ডু প্লেসির চোখে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ

‘বাংলাদেশ দলকে আগে দু-একজন ক্রিকেটারের ওপর নির্ভর করতে হতো। এখন অনেক ক্রিকেটার উঠে এসেছে। দলটাও গড়ে উঠেছে’

  স্পোর্টস রিপোর্টার ১৫ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামলেই অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান ফাফ ডু প্লেসি। ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলছেন। এই নয় বছরে বাংলাদেশের অনেক উত্থান চোখে পড়েছে তার। সর্বশেষ ২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কাছে হারতেও হয়েছে প্রোটিয়াদের। আগের বাংলাদেশ দলের সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশ দলের অনেক পার্থক্য দেখছেন ডু প্লেসি। তামিম ইকবালের নিয়মিত আয়োজন ফেসবুক লাইভে বুধবার রাতের অতিথি ছিলেন সাবেক প্রোটিয়া অধিনায়ক। দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটারকে বাংলাদেশ দল সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে বলেন তামিম। ডু প্লেসি বলেন, ‘বাংলাদেশ দলকে আগে দু-একজন ক্রিকেটারের ওপর নির্ভর করতে হতো। তাদের লক্ষ্য করে ওই দুটি উইকেট নিলেই কাজ সহজ হয়ে যেত। এখন অনেক ক্রিকেটার উঠে এসেছে। দলটাও গড়ে উঠেছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে স্পিনারদের ব্যাপার তো সব সময়ই আছে। সাকিব দারুণ স্পিনার। এখন আরও বেশ কয়েকজন স্পিনার উঠে এসেছে’ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে বাংলাদেশ কখনই ভালো কিছু করতে পারেনি। ডু প্লেসি মনে করেন উপমহাদেশের দলগুলো বাইরে গেলেই নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পেসাররা ভালো হয়ে উঠছে। পেস আক্রমণ উপমহাদেশের দলগুলোর জন্য সব সময়ই একটা বড় ব্যাপার। পেস আক্রমণ একটা চ্যালেঞ্জ। ভালো পেস আক্রমণের ওপরই সব নির্ভর করে। অনেক ম্যাচ খেলা হচ্ছে বলে বাংলাদেশের ব্যাটিংও ভালো হয়েছে।’ ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরেছিল ডু প্লেসির নেতৃত্বে খেলা দক্ষিণ আফ্রিকা। এর আগে ২০১৫ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের কাছে সেমিফাইনালে হারার পর ডু প্লেসির খেলার ইচ্ছাই শেষ হয়ে যায়। ক্যারিয়ারের সেই কঠিন সময় নিয়ে তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের পর আইপিএলে খেলতে গিয়েও মন টানছিল না। খেলতে ইচ্ছা করছিল না। ভেতরে ভেতরে অনেক ভেঙে পড়েছিলাম। বিশ্বকাপে সেবার ভেবেছিলাম এবার আমাদের সময়। অনেক ভালো দল ছিল। বিশ্বকাপেরও অনেক কাছে গিয়েছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘একটা ক্রিকেট ম্যাচের জন্য কখনও এত বেশি ভেঙে পড়িনি আগে। হারলে স্বাভাবিকভাবেই হতাশা চলে আসে। কিন্তু এতগুলো প্রাপ্তবয়স্ক ক্রিকেটার সবাই একসঙ্গে ভেঙে পড়েছিল। অর্ধেক দলই কাঁদছিল।’ বারবার বড় টুর্নামেন্টগুলোতে শিরোপার খুব কাছে গিয়ে ছিটকে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। চাপের ম্যাচে তারা পারে না বলে চোকার তকমাও সেঁটে গেছে। তবে সামনাসামনি নিজেদের মনোবল অনেক শক্ত বলে দেখায় প্রোটিয়ারা। ডু প্লেসি কিছুটা সত্যি সামনে নিয়ে এলেন। তামিমকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘জানো তো, আমরা দক্ষিণ আফ্রিকানরা সব সময় নিজেদের শক্ত দেখানোর চেষ্টা করি। কিন্তু ওইদিন ড্রেসিংরুম ভেঙে পড়েছিল। সেমিফাইনালের পর দেশে ফেরার ফ্লাইট

না থাকায় দু’দিন বাড়তি থাকতে হয়েছিল। এই সময়টা অনেক লম্বা মনে হয়েছে। সতীর্থদের সঙ্গে দেখা হতো লাঞ্চ বা ডিনারের সময়। দেখা হলে কেউ কারও সঙ্গে কথা না বলে মাথা নিচু করে থাকত।’

চারবার সেমিফাইনালে উঠেও বিশ্বকাপের ফাইনালে কখনও খেলা হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। ২০১৫ বিশ্বকাপে তারা খুব কাছে গিয়েছিল। স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৪৩ ওভারে ২৮১ রান করে প্রোটিয়ারা। বৃষ্টি আইনে ২৯৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মাত্র এক বল বাকি থাকতে ছক্কা হাঁকিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্ন ভেঙে দেন কিউই অলরাউন্ডার গ্রান্ট এলিয়ট।

আরও খবর
 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত