এবং সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের কোনো খেলোয়াড় জাতীয় দলের জন্য ছাড়তে বলে, অবশ্যই আমরা ছেড়ে দেব।’

ক্লাবগুলোকেও এক্ষেত্রে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুহুল আমিন। সামনেই বাফুফের নির্বাচন। আসন্ন নির্বাচনে বাস্তবমুখী এবং যুগোপযোগী ইশতেহার নিয়ে মাঠে নামবেন বলে জানান তিনি।

সাফল্যবিহীন ফুটবল

জাতীয় দলের খারাপ করার পেছনে ম্যানেজমেন্টের দায় দেখছেন তরফদার রুহুল আমিন
 স্পোর্টস রিপোর্টার 
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘এসএ গেমসে অনেকদিন ধরে সাফল্য নেই দেশের ফুটবলে। সর্বশেষ নেপাল এসএ গেমসেও অবস্থা তথৈবচ। নেপাল ও ভুটানের বিপক্ষে আমরা জিততে পারিনি। ব্যর্থতার পোস্টমর্টেম হয়নি। কেন এই ব্যর্থতা এ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই বাফুফের। তড়িঘড়ি করে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ আয়োজন করেছে তারা। সেখানেও সাফল্য পায়নি’, মঙ্গলবার ক্রীড়ালেখক সমিতি পরিদর্শনে এসে মতবিনিময় সভায় কথাগুলো বলেন বাফুফের নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী তরফদার রুহুল আমিন।

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে মানহীন দল নিয়ে তার কথা, ‘টুর্নামেন্টে ফিলিস্তিন ভালো দল ছিল। আফ্রিকা থেকে বুরুন্ডি এসেছিল। তারাও ভালো দল। তবে যে দলটি খেলেছে সেই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় অনূর্ধ্ব-১৭ দলের ফুটবলার। তারপরও ভালো বলতাম, যদি আমরা ফিলিস্তিন কিংবা বুরুন্ডিকে হারাতে পারতাম। কিন্তু সেটা করতে পারেনি বাংলাদেশ দল।’

তিনি বলেন, ‘বাফুফের বর্তমান কমিটি অনেকদিন ধরে ক্ষমতায়। এতদিনেও তারা একটা শক্তিশালী ফুটবল কাঠামো তৈরি করতে পারেনি। জাতীয় দলের পাইপলাইন শক্ত থাকলে এসএ গেমসে, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে দল বাজে ফল করত না। হাতে বিকল্প খেলোয়াড়, সাইডবেঞ্চে অতিরিক্ত রিসোর্স থাকলে নিশ্চয় ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত খেলোয়াড়দের মাঠে নামাতে হতো না।’

জাতীয় দলের খারাপ করার পেছনে ম্যানেজমেন্টের দায়ও দেখছেন রুহুল আমিন। বিশেষ করে জাতীয় দলের ম্যানেজার। এই জায়গায় একজন নিরপেক্ষ লোক থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি, ‘চেনা মুখ বেছে বেছে দল নির্বাচন করে খেলোয়াড় মাঠে নামালে কিংবা কোনো নির্দিষ্ট ক্লাবের খেলোয়াড়দের বাড়তি সুযোগ দিলে ফল এমনই হবে। আমরা অনেকদিন ধরেই বলে আসছি জাতীয় দলের জন্য একজন নিরপেক্ষ ম্যানেজার নিয়োগ দেয়া হোক। যিনি কোনো ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না। কিন্তু বর্তমানে যিনি আছেন তিনি একটি নির্দিষ্ট ক্লাবেরও ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয় দলেও একই দায়িত্বে তিনি। তাহলে দল নির্বাচনে নিরপেক্ষতা থাকবে কীভাবে। আমরা বাফুফের ব্যর্থতা নিয়ে বলছি। বাফুফের কর্তারা বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন, তবু তাদের অনুশোচনা নেই। সামনে জাতীয় ফুটবল দলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের চারটি ম্যাচ।

ওই চার ম্যাচে কীভাবে সাফল্য পেতে পারে লাল-সবুজ দল, তার টোটকা দিয়েছেন তরফদার রুহুল আমিন। তার কথায়, ‘যেহেতু মার্চে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব, তাই জাতীয় দলের এখন থেকেই মাঠে নেমে পড়া উচিত। ক্লাবগুলো তাদের খেলোয়াড় ছাড়তে চায় না। তাই চাইলেও আগে অনুশীলনে নামতে পারে না জাতীয় দলের ফুটবলাররা। সবার আগে আমাদের দেশের স্বার্থ দেখতে হবে। বাফুফে যদি আমাদের চট্টগ্রাম আবাহনী এবং সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের কোনো খেলোয়াড় জাতীয় দলের জন্য ছাড়তে বলে, অবশ্যই আমরা ছেড়ে দেব।’

ক্লাবগুলোকেও এক্ষেত্রে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুহুল আমিন। সামনেই বাফুফের নির্বাচন। আসন্ন নির্বাচনে বাস্তবমুখী এবং যুগোপযোগী ইশতেহার নিয়ে মাঠে নামবেন বলে জানান তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন