মানসিক যন্ত্রণায় কাঁদতেন পেইন
jugantor
মানসিক যন্ত্রণায় কাঁদতেন পেইন

  স্পোর্টস ডেস্ক  

১৩ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বড় সম্ভাবনা নিয়ে শুরুর পর টিম পেইনের জীবনে ইনজুরি বড় ধাক্কা দেয়। জাতীয় দল তো বটেই, একসময় তাসমানিয়া রাজ্য দল থেকেও লম্বা সময়ের জন্য বাইরে চলে যান। ওই সময়ে খুবই মানসিক কষ্টে ভুগেছে এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।

ব্রিজবেনে একটি প্রদর্শনী ম্যাচে বাঁ-হাতি ফাস্ট বোলার ডার্ক ন্যানেসের ১৪৮ কিলোমিটার গতির বল ছোবল দেয় পেইনের আঙুলে। ওই চোটই শুধু নয়, একের পর এক চোটে সাতবার অস্ত্রোপচার করাতে হয় তার। তখনকার মনের অবস্থা নিয়ে এই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার বলেন, ‘ট্রেনিং ও খেলা শুরু করার পর অবস্থা খুব খারাপ ছিল না। কিন্তু গতিময় বোলারদের খেলতে গিয়েই বিপত্তির শুরু।

যখনই বোলার দৌড় শুরু করত, আমার কেবলই মনে হতো, আবার না আঙুলে লাগে! আত্মবিশ্বাস পুরো হারিয়ে ফেললাম। ব্যাটিংয়ের সময় বল দেখার বদলে কেবল ভাবনায় থাকত যে গায়ে লাগবে বা কি না জানি হয়!’ তিনি বলেন, ‘লম্বা সময় ধরে রান করতে পারছিলাম না। খেতে পারছিলাম না, ঘুমাতে পারছিলাম না। প্রতিটি ম্যাচের আগেই নার্ভাস লাগত। ভয়ংকর সময় ছিল তখন। খেলায় আমার পালা যখন আসত, অসহ্য লাগত। কারণ আমি নিশ্চিত ছিলাম যে ব্যর্থ হব।

কেউই জানত না আমার মানসিক অবস্থা, সবচেয়ে কাছের বন্ধুও নয়, এমনকি আমার সঙ্গিনীও নয়।’ নিজের ঘরেও কতটা দুঃসময় অবস্থায় থাকতে হয়েছে, তুলে ধরলেন পেইন। তিনি বলেন, ‘এমনও দিন গেছে, সে (তখনকার বান্ধবী ও এখন স্ত্রী বনি) কাজে গেছে, আমি সোফায় বসে আক্ষরিক অর্থেই কাঁদছি। চিৎকার করে নয়, তবে কান্না করেছি। খুবই বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাময় অভিজ্ঞতা সেটি, ব্যাখা করা কঠিন। কেবলই মনে হচ্ছিল, অনেক মানুষকে হতাশ করে চলেছি আমি।’

তিনি বলেন, ‘সেটিই প্রথমবার, কাউকে নিজের অবস্থার কথা বলেছি। মিনিট বিশেক কথা হয়েছিল তার সঙ্গে। মনে পড়ে, তার কক্ষ থেকে বের হওয়া মাত্র ভালো বোধ করতে শুরু করলাম। মনে হল, আরও আগে তার কাছে যাওয়া উচিত ছিল আমার। এটির সঙ্গে লড়াইয়ের প্রথম পদক্ষেপই হল সমস্যা মেনে নেয়া ও এটা জানানো যে সাহায্য লাগবে।’ সেই পেইন সাত বছর পর ২০১৭-১৮ অ্যাশেজে নাটকীয়ভাবে ডাক পান অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে। পরিস্থিতির কারণে পেয়ে যান নেতৃত্ব। হয়ে ওঠেন বিপর্যয়ের সময় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে ত্রাতা।

মানসিক যন্ত্রণায় কাঁদতেন পেইন

 স্পোর্টস ডেস্ক 
১৩ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বড় সম্ভাবনা নিয়ে শুরুর পর টিম পেইনের জীবনে ইনজুরি বড় ধাক্কা দেয়। জাতীয় দল তো বটেই, একসময় তাসমানিয়া রাজ্য দল থেকেও লম্বা সময়ের জন্য বাইরে চলে যান। ওই সময়ে খুবই মানসিক কষ্টে ভুগেছে এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান।

ব্রিজবেনে একটি প্রদর্শনী ম্যাচে বাঁ-হাতি ফাস্ট বোলার ডার্ক ন্যানেসের ১৪৮ কিলোমিটার গতির বল ছোবল দেয় পেইনের আঙুলে। ওই চোটই শুধু নয়, একের পর এক চোটে সাতবার অস্ত্রোপচার করাতে হয় তার। তখনকার মনের অবস্থা নিয়ে এই অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার বলেন, ‘ট্রেনিং ও খেলা শুরু করার পর অবস্থা খুব খারাপ ছিল না। কিন্তু গতিময় বোলারদের খেলতে গিয়েই বিপত্তির শুরু।

যখনই বোলার দৌড় শুরু করত, আমার কেবলই মনে হতো, আবার না আঙুলে লাগে! আত্মবিশ্বাস পুরো হারিয়ে ফেললাম। ব্যাটিংয়ের সময় বল দেখার বদলে কেবল ভাবনায় থাকত যে গায়ে লাগবে বা কি না জানি হয়!’ তিনি বলেন, ‘লম্বা সময় ধরে রান করতে পারছিলাম না। খেতে পারছিলাম না, ঘুমাতে পারছিলাম না। প্রতিটি ম্যাচের আগেই নার্ভাস লাগত। ভয়ংকর সময় ছিল তখন। খেলায় আমার পালা যখন আসত, অসহ্য লাগত। কারণ আমি নিশ্চিত ছিলাম যে ব্যর্থ হব।

কেউই জানত না আমার মানসিক অবস্থা, সবচেয়ে কাছের বন্ধুও নয়, এমনকি আমার সঙ্গিনীও নয়।’ নিজের ঘরেও কতটা দুঃসময় অবস্থায় থাকতে হয়েছে, তুলে ধরলেন পেইন। তিনি বলেন, ‘এমনও দিন গেছে, সে (তখনকার বান্ধবী ও এখন স্ত্রী বনি) কাজে গেছে, আমি সোফায় বসে আক্ষরিক অর্থেই কাঁদছি। চিৎকার করে নয়, তবে কান্না করেছি। খুবই বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাময় অভিজ্ঞতা সেটি, ব্যাখা করা কঠিন। কেবলই মনে হচ্ছিল, অনেক মানুষকে হতাশ করে চলেছি আমি।’

তিনি বলেন, ‘সেটিই প্রথমবার, কাউকে নিজের অবস্থার কথা বলেছি। মিনিট বিশেক কথা হয়েছিল তার সঙ্গে। মনে পড়ে, তার কক্ষ থেকে বের হওয়া মাত্র ভালো বোধ করতে শুরু করলাম। মনে হল, আরও আগে তার কাছে যাওয়া উচিত ছিল আমার। এটির সঙ্গে লড়াইয়ের প্রথম পদক্ষেপই হল সমস্যা মেনে নেয়া ও এটা জানানো যে সাহায্য লাগবে।’ সেই পেইন সাত বছর পর ২০১৭-১৮ অ্যাশেজে নাটকীয়ভাবে ডাক পান অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে। পরিস্থিতির কারণে পেয়ে যান নেতৃত্ব। হয়ে ওঠেন বিপর্যয়ের সময় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে ত্রাতা।