সাক্ষাৎকারে মোস্তাফিজুর রহমান, আমি এখন যোগ্য নই
jugantor
সাক্ষাৎকারে মোস্তাফিজুর রহমান, আমি এখন যোগ্য নই

  স্পোর্টস রিপোর্টার  

১৯ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েই চমকে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাফল্যের সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমানের খ্যাতি এসেছিল হাত ধরাধরি করে। কিন্তু মোস্তাফিজের শুরুর সেই দ্যুতি কেমন যেন ম্রিয়মাণ। একথা ভাবলে খারাপ লাগে তার। বোলিংয়ে আগের সেই ধার নেই। আগের আত্মবিশ্বাসও পান না তেমন। প্রতিনিয়ত নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াই করে যাচ্ছেন এই বাঁ-হাতি পেসার-

প্রশ্ন : খেলা তো বন্ধ। কীভাবে চলছেন?

মোস্তাফিজ : রানিং বা অন্য কাজগুলো করতে হচ্ছে। সবকিছু করতে হলে অন্তত ৪-৫ জন লাগে। ব্যাটিং তো আসলে করি না। চেষ্টা করছি রানিং, কিছু ব্যায়াম করে ফিটনেস ঠিক রাখতে।

প্রশ্ন : বাড়ি গেলে ফিটনেস ঠিক রাখা যাবে?

মোস্তাফিজ : যাবে না কেন? সেখানেও তো মাঠ আছে।

প্রশ্ন : ভেতরে বল ঢোকানো নিয়ে কাজ করছেন শুনলাম। কী মনে হচ্ছে?

মোস্তাফিজ : ভালোই হচ্ছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে দুটি করে ওয়ানডে ও টি ২০ খেলেছি। প্রথম থেকেই বল ভেতরে ঢোকানোর চেষ্টা করেছি। পুরোপুরি না হলেও দু-একটা বল ভালো হয়েছে। হঠাৎ করে তো সব ভালো হয় না। আস্তে আস্তে হবে।

প্রশ্ন : বোলিংয়ে কাকে নিয়ে কাজ করছেন?

মোস্তাফিজ : বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের সঙ্গে কাজ করছি। তিনি শুধু একটা গ্রিপ দেখিয়ে দিয়েছেন, হাতের কিছু কাজও মূলত কব্জিটা ঠিক রাখার জন্য। কঠিন কিছু না।

প্রশ্ন : লাল বলে ফিরতে পারেন কবে?

মোস্তাফিজ : হাত ভালো ঘুরলে!

প্রশ্ন : কী এমন কারণে আগের মোস্তাফিজ হারিয়ে যাচ্ছেন?

মোস্তাফিজ : নতুন একটা জিনিস একরকম। আর এখন আমার সম্পর্কে সবাই জানে। আগে যেভাবে সহজে উইকেট পেতাম, এখন সেটা অনেক কঠিন হয়ে গেছে।

প্রশ্ন : আপনি কি শুধু সাদা বলে খেলতে চান?

মোস্তাফিজ : আমি সব বলে খেলতে চাই।

প্রশ্ন : কাটার নিয়ে কাজ করছেন। কোথায় সমস্যা হচ্ছে?

মোস্তাফিজ : কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখন পর্যন্ত দেশে খেলা হলে আমার বলের গ্রিপ ভালোই হয়। বাইরে তেমন ভালো হয় না। আমি চেষ্টা করছি। যেমন ইয়র্কারে আগের মতো আত্মবিশ্বাস পাই না। চেষ্টা করছি সব ঠিকঠাক করতে।

প্রশ্ন : দেশের বাইরে নাকি দেশে আপনার জন্য খেলা ভালো?

মোস্তাফিজ : কিছু উইকেট আছে যে আপনি দেখলেই বুঝবেন ৩৫০ রান হবে। আরেক ধরনের উইকেটে হবে ২৫০ রান। আমার জন্য ২৫০ রানের উইকেটই ভালো। ক্রিকেটে উত্থান-পতন থাকবেই। এগুলো মেনে নিতে না পারলে বড় ক্রিকেটার হওয়া যায় না। কিছু জায়গায় সমস্যা হচ্ছিল। এখন আবার কিছুটা ভালো হচ্ছে। আসলে আত্মবিশ্বাস পাচ্ছি না। আরও অনুশীলন করতে হবে।

প্রশ্ন : ডেল স্টেইন, মিচেল স্টার্করা সময় পেলেই নিজেদের ভিডিও দেখে শিক্ষা নেন। আপনি কি করেন?

মোস্তাফিজ : নিজের পুরনো ভিডিওগুলো দেখি। কী করলে ভালো হয়। অনেকের কথা শুনি। মাঝে অনূর্ধ্ব-১৯’র একজনের কথা শুনলাম নেটে বল করার সময়। তার একটা কথা খুব ভালো লেগেছে।

প্রশ্ন : আপনাকে কি বিশ্রাম দিয়ে খেলানো উচিত?

মোস্তাফিজ : টানা খেলাটা সবার জন্য কষ্টকর। শুধু বোলার নয়, ব্যাটসম্যানদের জন্যও। আমাদের ঘরোয়া খেলা বাড়ালে স্কিল বাড়বে।

প্রশ্ন : একসময় আপনাকে ছাড়া বাংলাদেশ দল ভাবা যেত না। এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। কী শিক্ষা পেলেন?

মোস্তাফিজ : আমার জন্য ভালো। আমার আরও উন্নতির জায়গা আছে, এটা বুঝেছি। এটা আমার জন্য একটা শিক্ষা যে, আমি এখন যোগ্য নই। সুতরাং, আমাকে আরও কাজ করতে হবে, প্রমাণ করতে হবে নিজেকে।

প্রশ্ন : শুরুর সময়টায় দারুণ ছন্দে ছিলেন- যশ, খ্যাতি, আইপিএলে সাফল্য। এখন কমে যাওয়ায় নিশ্চয় খারাপ লাগে?

মোস্তাফিজ : কষ্ট দেয় আর কি। চলছে চলুক। তবে কিছু না কিছু তো দেশের জন্য করছি। এখন অনেকে অনেকভাবে নেয়। মাঝে অনেক সাংবাদিকও বাজে কথা বলেছেন। সমস্যা নেই। আমি চেষ্টা করছি যে, কী করলে আরও ভালো জায়গায় যেতে পারব।

প্রশ্ন : অনূর্ধ্ব-১৯ দলের শরিফুলরা ভালো খেলছেন। এটা কি আপনার জন্য চাপ?

মোস্তাফিজ : আমরা তো আজীবন খেলব না। আমি ২১ বছর বয়সে ঢুকেছি। এখন শরিফুলের বয়স ১৯। আরও দুই বছর যদি খেলি, সাত বছর হয়ে যাবে আমার জাতীয় দলের ক্যারিয়ার। পেছনে তো কারও আসা লাগবে। আমাদের জন্য তো ভালো। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে সবার জন্যই ভালো।

প্রশ্ন : শুরুতে না পারলেও পরে ইংরেজি সবাই টুকটাক পারেন। আপনার বেলায় কী হচ্ছে?

মোস্তাফিজ : যেভাবে আছি সেভাবেই থাকতে পছন্দ করি। অন্য কারও কথা নিয়ে ভাবি না। বাংলায় কথা বলতে আমার মা শিখাইছে ভাই!

সাক্ষাৎকারে মোস্তাফিজুর রহমান, আমি এখন যোগ্য নই

 স্পোর্টস রিপোর্টার 
১৯ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েই চমকে দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাফল্যের সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমানের খ্যাতি এসেছিল হাত ধরাধরি করে। কিন্তু মোস্তাফিজের শুরুর সেই দ্যুতি কেমন যেন ম্রিয়মাণ। একথা ভাবলে খারাপ লাগে তার। বোলিংয়ে আগের সেই ধার নেই। আগের আত্মবিশ্বাসও পান না তেমন। প্রতিনিয়ত নিজেকে ফিরে পাওয়ার লড়াই করে যাচ্ছেন এই বাঁ-হাতি পেসার-

প্রশ্ন : খেলা তো বন্ধ। কীভাবে চলছেন?

মোস্তাফিজ : রানিং বা অন্য কাজগুলো করতে হচ্ছে। সবকিছু করতে হলে অন্তত ৪-৫ জন লাগে। ব্যাটিং তো আসলে করি না। চেষ্টা করছি রানিং, কিছু ব্যায়াম করে ফিটনেস ঠিক রাখতে।

প্রশ্ন : বাড়ি গেলে ফিটনেস ঠিক রাখা যাবে?

মোস্তাফিজ : যাবে না কেন? সেখানেও তো মাঠ আছে।

প্রশ্ন : ভেতরে বল ঢোকানো নিয়ে কাজ করছেন শুনলাম। কী মনে হচ্ছে?

মোস্তাফিজ : ভালোই হচ্ছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে দুটি করে ওয়ানডে ও টি ২০ খেলেছি। প্রথম থেকেই বল ভেতরে ঢোকানোর চেষ্টা করেছি। পুরোপুরি না হলেও দু-একটা বল ভালো হয়েছে। হঠাৎ করে তো সব ভালো হয় না। আস্তে আস্তে হবে।

প্রশ্ন : বোলিংয়ে কাকে নিয়ে কাজ করছেন?

মোস্তাফিজ : বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের সঙ্গে কাজ করছি। তিনি শুধু একটা গ্রিপ দেখিয়ে দিয়েছেন, হাতের কিছু কাজও মূলত কব্জিটা ঠিক রাখার জন্য। কঠিন কিছু না।

প্রশ্ন : লাল বলে ফিরতে পারেন কবে?

মোস্তাফিজ : হাত ভালো ঘুরলে!

প্রশ্ন : কী এমন কারণে আগের মোস্তাফিজ হারিয়ে যাচ্ছেন?

মোস্তাফিজ : নতুন একটা জিনিস একরকম। আর এখন আমার সম্পর্কে সবাই জানে। আগে যেভাবে সহজে উইকেট পেতাম, এখন সেটা অনেক কঠিন হয়ে গেছে।

প্রশ্ন : আপনি কি শুধু সাদা বলে খেলতে চান?

মোস্তাফিজ : আমি সব বলে খেলতে চাই।

প্রশ্ন : কাটার নিয়ে কাজ করছেন। কোথায় সমস্যা হচ্ছে?

মোস্তাফিজ : কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখন পর্যন্ত দেশে খেলা হলে আমার বলের গ্রিপ ভালোই হয়। বাইরে তেমন ভালো হয় না। আমি চেষ্টা করছি। যেমন ইয়র্কারে আগের মতো আত্মবিশ্বাস পাই না। চেষ্টা করছি সব ঠিকঠাক করতে।

প্রশ্ন : দেশের বাইরে নাকি দেশে আপনার জন্য খেলা ভালো?

মোস্তাফিজ : কিছু উইকেট আছে যে আপনি দেখলেই বুঝবেন ৩৫০ রান হবে। আরেক ধরনের উইকেটে হবে ২৫০ রান। আমার জন্য ২৫০ রানের উইকেটই ভালো। ক্রিকেটে উত্থান-পতন থাকবেই। এগুলো মেনে নিতে না পারলে বড় ক্রিকেটার হওয়া যায় না। কিছু জায়গায় সমস্যা হচ্ছিল। এখন আবার কিছুটা ভালো হচ্ছে। আসলে আত্মবিশ্বাস পাচ্ছি না। আরও অনুশীলন করতে হবে।

প্রশ্ন : ডেল স্টেইন, মিচেল স্টার্করা সময় পেলেই নিজেদের ভিডিও দেখে শিক্ষা নেন। আপনি কি করেন?

মোস্তাফিজ : নিজের পুরনো ভিডিওগুলো দেখি। কী করলে ভালো হয়। অনেকের কথা শুনি। মাঝে অনূর্ধ্ব-১৯’র একজনের কথা শুনলাম নেটে বল করার সময়। তার একটা কথা খুব ভালো লেগেছে।

প্রশ্ন : আপনাকে কি বিশ্রাম দিয়ে খেলানো উচিত?

মোস্তাফিজ : টানা খেলাটা সবার জন্য কষ্টকর। শুধু বোলার নয়, ব্যাটসম্যানদের জন্যও। আমাদের ঘরোয়া খেলা বাড়ালে স্কিল বাড়বে।

প্রশ্ন : একসময় আপনাকে ছাড়া বাংলাদেশ দল ভাবা যেত না। এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। কী শিক্ষা পেলেন?

মোস্তাফিজ : আমার জন্য ভালো। আমার আরও উন্নতির জায়গা আছে, এটা বুঝেছি। এটা আমার জন্য একটা শিক্ষা যে, আমি এখন যোগ্য নই। সুতরাং, আমাকে আরও কাজ করতে হবে, প্রমাণ করতে হবে নিজেকে।

প্রশ্ন : শুরুর সময়টায় দারুণ ছন্দে ছিলেন- যশ, খ্যাতি, আইপিএলে সাফল্য। এখন কমে যাওয়ায় নিশ্চয় খারাপ লাগে?

মোস্তাফিজ : কষ্ট দেয় আর কি। চলছে চলুক। তবে কিছু না কিছু তো দেশের জন্য করছি। এখন অনেকে অনেকভাবে নেয়। মাঝে অনেক সাংবাদিকও বাজে কথা বলেছেন। সমস্যা নেই। আমি চেষ্টা করছি যে, কী করলে আরও ভালো জায়গায় যেতে পারব।

প্রশ্ন : অনূর্ধ্ব-১৯ দলের শরিফুলরা ভালো খেলছেন। এটা কি আপনার জন্য চাপ?

মোস্তাফিজ : আমরা তো আজীবন খেলব না। আমি ২১ বছর বয়সে ঢুকেছি। এখন শরিফুলের বয়স ১৯। আরও দুই বছর যদি খেলি, সাত বছর হয়ে যাবে আমার জাতীয় দলের ক্যারিয়ার। পেছনে তো কারও আসা লাগবে। আমাদের জন্য তো ভালো। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে সবার জন্যই ভালো।

প্রশ্ন : শুরুতে না পারলেও পরে ইংরেজি সবাই টুকটাক পারেন। আপনার বেলায় কী হচ্ছে?

মোস্তাফিজ : যেভাবে আছি সেভাবেই থাকতে পছন্দ করি। অন্য কারও কথা নিয়ে ভাবি না। বাংলায় কথা বলতে আমার মা শিখাইছে ভাই!